ঈদের পর সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলন আরও বেগবান করবে বিএনপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৩:২১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ঈদের পর সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলন আরও বেগবান করবে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, এপ্রিল ২১, ২০২৩ ৩:৫৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, এপ্রিল ২১, ২০২৩ ৩:৫৮ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ

ঈদের পর সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলন আরও বেগবান করবে বিএনপি। আন্দোলনের রোডম্যাপ তৈরির পাশাপাশি, ইফতার মাহফিলের মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীদের সংগঠিত ও চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। দলটির আশঙ্কা, সরকার আন্দোলন প্রতিহত করতে হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার ও অত্যাচার-নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সঙ্গে গত ৮ এপ্রিলের এক বৈঠকে এ আশঙ্কার কথা বলেন। একই সঙ্গে হামলা-মামলা-গ্রেপ্তার উপেক্ষা করে মিত্রদের রাজপথে থেকে আন্দোলন সফলের প্রস্তুতি গ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি। বিএনপি এবার কোনো অবস্থাতেই রাজপথ ছাড়বে না বলে যুগপতের শরিকদের আশ্বস্ত করেন মহাসচিব।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান কালবেলাকে বলেন, একটি ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় থাকতে অনেক কিছুই করতে পারে, করেও। আওয়ামী লীগ সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে প্রশাসনসহ পুলিশ-র‌্যাবকে অবৈধভাবে ব্যবহার করছে। বিএনপির জনসম্পৃক্ত আন্দোলন দমানোর জন্য তারা গুম-খুন, হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার ও অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে। তার পরও আন্দোলন ক্রমেই বেগবান হচ্ছে। সামনে আন্দোলনের গতি আরও বাড়বে। আন্দোলন দমাতে অত্যাচার-নির্যাতনের মাত্রা বাড়লে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তবে অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে জনগণের আন্দোলন দমানো যাবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

দীর্ঘ সময় পর গত ২২ আগস্ট থেকে জনস্বার্থ ইস্যুতে দেশব্যাপী ধারাবাহিক কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামে বিএনপি। ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এককভাবে কর্মসূচি পালন করে। এরপর সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে ২৪ ডিসেম্বর থেকে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করে বিএনপি। আন্দোলনে সমমনা ৩৮টি দল সম্পৃক্ত হয়। এর মধ্যে সাত দলের গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, ১১ দলের জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট এবং চার দলের গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য রয়েছে। এর বাইরে জামায়াত ও এলডিপি পৃথকভাবে এবং গণফোরাম (মন্টু) ও বাংলাদেশ পিপলস পার্টি (বিপিপি) যৌথভাবে যুগপৎ কর্মসূচি পালন করছে। গণমিছিলের মধ্য দিয়ে আন্দোলন শুরুর পর প্রায় চার মাসে দেশব্যাপী গণঅবস্থান, প্রতিবাদ সমাবেশ, সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, পদযাত্রা, মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি পালন করেছে মিত্ররা।

রমজান মাসেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাধা ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলার কারণেই বিএনপির প্রবল আশঙ্কা, ঈদের পর তা বাড়বে। ১ এপ্রিল দেশের সব মহানগর ও জেলায় এবং ৮ এপ্রিল মহানগরের থানা ও জেলার উপজেলায় দুই ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। এ ছাড়া ১০ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত বিভাগভিত্তিক ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রচারপত্র বিলি, মানববন্ধন অথবা অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। এসব কর্মসূচি পালনকালে নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয় বলে অভিযোগ বিএনপির। এ ছাড়া রমজানে সহস্রাধিক ইফতার মাহফিল করেছে দলটি। অনেক স্থানে ইফতার মাহফিলও পণ্ড করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত ৮ এপ্রিল দেশব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ অনেক নেতার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। যশোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক এমপি মফিকুল হাসান তৃপ্তি, ভোলার মনপুরায় যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি নুরুল ইসলাম নয়নসহ বিভিন্ন স্থানে নেতাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

জানা যায়, দেশব্যাপী ওই অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশি বাধার মধ্যে অনেক জায়গায় কর্মসূচি করতে হয়েছে। কয়েকজন নেতা বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের বলা হয়েছে ঈদের পরে বিএনপির নেতাকর্মীদের রাস্তায় দাঁড়াতেই দেওয়া হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ৮ এপ্রিল যুগপতের মিত্র জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি। সেখানে দলটির পক্ষ থেকে মিত্রদের জানানো হয়, ঈদের পরে আন্দোলন আরও বেগবান হবে। তবে সরকার সে আন্দোলন প্রতিহত করার জন্য বিএনপিসহ যুগপতের শরিক দল ও জোটগুলোর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার, অত্যাচার-নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এ ছাড়া আন্দোলন দমাতে যুগপতের মিত্রদের সরকারের পক্ষ থেকে নানা প্রলোভনও দেখানো হতে পারে। বিশেষ করে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে আনতে এমপি বানানোরও প্রস্তাব দিতে পারে সরকার। রাজি না হলে শরিকদের ওপর মামলা, গ্রেপ্তারসহ নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে পারে। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বিএনপির অভিযোগ, আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরই বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলা, গ্রেপ্তার, গুম-খুন ও অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করে। ক্ষমতায় টিকে থাকতে মিথ্যা মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। আর বিএনপির আন্দোলন দমাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করছে অবৈধভাবে।

বিএনপির দপ্তর সূত্র জানায়, ২০০৯ সাল থেকে গত ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৫৪৩টি মামলা হয়েছে। তবে দলটির দাবি, এসব মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা, গায়েবি ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব মামলায় প্রায় ৪০ লাখ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে মহানগরের ওয়ার্ড এবং তৃণমূলের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও রয়েছেন। উল্লিখিত সময়ের মধ্যে ১ হাজার ৫৩৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা ৭৯৯ জনকে হত্যা করা হয় বলে দাবি বিএনপির। আর ওই সময়ে বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের ১ হাজার ২০৪ জনকে গুম করা হয়। যাদের মধ্যে পরে ৭৮১ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। উল্লিখিত সময়ে বিএনপির ৪২৩ জন গুম ছিল, বর্তমানে এই সংখ্যা ৭২ জন। এদিকে গত বছরের ২২ আগস্ট থেকে গত ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক ১ হাজার ৭৫০ জন নেতাকর্মী গুরুতর জখম ও আহত হয়েছেন বলে দাবি দলটির।

দলটির দপ্তর সূত্র আরও জানায়, গত বছরের ২২ আগস্ট থেকে গত ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৪৭৩টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় ২৩ হাজার ৮৬৭ জনকে এজাহার নামীয় আসামি এবং ৩৮ হাজার ১৭৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৫০০টির বেশি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমিসহ অনেককে আসামি করা হয়।

বিএনপির অভিযোগ, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ অনেক নেতার মামলা এখন খুব দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে যাতে তারা নির্বাচন করতে না পারেন। এর মধ্য দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায় সরকার।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সরকার নির্বাচনের আগেই বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পরিকল্পনার মধ্যে আছে শীর্ষ নেতাদের মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে তাদের আটকে রাখা।’

বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের মামলার রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শুধু হাবিব নয়, দেখবেন খুব দ্রুত বিএনপি ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের অনেককেই এ ধরনের মিথ্যা মামলায় সাজা দেবে। আমরা লক্ষ করছি, মামলাগুলো খুব দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ