সিলেট-৬ আসনে প্রার্থী বিড়ম্বনায় বিএনপির নেতাকর্মীরা - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:১৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সিলেট-৬ আসনে প্রার্থী বিড়ম্বনায় বিএনপির নেতাকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫ ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫ ২:১৮ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) নিয়ে গঠিত এ আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন এখন সরগরম। ভোটের ঢামাডোল শুরুর আগেই ইউনিয়ন, গ্রাম থেকে পাড়া-মহল্লা—সব জায়গায় বইছে নির্বাচনী হাওয়া। প্রবাসী অধ্যুষিত গ্যাস সম্পদে সমৃদ্ধ ২৩৪ সংসদীয় আসনে প্রার্থীতার দৌড়ঝাঁপে নির্বাচনী মাঠ দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন বিএনপির নেতারা। বড় বড় শোডাউন মিছিল মিটিংয়ে নিজেদের কর্মী বলয়ের বার্তা পৌছাচ্ছেন জনসম্মূখে।

কে পাবেন বিএনপির দলীয় মনোনয়ন? এ নিয়ে চলছে বেশ প্যাঁচালো মাতামাতি। চায়ের দোকান থেকে রাজনীতির অন্দরমহল সর্বত্রই এখন এই এক কানাঘুষা, গুঞ্জন। সিলেট-৬ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে চান অন্তত ১০ জন নেতা।

তাদের মধ্যে আছেন হেভিওয়েট প্রার্থীও আছেন। এবার দলটির জয়ের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা থাকায় শেষ পর্যন্ত সবাই মনোনয়নের জন্য জোর তৎপরতা চালাবেন। এবারের সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে একক প্রার্থী চূড়ান্তে তৎপর বিএনপি। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে দলটি।

তবে আসন্ন নির্বাচনে তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। প্রার্থী মনোনয়নে তাদের মনোভাবের কথা আমলে নিবে। সেজন্য নির্বাচনী প্রচারণার মাঠে কেউ কাউকে ছাড় দিতে চাচ্ছেন না। শেষ পর্যন্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আসনটিতে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়ায় প্রার্থীদের নিয়ে ভোটারদের কাছে যেতে বেশ বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের। স্থানীয় পর্যায়ে দলের প্রার্থী কে– পরিষ্কার ধারনা না থাকায় নেতাকর্মীরা দ্বিধায় পড়েছেন। আজ একজন তো কাল অন্যজন, এক দলের কতজনকে এক ভোটারের কাছে পরিচয় করিয়ে দিবেন। অনেক সময় নিজেদের কাছেও প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয়, মূলত ধানের শীষের প্রার্থীকে?

দলের হাইকমান্ড প্রার্থী চূড়ান্ত না করার ফলে এমন বিড়ম্বনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূলে দলীয় অবস্থান না থাকা নেতা ও প্রবাসী নেতাদের সম্মান জানিয়ে একটি পক্ষ নিতে গিয়ে প্রার্থী বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। দুই উপজেলার স্থানীয় বিএনপির একটি অংশের সমর্থিত একেক জন প্রার্থী একেক দিন ভোটের মাঠে গণসংযোগ করেন তাদের সাথে প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করতে দেখা যায় এক মানুষ ভিন্ন ভিন্ন প্রার্থীর প্রচারণায়। লাগাতার এসব প্রোগ্রামের ফলে বিএনপি তৃণমুল উজ্জীবিত করে রেখেছেন বটে। নিজেদের সমর্থিত মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের পক্ষে তাঁরা এলাকায় সরব আছেন। পোস্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ড সাঁটিয়ে তাঁরা প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণাও চালাচ্ছেন। এছাড়া প্রার্থীরা রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় নানা আয়োজনে অংশ নিয়ে নিজেদের গণসংযোগ করছেন।

ক্ষমতার দাপটে একতরফা ‘রাজনীতির মাঠ’ দখল করা আওয়ামীলীগ ৫ আগষ্ট পরবর্তীতে তাঁরা এখন লাপাত্তা। দলীয় কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত। ফলে যেখানে বিএনপি নির্ভার থাকার কথা সেখানে প্রার্থী আধিক্যতায় বহুধাবিভক্ত নেতাকর্মীরা।

তবে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ ঐক্যবদ্ধ আছেন তারা তাদের নিজেদের একক প্রার্থী নিয়ে গণসংযোগ প্রচারণা করছেন। তাদেরকে অন্য কোনো প্রার্থীর জন্য প্রচারণা করতে দেখা যায় না।

দলকে সুসংগঠিত রাখতে সবসময় তৃণমূলকে আগলে রাখতে অনেক নেতা সম্পর্ক রেখেছেন কর্মীদের সাথে দূর্দিনে। তারা মিশেছেন কর্মীদের অন্তরে ভালোবাসায়। এসব নেতারা তাদের সমর্থিত নেতা-কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠ বিচরণ করছেন।

তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতায় আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম। গত স্বৈরাচারী আমলে বিএনপির নেতাকর্মীদের পুলিশি হেনস্তার সম্মূখে কর্মীদের আগলে রেখে পুলিশের সামনে দাড়িঁয়ে চোখে চোখ রেখে কথা বলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বেশ প্রসংশায় ভাসেন তিনি।

এ ছাড়া সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীকে নিয়েও আলোচনা কম হচ্ছে না। তৃণমূল পর্যায়েও নেতাকর্মীদের কাছে রয়েছে তার গ্রহণযোগ্যতা। এলাকায় তিনি নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফয়সল চৌধুরী রাতের ভোট খ্যাত ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে তিনি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বিরুদ্ধে এক লাখের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। নির্বাচনে বিজয়ী হতে না পারলেও তিনি বেশ চমক দেখিয়েছিলেন। এবারও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় মাঠে ঘাম ঝরাচ্ছেন ফয়সল চৌধুরী।

এ আসনে যুক্তরাজ্য অভিমুখী হয়ে দেশে ফিরেছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরীর। জিয়া পরিবারের জন্য নিবেদিত ড. চৌধুরী বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের অন্যতম সদস্য। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অত্যন্ত আস্থাভাজন এই নেতার টিকিট পাওয়ার দৌড়ে আলোচনায় রয়েছেন।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, হেভিওয়েট অনেক প্রার্থীকে শেষ পর্যন্ত সংসদ নির্বাচনের টিকিট না দিয়ে অন্যভাবে তাদের মূল্যায়ন করা হতে পারে।

এ আসনে প্রচারণায় রয়েছেন যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মরহুম কমর উদ্দিনের মেয়ে সাবিনা খান পপি, সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়ার মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক উপদেষ্টা অহিদ আহমদ, জেলা বিএনপি’র সহশিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক তামিম ইয়াহইয়া হক ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন। দুই উপজেলায় প্রতিদিনই তারা গণসংযোগ শোডাউন দিচ্ছেন।

আগামী নির্বাচনে এ আসনে অশগ্রহণকারী অন্যান্য দল তাদের একক প্রার্থী নিয়ে ভোটারদের দুয়ারে পৌছে গেছে। সিলেট-৬ আসনে বিএনপির শক্তিশালী ভোট ব্যাংকে মরণ কাঁমড় দেবে জামায়াতে ইসলামী বিএনপি’র মূল প্রতিদ্বন্দ্বী এক সময়ের জোটসঙ্গী দল। ইতিমধ্যে আসনটিতে জামায়াত নতুন মুখ হিসেবে কেন্দ্রীয় ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে সেলিম উদ্দিন এলাকায় যাতায়াত বাড়িয়েছেন। আসনটিতে ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা রফিকুল ইসলাম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের হাফেজ মাওলানা মো. ফখরুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের মাওলানা সাদিকুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলনের আজমল হোসেন নিজ নিজ দলের প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী এড. জাহিদুর রহমান গণসংযোগ অব্যাহত রেখে নির্বাচনী মাঠ সাজাতে চাইছেন।

দলীয় প্রার্থী নিয়ে জানতে চাইলে বিয়ানীবাজার বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট আহমদ রেজা ও সাধারণ সম্পাদক ছরওয়ার হোসেন বলেন, আমাদের দলের নেতাকর্মীরা দ্রুত প্রার্থী ঘোষণা দেখতে চায়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ