৭ জানুয়ারি সরকারকে লাল কার্ড দেখাবে জনগণ : গণতন্ত্র মঞ্চ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, ডিসেম্বর ৩০, ২০২৩ ৫:০৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, ডিসেম্বর ৩০, ২০২৩ ৫:০৪ অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক
আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটের দিন জনগণ সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) লাল কার্ড দেখাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ। শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সমাবেশে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এই হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি বলেন, ‘৭ জানুয়ারি তো নির্বাচনই না, মানুষ কি ৭ তারিখ ভোট দিতে যাবে? আপনারা যেমন সমস্বরে বলছেন না, একইভাবে গ্রামের একটা চায়ের দোকানে জিজ্ঞাসা করেন সেখানেও বলে কৈ ভোট? আমরা তো কোনো ভোট দেখি না। বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষ এই সরকারকে, সরকারি দল আওয়ামী লীগকে ইতোমধ্যে লাল কার্ড দেখিয়ে দিয়েছে। এরপরে বিদেশী লাল কার্ড দেখবে, তখন লাল সুতা বেরিয়ে যাবে, ক্ষমতায় থাকার স্বাদ থাকবে না আপনাদের। মনে করছেন ক্ষমতায় কত আরাম, কত ভোগ করবার জিনিস, তখন সমস্ত কিছু আপনাদের কাছে টক লাগবে, তিতা লাগবে। মনে করবেন ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি। আজকে ব্যাংকগুলোতে এলসি খোলা যায় না, বাজারে ডলার নাই, টাকা নাই। তার মধ্যে সরকার নিজেরাই প্রচার করে বেড়াচ্ছে এই তথাকথিত নির্বাচনের সাথে সাথে একটার পর একটা স্যাংশন আসতে থাকবে।’
সরকার দেশের কথা ভাবে না, দেশের মানুষের প্রতি কোনো দরদ নাই। এদেশ আমাদের। আমরা লড়াই করে দেশ এনেছি। তাই বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষকে আমি বলি, ভোটের দিন ভোট দিতে যাবেন না। মনে আত্মবিশ্বাস রাখেন। অনেক গুলো দিন লাগবে না এই সরকারকে চলে যেতে হবে।’
তিনি বলেন, এই সরকার যে সিংহাসনে বসতে চাইছে এখন সারা দুনিয়ার মানুষ, সারা বাংলার মানুষ কাটা বসিয়ে দিয়েছে যাতে তারা বসতে না পারে। ওরা যদি বসেও এমন ভাবে কাটা বিধবে একটা গান আছে না এবার যদি বিধে যায়, কোনো উপায়ও থাকবে না। আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনের মাধ্যমে এই দেশের রাজনীতি থেকে নির্বাসিত হবে।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, এই সরকার নির্বাচন নির্বাচন খেলা করতে গিয়ে মানুষের ভোটের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। দেশের জনগণ ইতোমধ্যে এই তামাশার নির্বাচনকে প্রত্যাখান করেছে, বর্জন করেছে। আজকে গণতন্ত্র মঞ্চ লাল কার্ড দেখিয়ে নির্বাচন কমিশনকে বলতে চাই, যে খেলা শুরু করেছেন এই খেলা অনতিবিলম্বে বন্ধ করুন। না হলে এই সরকারের পাশাপাশি আপনাদেরকেও (নির্বাচন কমিশন) একদিন ট্রাইব্যুনাল গঠন করে আজকে মানুষের অধিকারের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার জন্য, মানুষের ভোটের অধিকার হরণের জন্য বিচারের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনটা চলবে, এই আন্দোলন আগামী ৭ তারিখ পর্যন্ত। এই সরকার যে সমস্ত কথা-বার্তা বলছে, মানুষ ভয় পেলে যেভাবে চিৎকার করে কথা-বার্তা বলে আজকে তারা ভয় পাওয়া মানুষের মতো চিৎকার করে শেষ রক্ষা করার চেষ্টা করছে। কোনো চিৎকারই এই সরকারকে রক্ষা করতে পারবে না। মানুষ এবার জেগে উঠেছে। এই সরকারকে বিদায় দিয়ে আগামী ৭ তারিখের নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে প্রত্যাখানের মধ্য দিয়ে আমরা দেশকে রক্ষা করব, জনগনকে রক্ষা করব। বিজয় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকবো।’
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘২০১৮ সালে ভোটের আগের রাত্রে ভোট ডাকাতি করে তারা আজকে ক্ষমতায় আছে। ওরা নাকি জনগনের ভোটের সরকার, ওরা নাকি গণতান্ত্রিক সরকার, বাকিদের নাকি রাজনীতি করার অধিকার নাই। বাংলাদেশের মানুষ ’১৪ সালের বিনা ভোটের নির্বাচন, ’১৮ সালের ভোট ডাকাতির নির্বাচন আর ৭ তারিখে যে ডামি নির্বাচনের আয়োজন করেছে তার জন্য এই আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দলটিকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। রাজনীতির বিচার, মানুষের আদালতে বিচার ভয়াবহ জিনিস। মানুষের আদালতে যে সমস্ত রাজনৈতিক দল মুখোমুখি হয়েছে তারা রাজনৈতিক দল হিসেবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এই দেশের ইতিহাসে বহু দলের নাম করা যাবে।’
গণতন্ত্র মঞ্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ২০১৮ সালের ‘ভোট ডাকাতির’ পঞ্চম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই সমাবেশ ও গণমিছিলের কর্মসূচি করে। ভাসানী অনুসারি পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান রিজুর সঞ্চালনায় এতে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম, জেএসডির তানিয়া রব, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, গণফোরাম-বাংলাদেশ পিপলস পার্টি, এলডিপি, লেবার পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ প্রভৃতি দল ৭ জানুয়ারির ভোট বর্জনে জনসাধারণের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেছে।
জনতার আওয়াজ/আ আ