যেকোনো সময় যুবদলের দুই মহানগর কমিটি ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, মে ১৭, ২০২৬ ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, মে ১৭, ২০২৬ ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

আলোচনায় রাজপথের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্নরা
জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি :সংগৃহীত
বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার ৩৩ মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা যায়নি। তাই বর্তমান আহ্বায়ক কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করার পাশাপাশি নতুন করে কমিটি গঠনের গুঞ্জন চলছে। তবে বর্তমান কমিটি পূর্ণাঙ্গ হোক আর নতুন কমিটি হোক, তাতে রাজপথের পরীক্ষিত, ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের নেতা-কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নেতা-কর্মীরা। এর আগে ২০২৩ সালের ৯ আগস্ট এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঢাকা মহানগর উত্তর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলে খন্দকার এনামুল হককে আহ্বায়ক ও রবিউল ইসলাম নয়নকে সদস্যসচিব করা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তরের নতুন কমিটিতে শরীফ উদ্দিন জুয়েলকে আহ্বায়ক ও সাজ্জাদুল মিরাজকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিবেশে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য যেকোনো সময় যুবদল ঢাকা মহানগরের উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী জানান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের কমিটি গঠনে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল গাফফার, সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জিন্নাহ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফয়সাল আহমেদ সজল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মুন্না, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিফুর রহমান বিপ্লব, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহসভাপতি ওমর ফারুক কাওসার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য ইমরান খান ইমন, ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শেখ খালিদ হাসান জ্যাকিসহ বেশ কয়েকজন রাজপথের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা আলোচনায় রয়েছেন। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি গঠনে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান রাজ, বর্তমান কমিটির সদস্যসচিব সাজ্জাদুল মিরাজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম স্বপন, তাসলিম আহসান মাসুম, আবুল হাসান টিটু, যুগ্ম আহ্বায়ক ও মিরপুর জোনের টিমপ্রধান শিমুল আহমেদ, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আইয়ুব আলী, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল হক হিমেল, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাফায়াতে রাব্বি আরাফাত, মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান রুয়েলের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে চূড়ান্ত আলোচনায় মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওমর ফারুক মুন্না ও মো. জিন্নাহর নাম শোনা যাচ্ছে। তাঁদের মধ্যে ওমর ফারুক মুন্না জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রমে ছাত্রদল-যুবদল নেতা-কর্মী ও তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিতি পান। অন্যদিকে মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মিজানুর রহমান রাজ ও শিমুল আহমেদের নাম শোনা যাচ্ছে। তাঁরা উভয়ই ঢাকা মহানগর উত্তরের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ ও সুনাম অর্জন করেছেন। তবে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখা পরিচ্ছন্ন ও ক্লিন ইমেজের পরীক্ষিত নেতাদের সমন্বয়ে যেকোনো সময় গঠিত হতে পারে যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি। দীর্ঘদিন রাজপথে সংগ্রামে ভূমিকা রাখতে গিয়ে হামলা-মামলার শিকার ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নেতাদের মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন নেতা-কর্মীরা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে যুবদল সভাপতি মোনায়েম মুন্না বলেন, ‘শুধু ঢাকা মহানগর নয়, বরং সব জেলা-মহানগর কমিটি নিয়ে আমরা ভাবছি। আগে ফ্যাসিবাদের সময় একরকম পরিবেশ ছিল, এখন আমাদের দল ক্ষমতায়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মেয়াদোত্তীর্ণ সব কমিটি নিয়ে পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। সেই আঙ্গিকেই কাজ চলছে।’
ঢাকার দুই মহানগরে বিএনপিতে আসছে বড় রদবদল, নেতৃত্বের দৌড়ে কারা এগিয়ে?
সরকার গঠনের পর এবার দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে জোর দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। ইতিমধ্যে জেলা কমিটিগুলো পুনর্গঠনের জন্য নেতাদের দায়িত্বও দেয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ঢেলে সাজানো হচ্ছে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিট ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি। এবার কমিটিতে দলের ত্যাগী, যোগ্য, আন্দোলন এবং সংগ্রামে ভূমিকা রাখা ও তরুণ নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। শিগগিরই এই ইউনিটে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।
বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিদ্ধান্ত দেয়া মাত্রই কমিটি ঘোষণা করা হবে। ওদিকে শনিবার বিএনপি এবং তিন সংগঠনের মতবিনিময় সভায় শিগগিরই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের দিকে অগ্রসর হওয়ার কথা জানিয়েছেন তারেক রহমান। বছরে তিনবার বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয় সভায়।
বিএনপি’র কয়েকজন সিনিয়র নেতা মানবজমিনকে জানিয়েছেন, জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতির উপরে জোর দিয়েছে বিএনপি। চলতি বছরের শেষ দিকে সুবিধাজনক সময়ে কাউন্সিল হতে পারে। এর আগে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, মহানগর ও জেলা পর্যায়ের কমিটিগুলো পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। কারণ সরকার এবং সংগঠনকে আলাদা উদ্যোগ গ্রহণ করছে দলটি। এজন্য দলের ৮২ সাংগঠনিক ইউনিট কমিটি এবং অঙ্গসংগঠনকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। কমিটিতে যেমন ত্যাগী এবং যোগ্য নেতাদের প্রাধান্য দেয়া হবে তেমনি অভিজ্ঞদেরও মূল্যায়ন করা হবে। দলের স্বার্থে যে কাউকে দায়িত্ব দেয়া হতে পারে।
২০২৪ সালের ৭ই জুলাই ঢাকা মহানগর উত্তরে সাইফুল আলম নিরবকে আহ্বায়ক এবং আমিনুল হককে সদস্য সচিব, দক্ষিণে রফিকুল আলম মজনুকে আহ্বায়ক এবং তানভীর আহমেদ রবিনকে সদস্য সচিব করে কমিটি দেয়া হয়। পরে উত্তরে সাইফুল আলম নিরবকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে ওই বছরের ৪ঠা নভেম্বর আমিনুল হককে আহ্বায়ক এবং মোস্তফা জামানকে সদস্য সচিব করে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। এর মধ্যে উত্তরে ২৬টি থানা এবং ৭১টি ওয়ার্ড কমিটি নির্বাচনের মধ্যদিয়ে গঠন করা হয়েছে বলে মানবজমিনকে জানিয়েছেন মহানগর উত্তর বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক। ওদিকে দক্ষিণে ২৪টি থানার মধ্যে ২২টি কমিটি দেয়া হয়েছে এবং ৮০টি ওয়ার্ডে কমিটি আছে বলে মানবজমিনকে জানিয়েছেন দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান মিন্টু।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি’র বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা হয়েছে মানবজমিনের। তারা জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি’র দুই শীর্ষ পদে কে আসছেন, তা নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে। ইতিমধ্যে পদ পেতে নেতারা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। লবিং-তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। তৎপরতা দেখা যাচ্ছে দলের নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীদেরও। তবে তৃণমূলের নেতাকর্মী চাচ্ছেনÑ যারা ত্যাগী এবং দলের জন্য নিবেদিত, তাদের যেন মূল্যায়ন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মানবজমিনকে বলেন, সারা দেশেই সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। জেলাগুলোতে নেতাদের দায়িত্বও দেয়া হয়েছে। আর বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেদিন বলবেন, সেদিন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি’র কমিটি দেয়া হবে।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র আহ্বায়ক আমিনুল হক বর্তমানে টেকনোক্রেট কোটায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। উত্তরের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আবারো আমিনুল হককেই সভাপতি পদে দেখতে চান। উত্তরে শীর্ষ দুই পদে আরও যারা আলোচনায় আছেন, তারা হলেনÑ মহানগর বিএনপি’র নেতা এসএম জাহাঙ্গীর, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান, এবিএম আব্দুর রাজ্জাক, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল করিম জাফর।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র রফিকুল আলম মজনু দলের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি এখন সংসদ সদস্য। নিজ সংসদীয় এলাকায় বিভিন্ন কাজে এখন তাকে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। তিনিও শীর্ষ পদপ্রত্যাশী।
এ ছাড়া দক্ষিণে শীর্ষ দুই পদে আরও যারা আলোচনা আছেন তারা হলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, বর্তমান সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, বর্তমান সহ-সভাপতি লিটন মাহমুদ, ঢাকা-৫ আসনে ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থী নবীউল্লাহ নবী, দক্ষিণ বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক আ ন ম সাইফুল ইসলাম।
সূত্র: মানবজমিন
জনতার আওয়াজ/আ আ