ইসির নিবন্ধন পেতে বর্তমানে পাইপলাইনে রয়েছে আরও ১২টি রাজনৈতিক দল - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:৪২, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ইসির নিবন্ধন পেতে বর্তমানে পাইপলাইনে রয়েছে আরও ১২টি রাজনৈতিক দল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, মে ১০, ২০২৩ ৩:৩০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, মে ১০, ২০২৩ ৩:৩০ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ

উচ্চ আদালতের নির্দেশে রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধন পেল ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ। দলটির নিবন্ধন নম্বর ৪৬ এবং প্রতীক আপেল। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিব মো জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল তৃণমূল বিএনপিকে আদালতের নির্দেশে ইসির নিবন্ধন দেওয়া হয়।

এদিকে ইসি সূত্র জানিয়েছে, ইসির নিবন্ধন পেতে বর্তমানে পাইপলাইনে রয়েছে আরও ১২টি রাজনৈতিক দল। কয়েক দফা যাচাই-বাছাই শেষে এ দলগুলোকে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধনের অপেক্ষায় রাখা হয়েছে। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে তাদের তথ্য যাচাই-বাছাই ও তদন্ত চলছে। এ মাসেই মাঠ তদন্ত রিপোর্টের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে উত্তীর্ণ দলগুলোকে আগামী কমিশন সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। আর আগামী মাসের মধ্যেই নতুন দলের নিবন্ধন ও গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে।

সূত্র জানায়, ইসির নিবন্ধন পেতে এবার মোট ৯৮টি দল আবেদন করে। এর মধ্যে ৫টি দল একাধিক আবেদন করায় সেগুলো বাদ দিয়ে আবেদনকারী দলের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৩টিতে। সেখান থেকে আবার দুটি দল তাদের আবেদন প্রত্যাহার করে। আর নানা অসংগতি ও প্রয়োজনীয় ডকুমন্টেস জমা না দেওয়ায় প্রাথমিক বাছাইয়ে ১৪টি দলের আবেদন বাতিল করা হয়। বাকি ৭৭টি দলের আবেদন যাচাই-বাছাই করে ইসি সচিবালয় একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। ওই প্রতিবেদন কমিশনে উপস্থাপন শেষে যেসব দলের সম্পূরক বা যেসব কাগজপত্রের ঘাটতি রয়েছে, তা জমা দিতে ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়। গত ২৬ জানুয়ারি সেই সময়সীমাও শেষ হয়।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জামায়াত সমর্থিত একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান নেতৃত্বাধীন বিডিপি এবং জামায়াত থেকে বেরিয়ে যাওয়া এএফএম সোলায়মান চৌধুরী নেতৃত্বাধীন দল এবি পার্টি ও ঢাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদ ও মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যসহ কয়েকটি দল তাদের কাগজপত্র জমা দেয়। আর কাগজপত্র জমা না দেওয়া অন্তত ১৪-১৫টি দলকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় দফায় যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচিত দলগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। সেখান থেকে আরও শর্টলিস্ট করে গত ১১ এপ্রিল প্রাথমিক বাছাইয়ে টিকে যাওয়া ১২টি দলের তালিকা প্রকাশ করে আউয়াল কমিশন।

এসব দল হলো—এবি পার্টি (আমার বাংলাদেশ পার্টি), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম), বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি (বিএইচপি), গণঅধিকার পরিষদ, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি), বাংলাদেশ পিপলস পার্টি (বিপিপি), ডেমোক্রেটিক পার্টি ও বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিএলডিপি)। তবে এ তালিকায় স্থান পায়নি আলোচিত জামায়াত সমর্থিত দল বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি-বিডিপি।

বর্তমানে এসব দলের মাঠপর্যায়ে তদন্ত চলছে। এ পর্যায়ে কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের কার্যালয় ও কার্যক্রম আছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে মাঠ কর্মকর্তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যেই নতুন দলের নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির রোডম্যাপে।

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন অনুযায়ী, দলগুলোর নিবন্ধন পেতে হলে তিনটি শর্তের মধ্যে অন্তত একটি পূরণ করতে হবে। শর্ত তিনটি হলো এক, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে অনুষ্ঠিত যে কোনো সংসদ নির্বাচনের যে কোনো একটিতে দলীয় নির্বাচনী প্রতীকে একটি আসন পেতে হবে; দুই, কোনো সংসদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত ৫ শতাংশ ভোট প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে; তিন, দলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ একটি কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং দেশের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জেলায় ও অন্তত ১০০টি উপজেলায় বা মেট্রোপলিটন থানায় কার্যালয় থাকতে হবে। আর প্রতিটি উপজেলায় দলের সদস্য হিসেবে ন্যূনতম ২০০ ভোটার তালিকাভুক্ত থাকতে হবে।

ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রথম দুটি শর্ত পালন করা নতুন রাজনৈতিক দলের জন্য বেশ কঠিন। সেজন্য তৃতীয় শর্তকেই প্রাধান্য দেয় আবেদন করা দলগুলো। আবেদনের সঙ্গে তাদের জমা দেওয়া কাগজপত্র বা তথ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের তথ্যে মিল রয়েছে কি না, সেটি জানতেই মাঠ তদন্ত হবে। এরপর চতুর্থ ধাপ শুরু হবে। নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী, আবেদনে অন্তত ৯ ধরনের তথ্য পূরণ করতে হয় এবং সেইসঙ্গে ১০ ধরনের দলিলপত্রের সংযুক্তি দিতেই হবে।

ইসির অতিরিক্ত সচিব ও যাচাই-বাছাই কমিটির আহ্বায়ক অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, তদন্তের জন্য মাঠপর্যায়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিবন্ধনপ্রত্যাশী দলগুলোর কাছেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠি পাওয়ার ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। বিতর্কিত কোনো দল নিবন্ধন পাচ্ছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাউকে রাখা বা বাদ দেওয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই। এটা কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা শুধু যাচাই-বাছাই করে তালিকা উপস্থাপন করছি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ