সুষ্ঠু নির্বাচন : সরকারের দাবি-আশ্বাস হাস্যকর - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১১:২০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সুষ্ঠু নির্বাচন : সরকারের দাবি-আশ্বাস হাস্যকর

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ২০, ২০২৩ ১১:৫৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ২০, ২০২৩ ১১:৫৩ অপরাহ্ণ

 

আবুল কালাম মানিক

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে দাবি করেছেন যে, ‘একমাত্র আওয়ামী লীগই পারে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে। আওয়ামী লীগ আমলের সব নির্বাচনই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। সেটা আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে পারি।’ প্রধানমন্ত্রী দাবিটি এমন এক সময়ে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যখন আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও কূটনীতিকরা দলে দলে বাংলাদেশ সফর করছেন। বিদেশীদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক এবং প্রতিটি আলোচনায় সরকারের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গীকার এটাই প্রকাশ করছে যে, বাংলাদেশে নির্বাচনী অনিয়ম আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিষয়। কারচুপির নির্বাচনে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত শেখ হাসিনা সরকার মারাত্মক বৈধতার সঙ্কটে নিমজ্জিত। তাই তারা বিদেশীদের সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি মোতাবেক নির্বাচন ইস্যুতে বিদেশীদের সাথে আলোচনা প্রত্যাখ্যান না করে আওয়ামী লীগ কার্যত প্রহসনের জাতীয় নির্বাচনের অভিযোগগুলো মেনেই নিয়েছে। বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাতের আঁধারে পুলিশ, নির্বাচন কর্মকর্তা ও সরকারদলীয় ক্যাডারদের ব্যালট বাক্স ভরাটের বিশ্ব স্বীকৃত নির্বাচনী অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনার এমন দাবি কেবলমাত্র অযৌক্তিকই নয়, বস্তুত হাস্যকরও।

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের হাস্যকর দাবি সময়ের পরিক্রমায় অনেকটা বিস্মৃতির গহ্বরে হারিয়ে গেলেও সত্য এখনো বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। এই নির্বাচন নিয়ে জাপানি রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকির মন্তব্য হাসিনা সরকার আমলে না নিলেও গণতান্ত্রিক বিশ্বে তা বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। নাওকি বলেছিলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই আমরা আগামী দিনে তুলনামূলকভাবে ভালো নির্বাচন চাই। আশা করি, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। আমি ব্যালট বাক্স ভর্তি করার কথা শুনেছি। আগের রাতে (২০১৮ সালের নির্বাচনে) পুলিশের কর্মকর্তারা ব্যালট বাক্স ভর্তি করেছেন। আমি এই দৃষ্টান্ত অন্য কোনো দেশে শুনিনি।’

নির্বাচন নিয়ে বিদেশীদের সাথে সরকারের অব্যাহত আলোচনাই প্রমাণ করে যে, জাপানি রাষ্ট্রদূত সত্যি কথা বলেছিলেন। দলীয় সরকারের অধীন বাংলাদেশের নির্বাচনগুলো সর্বজনস্বীকৃত জঘন্য এক কারচুপির সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। তাছাড়া, ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, যেসব বিতর্কিত ও ধোঁকাবাজির নির্বাচনে গণতন্ত্রের পতন হয়ে বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের উত্থান হয়েছে তার সবকটিই অনুষ্ঠিত হয়েছে আওয়ামী লীগের আমলে। তবে দলটি কখনোই তা স্বীকার করেনি। বরঞ্চ আওয়ামী লীগ প্রধান হাসিনা অহরহ সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি পেশ করতে মোটেও কার্পণ্য করেন না। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ লন্ডনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে শুধু আওয়ামী লীগের আমলেই নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়। এছাড়া, ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কখনোই কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি। তার দল জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছে এবং সবসময় জনগণের ভোটেই ক্ষমতায় এসেছে।’ এমনকি গত ১৩ জুলাই সফররত মার্কিন সহকারী মন্ত্রী আজরা জেয়াকে নির্দ্বিধায় বলেছেন, ‘বিএনপিই ভোট কারচুপি চালু করেছিল।’ অথচ এটা সবাই জানে যে, বাংলাদেশে নির্বাচনী কারচুপির মচ্ছব শুরু হয়েছিল ১৯৭৩ সালে, বিএনপির জন্মের অনেক আগে। হাসিনা সরকার এখন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বকে এই আশ্বাস দিতে চাচ্ছে যে, সামনে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করবে আর ভোট কারচুপি করবে না। কিন্তু বিদেশীরা তা মোটেও বিশ্বাস করেছ না। তবে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের স্বার্থে বিদেশীরা সরকারকে বিরোধী দলের সাথে সংলাপ-সমঝোতার পরামর্শ দিচ্ছে। মার্কিন সহকারী মন্ত্রী এই বলে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ‘শক্তিশালী গণতন্ত্র এবং ভোটে সবার অংশগ্রহণের ওপরই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি নির্ভর করছে।’ আওয়ামী লীগ এই সতর্কবার্তা আদৌ আমলে নেবে কি না এটাই দেখার বিষয়।

দলীয় সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের ইতিহাস বলছে, নিশিরাতের ব্যালটে গঠিত সংসদে আওয়ামী লীগ প্রধানের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিটি মোটেও ধোপে টেকে না। নির্মম বাস্তবতা হলো যেসব নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণার জন্য মফস্বল থেকে হেলিকপ্টারে ব্যালট বাক্স ঢাকায় নিয়ে আসা হয়, ব্যালট গ্রহণ ছাড়াই সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের ফলাফল ঘোষণা করা যায়, শত শত ভোটকেন্দ্রে ১০০ শতাংশের বেশি ভোটার উপস্থিতি ও প্রধান বিরোধী দলের প্রার্থীর শূন্য ভোট রেকর্ড করা যায়, ভোটের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরাট করা হয়, একই সাথে সরকারি ও বিরোধী দলের আসনে আসীন হওয়া যায় এবং একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসনে বিরোধী দলের অস্তিত্ব ক্রমান্বয়ে বিলীন হয়ে যায় সেসব নির্বাচনকে ‘নিরপেক্ষ’ নির্বাচন হিসাবে মেনে নিতে যে কেউই আপত্তি জানাবেন, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই। এ কারণেই বিদেশী রাষ্ট্রগুলো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য অব্যাহতভাবে চাপ দিচ্ছে। হাসিনা সরকারের দাবি ও আশ্বাসকে তারা মোটেও গ্রাহ্য করছে না।

উপরের যৎসামান্য অনিয়মের ঘটনাগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ১৯৭৩, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা। এই তিনটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল আওয়ামী লীগের অধীনে। এসব নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কথিত বিজয় লাভ করে পুনরায় ক্ষমতাসীন হয়। তাছাড়া, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ বিজয় লাভ করে। তবে এ দু’টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। তাছাড়া, ওয়ান-ইলেভেন জরুরি সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও শেখ হাসিনা একবার সরকার গঠন করেছিল। শুধু আওয়ামী লীগের আমলে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় শেখ হাসিনার দাবিটি একবারেই অসত্য। তা না হলে ভিন্ন সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত যেসব নির্বাচনে দলটি জয়লাভ করেছিল তা বাতিলের জন্য তুমুল আন্দোলন গড়ে তুলত। সব নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ই আওয়ামী লীগের রাজনীতি। এ জন্যই শেখ হাসিনার সরকার নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করে দিয়েছে। কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচনে দলটির দুইবার পরাজয় ঘটেছিল।

শুধু আওয়ামী লীগের আমলেই নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় শেখ হাসিনার এমন দাবির সাথে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন চিত্রের কোনো মিলই খুঁজে পাওয়া যায় না। এটা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন হলেও তাতে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠে। মোট ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ একাই ২৯৩ আসনে বিজয়ী হয়। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দলীয় নেতা খন্দকার মোশতাক আহমদ জাসদ প্রার্থী আব্দুর রশিদ ইঞ্জিনিয়ারের নিকট পরাজিত হলে হেলিকপ্টারে ব্যালট বাক্স ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বেশ কয়েকজন বিজয়ী বিরোধীদলীয় প্রার্থীকে এমন ভাগ্যবরণ করতে হয়েছিল। এ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী পাস করে দেশের সব বিরোধী দল নিষিদ্ধ করে দেয় এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে।

আওয়ামী লীগের অধীন ‘নিরপেক্ষ’ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৫ জানুয়ারি ২০১৪। উক্ত নির্বাচনে তদানীন্তন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সিলেট-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন। ভোটের ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘এটা কোনো নির্বাচনই হয়নি। এক বছরের মধ্যেই আরেকটি নির্বাচন হবে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সা¤প্রতিক দাবি তারই প্রয়াত অর্থমন্ত্রীর মন্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। তাছাড়া, এটা ছিল কার্যত একপক্ষীয় নির্বাচন। প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল নির্বাচনটি বর্জন করেছিল কারচুপির আশঙ্কায়। এ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকারকে ভোট প্রদান করতে হয়নি। কারণ তাদের এলাকায় ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হয়ে যায় নতুন সংসদ সদস্য। মোট ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থীরা। একমাত্র প্রতিবেশী ভারত ছাড়া সব গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রই ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচনের ব্যাপারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানায়। প্রহসনের এই নির্বাচনে রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে মার্কিন সিনেট এক সর্বসম্মত প্রস্তাব গ্রহণ করে। প্রস্তাবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ‘সরাসরি ও অর্থবহ’ সংলাপে বসতে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের আহŸান জানানো হয়।

আওয়ামী লীগ চোখ বন্ধ করে রাখলেও বিশ্বের সেরা সংবাদ মাধ্যমগুলোর এই নির্বাচনের তীব্র সমালোচনা করে। ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকা এটাকে বলে ‘পোকায় খাওয়া’ নির্বাচন। অন্যদিকে স্বনামধন্য দ্য স্টেটসম্যান এটাকে বলে একদলীয় ধোঁকাবাজির নির্বাচন। পত্রিকাটি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলে, পূর্বনির্ধারিত ফলাফলের নির্বাচন দেশে ও বিদেশে হাসিনা সরকারের বৈধতার ঘাটতি ঘটাবেই। বিখ্যাত ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অভিহিত করেছিল ‘কলঙ্কিত’ নির্বাচন হিসাবে। আসলে বৈধতার ঘাটতি না থাকলে হাসিনা সরকারের নির্বাচন ইস্যুতে বর্তমানে বিদেশীদের সাথে দেন-দরবারের কোনো প্রয়োজনই হতো না। আর বিদেশীরাইবা কোন মুখে বাংলাদেশের এই অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে কথা বলার সাহস করত।

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীন ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রীর দাবি মোতাবেক নির্বাচনটি মোটেও ‘নিরপেক্ষতার’ সাক্ষ্য বহন করে না। নির্বাচনে উচ্চমাত্রার সহিংসতা এবং বিরোধী দলের প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর সরকারি দল ও পুলিশের অব্যাহত হামলা সারা বিশ্বকে অবাক করে দেয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদা অনেকটা বাধ্য হয়েই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর হামলা এবং বিভিন্ন জেলায় প্রাণহানিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ২৭ ডিসেম্বর মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার নূরুল হুদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ব্যাপক নির্বাচনী সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নির্বাচনের প্রাক্কালে ব্যাপক সহিংসতা রাজনীতির দৃশ্যপট থেকে বিরোধী দলকে বিলীন করে দেয়। একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা বিশ্ব উপর্যুপরি অনুরোধ জানাতে থাকে।

সুশীল সমাজ সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫০টি আসনে কারচুপির অভিযোগের ওপর এক জরিপ পরিচালনা করে। সংস্থাটি ৪৭টি আসনে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পায়। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত অনিয়মগুলো হলো: ভোটের আগের রাতে ব্যালট পেপারে সিল মারা, ভোটের দিন কেন্দ্র দখল করে ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপার ভর্তি করা, আইন প্রয়োগকারী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নীরবতা পালন, জাল ভোট প্রদান, ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা সৃষ্টি, নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে চাপ প্রয়োগ ও পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দান।

শুধু আওয়ামী লীগের আমলেই নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এমন দাবি যেই করুক না কেন তা মোটেও ধোপে টেকে না। আওয়ামী লীগ শাসনামলে অনুষ্ঠিত উল্লিখিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে সংঘটিত নজিরবিহীন ভোট কারচুপি, অতিমাত্রার সহিংসতা ও ব্যাপক প্রাণহানিসহ ভোটের একতরফা ফলাফলে সরকারি দলের অবিশ্বাস্য বিজয় এবং প্রধান বিরোধী দলের অবাস্তব-অকল্পনীয় পরাজয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অপমৃত্যু ঘটিয়েছে। দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর একমাত্র ভারত ও চীন ছাড়া গণতান্ত্রিক বিশ্বের কোনো গুরুত্বপূর্ণ দেশই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার বিজয়কে স্বাগত জানায়নি। এমতাবস্থায় শেখ হাসিনার অধীন আরেকটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস পাগল ও দলকানা ছাড়া কেউই বিশ্বাস করবে না।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ