অনির্বাচিত সরকারের দুঃসহ দুঃশাসন মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে : তারেক রহমান - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:৩৭, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

অনির্বাচিত সরকারের দুঃসহ দুঃশাসন মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে : তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০২২ ৭:৫০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০২২ ৭:৫২ অপরাহ্ণ

 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান কর্তৃক
জাতির উদ্দেশ্যে “রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রূপরেখা” উপস্থাপন উপলক্ষ্যে প্রদত্ত ভাষণ—
তারিখঃ ১৯ ডিসেম্বর, ২০২২
প্রিয় দেশবাসী,
আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, আসসালামু আলাইকুম।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে প্রিয় দেশবাসীর উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলতে চাই। বাংলাদেশ সাম্প্রতি চরম রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পর্যুদস্ত। চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি, জ্বালানি, গ্যাস, পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন ও বিদ্যুতের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। পরিবহণ ব্যয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একদিকে নজিরবিহীন মূল্যস্ফীতি অন্যদিকে অনির্বাচিত সরকারের দুঃসহ দুঃশাসন মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে।
অর্থনীতির মূল খাতগুলো ক্ষমতাসীনদের যোগসাজশে একদিকে সীমাহীন দুর্নীতি, অন্যদিকে চরম অব্যবস্থাপনার ফলে মারাত্মকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অমার্জনীয় ব্যর্থতা, বেসরকারি ও সরকারি ব্যাংকগুলোর সীমাহীন লুটপাট ও ভয়ংকর ঋণ কেলেংকারি আর্থিক খাতকে ভংগুর করে ফেলেছে।
বিদ্যুৎ খাতে সরকারের নিজস্ব লোকদের অন্যায় আর্থিক সুবিধাদানের উদ্দেশ্যে অপ্রয়োজনীয় বিনিয়োগ, দায়মুক্তি আইন, নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনে উদ্যোগ গ্রহণ না করে জ্বালানি খাতকে পুরোপুরি আমদানি নির্ভর করে আরও সংকটাপন্ন করে ফেলা, অনুৎপাদক খাতে মেগা বিনিয়োগ, পুঁঁজিবাজারে লুটপাট সমগ্র অর্থনীতিকেই চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্যমূলক স্বার্থান্বেষী নীতি ও নজিরবিহীন দুর্নীতি একদিকে অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করেছে, অন্যদিকে তথাকথিত উন্নয়নের ফাঁকা বুলি আউড়িয়ে তারা জনগণকে প্রতারিত ও বিভ্রান্ত করে চলেছে। বর্তমান ভোটারবিহীন অনির্বাচিত সরকারের অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী দুর্ভিক্ষের আশংকার কথা বলে প্রকারান্তরে তাদের সরকারের দুর্নীতি ও অযোগ্যতাকেই স্বীকার করে নিয়েছে।
দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি, ছিনতাই, সড়ক পথে চরম অনিরাপত্তা এবং সড়ক দুর্ঘটনায় শত শত মানুষের প্রাণহানি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের ফলে চরম নৈরাজ্য এবং বিচারব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে দলীয় সংগঠনে পরিণত করবার অপপ্রয়াস বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে হরণ করছে।
এই অনির্বাচিত সরকার সচেতনভাবেই একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এক কর্তৃত্ববাদী, একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। নির্বাচনব্যবস্থা সম্পূর্ণ দলীয়করণ করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করার ফলে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য হয়নি।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ ও সুশীল সমাজের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ,
গণমাধ্যমকে ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টসহ বিভিন্ন নিবর্তনমূলক আইনের জালে জড়িয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে হরণ করা হয়েছে।
গুম, খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, হামলা, গায়েবী মামলা সারাদেশে মানুষের মাঝে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে। ফিয়ার-ফোবিয়া সুশীল সমাজসহ সাধারণ মানুষের কথা বলার অধিকার রোধ করে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। দুভার্গ্যজনকভাবে, সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার উদগ্র বাসনা, র‌্যাব ও অন্যান্য আইন-শৃংখলা বাহিনীকে বেআইনীভাবে ব্যবহার করে বিরোধী দলগুলোকে নির্মূল করছে। বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্যমূলক মানবতাবিরোধী নীতির কারণে র‌্যাব পুরো entity হিসেবে এবং এর বাইরের কিছু কর্মকর্তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় পড়তে হয়েছে, যা জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাকর। সিভিল প্রশাসনকেও পুরোপুরি দলীয়করণে বাধ্য করা হয়েছে। বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের সাংবিধানিক অধিকারগুলোকে বিভিন্ন কালাকানুনের মাধ্যমে হরণ করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নীলনকশা বাস্তবায়ন করে চলেছে।
প্রিয় দেশবাসী,
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এই দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা ‘বাকশাল’ বাতিল করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিল বিএনপি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রাজ্ঞ রাজনৈতিক নেতৃত্বে বিএনপি নির্বাচনকালীন সময়ে ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা’ সংবিধানে সংযোজন করে। যার ফলে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত পরবর্তী কয়েকটি নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য হয়েছিল এবং স্থিতিশীল, অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনব্যবস্থা গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। আওয়ামী লীগের অনির্বাচিত সরকার সেই ব্যবস্থা রদ করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করায় স্থায়ীভাবে জাতীয় নির্বাচনব্যবস্থায় চরম আস্থাহীনতা, অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রিয় দেশবাসী,
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে মহান মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন সাম্য, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণের লক্ষ্যে। বর্তমানে লুটেরা ফ্যাসিবাদী কর্তৃত্ববাদী একনায়কতান্ত্রিক অনির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের সেই আশা-আকাংখা ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে। স্বাধীনতার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয়নি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনে করে যে, দেশপ্রেমের শপথে উজ্জীবিত এক সুকঠিন জাতীয় ঐকমত্য (national consensus) প্রতিষ্ঠা ব্যতীত কোনো একক দলের পক্ষে বর্তমান বিপর্যস্ত অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও রাজনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন ও সংস্কার অত্যন্ত কঠিন। আর সে জন্যই চলমান আন্দোলনে জনতার বিজয় অর্জনের পর একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরিচালনায় একটি অবাধ নির্বাচনে বিজয়ী হলে, সবার মতামত ও সম্মতির মাধ্যমে দেশ পরিচালনার নিমিত্তে, বর্তমান সরকারবিরোধী রাজপথের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দলসমূহকে নিয়ে ‘একটি জাতীয় সরকার’ গঠন করার প্রস্তাব করছি।
বিএনপি’র পক্ষ থেকে আমরা সুস্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠাই হবে এই ভংগুর রাষ্ট্র মেরামত ও আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলমন্ত্র ও প্রধান ভিত্তি। কোন পন্থায় প্রস্তাবিত জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা হবে, কিভাবে সম্মিলিতভাবে আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে গড়ে তুলতে চাই, এবং বর্তমান পর্যুদস্ত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের জন্য উক্ত জাতীয় সরকার যে সকল রাষ্ট্র রূপান্তরমূলক সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করবে, আমি এখন মহান জাতির সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে তার একটি অতি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা উপস্থাপন করছি। এটা আমাদের প্রস্তাবনা। দেশের মানুষ ও জাতির মুক্তির প্রয়োজনে এটা আমাদের দায়িত্ব বলে আমরা বিশ্বাস করি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিস্তারিত রূপরেখাটি আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবেন।
চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল ও সংগঠন অনুগ্রহপূর্বক রাষ্ট্র কাঠামো মেরামত রূপরেখাটি বিবেচনা করবেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঘোষিত ‘১৯-দফা’ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঘোষিত বিএনপি’র ‘ভিশন-২০৩০’ এর আলোকে এই রূপরেখাটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রিয় দেশবাসী,
রাষ্ট্র্র কাঠামো মেরামতের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা:
১) একটি “সংবিধান সংস্কার কমিশন” গঠন করে বর্তমান অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক গৃহীত সকল অযৌক্তিক, বিতর্কিত ও অগণতান্ত্রিক সাংবিধানিক সংশোধনী ও পরিবর্তনসমূহ রহিত/সংশোধন করা হবে।
২) প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক “Rainbow-Nation” প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ জন্য একটি “National Reconciliation Commission” গঠন করা হবে।
৩) একটি “নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকার” ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে।
৪) রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীসভার নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনয়ন করা হবে।
৫) পরপর দুই টার্মের অতিরিক্ত কেউ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
৬) বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে “উচ্চ কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা” (Upper House of the Legislature) প্রবর্তন করা হবে।
৭) সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতামত প্রদানের সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে।
৮) বর্তমান “প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২” সংশোধন করা হবে।
৯) সকল রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান পুনঃগঠন করা হবে। শুনানির মাধ্যমে সংসদীয় কমিটির ভেটিং সাপেক্ষে এই সকল প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ পদসমূহে নিয়োগ প্রদান করা হবে।
১০) বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। বর্তমান বিচারব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি “জুডিশিয়াল কমিশন” গঠন করা হবে।
১১) একটি “প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন” গঠন করে প্রশাসন পুনঃগঠন করা হবে।
১২) মিডিয়ার সার্বিক সংস্কারের লক্ষ্যে একটি “মিডিয়া কমিশন” গঠন করা হবে।
১৩) দুর্নীতির ক্ষেত্রে কোন আপোষ করা হবে না। অর্থ-পাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী “ন্যায়পাল (Ombudsman)” নিয়োগ করা হবে।
১৪) সর্বস্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। Universal Human Rights Charter অনুযায়ী মানবাধিকার বাস্তবায়ন করা হবে।
১৫) বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে একটি “অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন” গঠন করা হবে।
১৬) “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার” এই মূলনীতির ভিত্তিতে প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন।
১৭) মুদ্রাস্ফীতির আলোকে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা হবে।
১৮) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ খাতে দায়মুক্তি আইনসহ সকল কালাকানুন বাতিল করা হবে।
১৯) বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হবে। বাংলাদেশ ভূখণ্ডের মধ্যে কোনো প্রকার সন্ত্রাসী তৎপরতা বরদাশত করা হবে না এবং কোন সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা আশ্রয়-প্রশ্রয় পাবে না। সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদকে রাজনৈতিক ঢাল বা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এবং সন্ত্রাসবাদের তকমা লাগিয়ে ভিন্নমতের বিরোধী শক্তি এবং রাজনৈতিক বিরোধীদল দমনের অপতৎপরতা বন্ধ করা হলে প্রকৃত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা এবং আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা সম্ভব হবে।
২০) দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সর্বোচ্চ দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত করে গড়ে তোলা হবে।
২১) ক্ষমতার ব্যাপক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিকতর স্বাধীন, শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান করা হবে।
২২) রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা হবে এবং তাঁদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।
২৩) যুবসমাজের ভিশন, চিন্তা ও আকাক্সক্ষাকে ধারণ করে আধুনিক ও যুগোপযোগী যুব-উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।
এক বছরব্যাপী অথবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত, যেটাই আগে হবে, শিক্ষিত বেকারদের বেকার ভাতা প্রদান করা হবে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সরকারি চাকুরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি বিবেচনা করা হবে।
২৪) নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে। জাতীয় সংসদে মনোনয়নের ক্ষেত্রে নীতিগতভাবে নারীদের প্রাধান্য দেয়া হবে।
২৫) চাহিদা-ভিত্তিক (Need-based) ও জ্ঞানভিত্তিক (Knowledge-based) শিক্ষাকে প্রাধান্য দেয়া হবে।
২৬) “সবার জন্য স্বাস্থ্য” এই নীতির ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যের ‘NHS’ এর আদলে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রবর্তন করা হবে।
২৭) কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে।
পরবর্তীতে যথাসময়ে অন্যান্য বিষয়ভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাব ও উন্নয়ন কর্মসূচী প্রকাশ করা হবে।
রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের এই রূপরেখা অধিকতর সমৃদ্ধ করতে আপনাদের গঠনমূলক পরামর্শ জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থে আমরা সাদরে গ্রহণ করব।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এখন আমাদের প্রস্তাবিত ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের’ বিস্তারিত রূপরেখা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবেন।
আল্লাহ হাফেজ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ