অনলাইনে সরবরাহকৃত খাদ্যের নিরাপত্তায় বিধিমালা প্রণয়ন ও খসড়া প্রস্তুত - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৬:১৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

অনলাইনে সরবরাহকৃত খাদ্যের নিরাপত্তায় বিধিমালা প্রণয়ন ও খসড়া প্রস্তুত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৪ ২:৫৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৪ ২:৫৮ অপরাহ্ণ

 

মো.মঞ্জুর হোসেন ঈসা,বিশেষ প্রতিনিধি

আজ ১লা ফেব্রুয়ারি ২০২৪ইং রোজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১ ঘটিকায় বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন এর উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে “অনলাইনে সরবরাহকৃত খাদ্যের নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার চাই” একটি নাগরিক সমাবেশ, র‌্যালী ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মোস্তাক হাসান মো. ইফতেখার নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান বলেন, অনলাইনে খাদ্যের সরবরাহের নীতিমালা বিভিন্ন দেশে থাকলেও বাংলাদেশে ছিল না। ইতিমধ্যে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ একটি বিধিমালা ও খসড়া প্রণয়ন করেছে। যা নিয়ে পক্ষগণের সাথে মতামতের ভিত্তিতে এটি আইন আকারে প্রকাশ করা হবে। দেশের জনগণের ৯৯ শতাংশই জানে না তার খাদ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা কিভাবে নিশ্চিত করা যাবে। সরকার ও কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হতে হবে তার খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। তিনি আরো বলেন, প্রান্তিক চাষী থেকে শুরু করে ভোক্তার খাবার টেবিল পর্যন্ত খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি অনলাইনে যারা ব্যবসা করছেন তাদেরকে মানসম্পন্ন খাদ্য সরবরাহের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
বাসদের সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, একদিকে খাবার সংকট অন্যদিকে খাদ্যের উচ্চমূল্য আর সেই খাদ্যে বিষক্রিয়ায় আমরা জর্জরিত। হাসপাতালগুলিতে গেলে দেখা যায় হাজার হাজার মানুষ অসুস্থ্য হয়ে কি পরিমান কষ্টে আছে। খাদ্যের বিষের সাথে সাথে অনলাইনে বিলাসী খাবারের নামে আমরা যে খাবার খাচ্ছি সেই খাবার যে বিষমুক্ত নয় তার নিশ্চয়তা কি। তিনি এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে বলেন এই ধরনের কার্যক্রমের সাথে তার দল এবং তিনি যুক্ত থাকবেন।
আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের ফেলো অধ্যাপক ড. একেএম রিয়াজুল হাসান, পোল্ট্রি এসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার, গর্জো সভাপতি লিটু, জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, মানবাধিকার সংগঠক মো. মনিরুল ইসলাম মনির,স্বপন হাওলাদার, সংগঠনের প্রচার সম্পাদক শেখ ফরিদ প্রমুখ।
সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে দেশে উচ্চ মূল্যের খাদ্য সামগ্রী কিনতে নাগরিকদের নাভিশ^াস। এর মধ্যে এই খাবারে ভেজাল মিশ্রণ, ফরমালিন এবং কেমিকেল মিশ্রনের ফলে খাদ্য বিষক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। যে টাকার খাবার কিনতে হয় তার সমপরিমান টাকার ঔষধ কিনতে হচ্ছে। ঘরে ঘরে আজ অসুস্থ মানুষ। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য খাদ্যের নিরাপত্তা অপরিহার্য। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপদ খাদ্য আইন কার্যকর করতে হবে। দায়ীদের ব্যাপারে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এর মধ্যে অনলাইনে খাদ্যদ্রব্যে কি ধরনের খাবার সরবরাহ করছে তার কোন নজরদারিও নেই, নীতিমালাও নেই। ডিজিটাল যুগে ঘরে বসে খাদ্যের সাথে মানুষ বিষ খাচ্ছে। আমরা লক্ষ্য করেছি অনলাইনে খাবার সরবরাহ অর্ডার হয়ে থাকে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার। এরমধ্যে বহুজাতিক একটি কোম্পানি একাই বছরে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার খাবার সরবরাহ করে থাকে। দেশের জনগণের আয় ও প্রযুক্তি বৃদ্ধির সাথে সাথে অনলাইনে খাবার অর্ডার দিন দিন বৃদ্ধি পেতেই থাকবে। ২০২৬ সালে এই বাজার দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার। কিন্তু অনলাইনে খাদ্যের নিরাপত্তা নিয়ে এবং সার্ভিস চার্জ, ওজনে কম দেয়া, সময় মত খাবার সরবরাহ না করা, অফারের দেখানো দামের চাইতে অতিরিক্ত দাম নেয়া সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া নষ্ট খাবার ফেরত না নেওয়া। অ্যাপ এ অর্ডার নেয়ার সময় খাবারের দাম ও ডেলিভারি ফি এর সাথে অতিরিক্ত প্ল্যাটফর্ম ফ্রী হিসেবে তিন টাকা আদায় সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। গ্রাহকদের কাছে কৌশলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে অনলাইনে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলি। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খাদ্যে ভেজাল ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মিশ্রণের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে পর্যন্ত বিধান থাকলেও অনলাইনে খাবার সরবরাহ কিভাবে ও কি প্রক্রিয়ায় হচ্ছে তা দেখভাল করার জন্য কোন নিয়ম নীতি বা কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও নেই। আর এই সুযোগে অনলাইনে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম, অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ, এবং ওজনে কম দেয়া এবং মানহীন খাবার সরবরাহ করে আসছে। এতে করে অনলাইনে গ্রাহকদের অতিরিক্ত অর্থের সাথে সাথে স্বাস্থ্যহানি এবং জীবন মৃত্যুর মুখোমুখি হচ্ছে। গতবছর গুলশান ২ এ পান্ডা হাউসের স্টোরে ডেলিভারি আউটলেটে অভিযান করে ভ্রাম্যমান আদালত ৪ লাখ টাকা জরিমানা করে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল খেজুরের উপর তেলাপোকা চলাফেরা করা, চকলেট ডিম মাছের মেয়াদ না থাকা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। অতিরিক্ত দাম নেবার কারণে ভোক্তা অধিদপ্তর ইতিমধ্যে জরিমানা করেছিল ফুড পান্ডাকে। তাছাড়া গত ১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন প্রায় ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে এই প্রতিষ্ঠানকে অসম বাজার প্রতিযোগিতার কারণে। অন্যদিকে দশ শতাংশ সম্পর্ক শুল্ক সরকারকে না দেবার অভিযোগও তুলেছে আয়কর বিভাগ।

আমাদের দাবি: ১) অনলাইনে সরবরাহকৃত পণ্যের মান ও খাবারের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে ২) সার্ভিস চার্জ কমিয়ে কোনরকম প্ল্যাটফর্ম ফি আদায় করা যাবে না ৩) অনলাইনে সরবরাহকৃত খাবার নীতিমালা তৈরি করতে হবে ৪) খাদ্য উৎপাদনে ও খাদ্যের গুনগত মান এর নিশ্চয়তায় প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে ৫) প্রান্তিক চাষীদের কাছ থেকে সরাসরি ভোক্তার খাবার টেবিল পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্ন অনলাইন সেবা প্রদানের সকল কৌশল অবলম্বন করতে হবে ৬) ভেজাল এবং ফরমালিনযুক্ত খাবার সবরকারীদের চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে ৭) স্টিট ফুডের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে ৮) ফুটপাত থেকে শুরু করে পাঁচ তারকা হোটেল মোটেল পর্যন্ত রান্নাঘর থেকে শুরু করে ভোক্তার খাবার প্লেট পর্যন্ত খাদ্যের নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ