আসন্ন পাঁচ সিটির নির্বাচনে কেন্দ্রকে ভোটে নামাতে চান বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

আসন্ন পাঁচ সিটির নির্বাচনে কেন্দ্রকে ভোটে নামাতে চান বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৩ ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৩ ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে কোনো ধরনের নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে বিএনপি। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ যদি আসন্ন পাঁচ সিটির নির্বাচনে অংশ নেয়, তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে হাইকমান্ড। এক দফার আন্দোলন সামনে রেখে সংগঠনে শৃঙ্খলা রক্ষায় এ বিষয়ে ছাড় দেবে না দলটি। বিএনপির দাবি, সরকারবিরোধী আন্দোলন যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে যাচ্ছে, এমন সময় দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ নির্বাচনে যাবে না। অবশ্য তৃণমূলে বিএনপির নেতারা অনেকটাই নির্বাচনমুখী। নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরে কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন তাদের অনেকে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে দল সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নির্বাচনে গেলে প্রার্থী হতে চান তারা। দল শেষ পর্যন্ত ভোটে না গেলে পাঁচ সিটির বিগত নির্বাচনে বিএনপির যারা প্রার্থী ছিলেন, তাদের কেউ কেউ একেবারে খালি মাঠ ছেড়ে দিতে নারাজ। সেক্ষেত্রে নিজে প্রার্থী না হলেও অবস্থান ধরে রাখতে কৌশলের অংশ হিসেবে ছেলে কিংবা পরিবারের অন্য কাউকে দিয়ে ভোট করানোর পরিকল্পনা করছেন।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে আগামীতে জাতীয়সহ স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ব্যাপারে দলের সিদ্ধান্ত রয়েছে। এখন পর্যন্ত সে সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে। দলের এ সিদ্ধান্ত অমান্য করে যদি কেউ নির্বাচনে যান, তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে যেমনটা নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটির ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছিল। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, বিএনপি এখন সরকারের পতন এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে রয়েছে। অন্য কিছু ভাবার সময় নেই।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, ২৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে, ১২ জুন খুলনা ও বরিশালে এবং ২১ জুন রাজশাহী ও সিলেট সিটির ভোট গ্রহণ করা হবে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচন হবে ইভিএমে। এর আগে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পাঁচটির মধ্যে শুধু সিলেট সিটিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন। তখন গাজীপুরে হাসান উদ্দিন সরকার, খুলনায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেটে আরিফুল হক চৌধুরী, রাজশাহীতে মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং বরিশালে মজিবর রহমান সরোয়ার বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। এর আগে দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত পাঁচ সিটির ভোটের সবকটিতেই মেয়র পদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছিলেন।

জানা যায়, বিগত সিটি নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করা বিএনপির পাঁচ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে চারজনই দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট করবেন না। সিলেট সিটির মেয়র আরিফুল হক অবস্থান পরিষ্কার না করায় তাকে নিয়ে ধোঁয়াশা এখনো কাটেনি। আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কি না, তা তিনি ঈদের পর জানাবেন। এর মধ্যে ৪২টি ওয়ার্ডের নির্দিষ্ট লোকজনের সঙ্গে জনমত যাচাইয়ে কথা বলবেন।

এর আগে সিলেট সিটির নির্বাচন নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করতে ২ এপ্রিল লন্ডন যান আরিফুল হক। লন্ডনের অভিজাত কিংস্টন এলাকার একটি ভেন্যুতে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। সাক্ষাৎকালে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে নিজের অবস্থান জানান তিনি। পাশাপাশি দলে নিজের পদোন্নতি এবং আগামীতে সিলেট সদর থেকে ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ নির্বাচনের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎ শেষে লন্ডন বিএনপির অন্য নেতাদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এ বিষয়টি জানান আরিফুল হক। গত রোববার যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরেন তিনি। বিমানবন্দরে ফুলের ভালোবাসায় সিক্ত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে নেতাকর্মীরা গাড়িবহরে করে নগরীতে নিয়ে যায়। এর আগে বিমানবন্দরে নির্বাচনে প্রার্থিতার বিষয়ে সিলেটের মেয়র বলেন, ‘বিএনপি বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না। তবে এই নগরের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বিষয়ে আমি অবহিত আছি। তাদের এ আশার মূল্যায়ন আমি করব।’ যুক্তরাজ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক ও আলাপ হয়েছে জানিয়ে আরিফ বলেন, ‘তিনি আমাকে একটি সিগন্যাল দিয়েছেন। তিনি কী সিগন্যাল দিয়েছেন তা অচিরেই আমি খোলাসা করব। এ ছাড়া নির্বাচন নিয়ে আমার অবস্থানও দ্রুত স্পষ্ট করব।’ আরিফের এমন বক্তব্যে সিটি নির্বাচন নিয়ে তাকে ঘিরে ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হয়।

সিলেটে বিএনপির বড় একটা অংশ আরিফুল হকের সঙ্গে রয়েছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছেও তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়। এ ছাড়া টানা দুবার মেয়র হওয়ায় এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছেন। দলের বাইরেও নানা শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে তার আলাদা সুসম্পর্ক রয়েছে। এসব কারণে মেয়র পদে নির্বাচন করার জন্য স্থানীয়ভাবে আরিফুলের ওপর আলাদা চাপ রয়েছে। তবে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় নির্বাচন নিয়ে আরিফুল হকের মতামত জানা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। আমরা কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের আলোকে আমাদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেব।

সার্বিক বিবেচনায় দলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন খুলনা সিটির বিগত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। যদিও এখন মঞ্জুর দলীয় পদ স্থগিত রয়েছে। খুলনা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের পর দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে তিনি বিএনপির কর্মী হিসেবে দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। গত অক্টোবরে খুলনায় বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিশাল মিছিল সহকারে যোগ দেন তিনি।

জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারকে প্রেশার দেওয়ার জন্য কৌশল হিসেবে বিএনপি ভোটে যেতে পারে কি না—সেটা দল ভেবে দেখতে পারে। কারণ, এখন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের তৎপরতা ও সরকারের ওপর চাপ রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও গতিশীল করার ক্ষেত্রে এ নির্বাচনকে কাজে লাগানো যায় কি না, সে ব্যাপারে বিএনপি ভেবে দেখতে পারে। পাঁচটি বিভাগীয় শহরের নির্বাচন নিঃসন্দেহে বড় নির্বাচন। এই নির্বাচনে যদি কারচুপি হয়, তাহলে সেটাকে ঘিরে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলা—যেটা থেকে বিএনপি লাভবান হতে পারে কি না, ভেবে দেখতে পারে হাইকমান্ড। তিনি বলেন, দল ও দলের কর্মীদের ধরে রাখা, মানুষকে ভোটকেন্দ্রমুখী করার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রয়োজন হয়। তাছাড়া মানুষ ওয়াকওভার দিতে চায় না, তারা একটা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখতে চায়। সাধারণ মানুষের এমন মনোভাব কেন্দ্রকে জানিয়েছি। কিন্তু কেন্দ্র থেকে কোনো মেসেজ দেওয়া হয়নি। এখন দলের দিকে তাকিয়ে আছি, দল কী করে।

খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক এই সভাপতি বলেন, সিটি নির্বাচন, পৌর নির্বাচন, এমপি নির্বাচন ঘিরে বিএনপি সব সময় মিটিং করে। আংশিক নির্বাহী কমিটির সভা হয়। সেই সভায় এগুলো আলোচনা হয়, তারপর সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এবার বিভাগীয় শহরের এত বড় নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। সে কারণে মত দেওয়ার অবস্থাও নেই। কেউ মত দিতে গেলেও সে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে।

মঞ্জু বলেন, বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকে, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট করব না। যে দলের জন্য জীবন বাজি রেখে সারাটা জীবন কাজ করেছি, সেই দলকে রেখে আমাদের পক্ষে নির্বাচন করা সম্ভব নয়, যদিও আমি এখন দলের একজন কর্মী। তবে সেক্ষেত্রে বিএনপি কেন নির্বাচনে যাচ্ছে না, সে ব্যাপারে ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। কারণ, জনগণকে নিয়েই তো বিএনপির রাজনীতি।

গাজীপুর সিটিতে বিগত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন হাসান উদ্দিন সরকার। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তিনি নির্বাচন করবেন না। তবে হাসান সরকার ভোট না করলেও অবস্থান ধরে রাখতে কৌশলের অংশ হিসেবে তার ভাতিজা সরকার শাহ্ নূর ইসলাম রনি নির্বাচনে অংশ নেবেন। রনির বাবা নুরুল ইসলাম সরকার কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতা ছিলেন। রনি টঙ্গী থানা বিএনপির ৩নং সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি পদেও প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। গাজীপুরে সরকার পরিবারকেই কেন্দ্র করে বিএনপির রাজনীতি অনেকটাই আবর্তিত হয়। বিশেষ করে টঙ্গী এলাকায় এ পরিবারের বিরাট প্রভাব রয়েছে।

জানতে চাইলে সরকার শাহ্ নূর ইসলাম রনি বলেন, ‘আমার চাচা হাসান উদ্দিন সরকার, আমার বাবা নুরুল ইসলাম সরকারসহ আমরা পুরো পরিবারই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বিএনপি যেহেতু নির্বাচনে আসছে না, আমার পরিবারের অনুমতিক্রমে এবং এলাকাবাসীর সমর্থনে আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চিন্তাভাবনা করছি। আশা করছি, সেখানে স্থানীয় বিএনপির জোর সমর্থন থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, বিএনপি ভোটে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় নির্বাচন একতরফা হয়ে যাচ্ছে। আমাদের পরিবারের প্রতি গাজীপুরের মানুষের চাওয়া রয়েছে। এলাকাবাসীকে নিয়ে একশর ওপরে উঠান বৈঠক করেছি। সেখানে তারা বলেছেন, দল নির্বাচনে না এলেও এলাকাবাসীর স্বার্থের কথা বিবেচনা করে ভোট করতে হবে। বিএনপির তৃণমূল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের চাওয়াকে সম্মান দিতে গিয়েই নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান রনি। বর্তমানে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের কোনো পদে নেই বলে জানান তিনি।

বরিশালে বিগত সিটি নির্বাচনে ধানের শীষ পেয়েছিলেন বিএনপির বর্তমান যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ার। তিনিও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না। তবে বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা আহসান হাবিব কামালের ছেলে কামরুল আহসান রূপম স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে। আহসান হাবিব কামাল বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক। কামাল গত বছর মারা গেলেও বরিশালে এই পরিবারের প্রতি স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সহানুভূতি রয়েছে। সেই সহানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী বৈতরণি পার হতে চান তার ছেলে রূপম।

জানতে চাইলে কামরুল আহসান রূপম বলেন, আসন্ন বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করলে তিনি ধানের শীষের মনোনয়নপ্রত্যাশী। আর দল অংশ না নিলেও তিনি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবেন। বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কোনো পদে না থাকলেও কেন দলীয় মনোনয়ন চান, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ২০ বছর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য ছিলেন। এখন কোনো পদে না থাকলেও তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার বাবা বরিশাল সিটির মেয়র ছাড়াও মহানগর ও জেলা বিএনপির যথাক্রমে আহ্বায়ক ও সভাপতি ছিলেন। তাছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন যখন ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন, তখন তারাও দলীয় কোনো পদে ছিলেন না।

বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল গতবার রাজশাহী সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছিলেন। তিনিও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না।

জানতে চাইলে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, শেখ হাসিনা সরকার ও বর্তমান ইসির অধীনে আমরা কোনো নির্বাচনে যাব না। দলের এ অবস্থানের সঙ্গে আমি পুরোপুরি একমত। ১০ দফা দাবি আদায়ের পর দল যদি বলে, তাহলে নির্বাচনে যাব। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কেউ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে রাজশাহী সিটিতে নির্বাচন করবেন না বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে মেয়র পদে নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দলীয় প্রতীকে না হওয়ায় কাউন্সিলর পদে ভোট করতে কোনো বাধা নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ নেতা থেকে শুরু করে অধীন থানা বিএনপির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকেরাই কাউন্সিলর পদে ভোট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ বিষয়টির উল্লেখ করে বিগত পাঁচ সিটিতে মেয়র পদে ধানের শীষে ভোট করা বিএনপির একাধিক প্রার্থী বলেন, দেখা যাচ্ছে বিএনপি নেতারাই কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর তারা নির্বাচন করলে দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকরাই তাদেরকে ভোট দিবেন। সেক্ষেত্রে তো বিএনপি নির্বাচনের বাইরে থাকলো না। মেয়র পদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টিও হাইকমান্ডের বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

কালবেলা

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ