এই শহরে সন্ত্রাস চাঁদাবাজি মাস্তানি চলবে না: চসিক মেয়র - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:৩০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

এই শহরে সন্ত্রাস চাঁদাবাজি মাস্তানি চলবে না: চসিক মেয়র

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, মার্চ ২৩, ২০২৬ ৭:০৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, মার্চ ২৩, ২০২৬ ৭:০৪ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত

কোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাস্তানি এই শহরে চলবে না বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

রবিবার (২২ মার্চ) বিকেলে নগরীর লাভ লেইনে একটি কমিউনিটি সেন্টারে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নগরবাসীর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তিনি একথা বলেন।

মেয়র বলেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে আপনারা দেখেছেন, আমরা মঠ মন্দিরে পাহারা দিয়েছি, আমাদের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় পাহারা দিয়েছে। চট্টগ্রামবাসী যাতে নিরাপদে নির্ভিঘ্নে চলতে পারে সে ব্যাপারে আমি সজাগ আছি। কোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাস্তানি চলবে না এই শহরে। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আছি। আমরা এই শহরকে একটা নিরাপদ শহরে পরিণত করতে চাই।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসন ও নগরীর যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন মেয়র।

মেয়র শাহাদাত বলেন, চসিকের মেয়র হওয়ার পর থেকে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে আমি বাজারে বাজারে গিয়ে মনিটরিং করেছি। এই শহরের নিরাপত্তার জন্য আমি কাজ করেছি। শুধু নালা, নর্দমা, খাল বিল পরিষ্কার নয় আমাদের এই শহরকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিতে হবে।

মেয়র বলেন, ক্ষমতা থাকলেই তা দেখানোর নাম রাজনীতি নয়। দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিঃস্বার্থ কাজ করাই বিএনপির রাজনীতির মূলমন্ত্র। কুকর্ম করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের কবর রচিত হয়েছে। বিএনপির নাম ব্যবহার করে কুকর্মকারীদের স্থান বিএনপিতে হবে না। রাজনীতিতে এখন বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনীতিতে এখন বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।

তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ‘বটমলেস বাস্কেট’ থেকে উঠে এসে কৃষি, গার্মেন্টস ও রেমিটেন্স খাতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানেও রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধি, কৃষি ও গার্মেন্টস খাতের উন্নয়ন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নতুন খাত হিসেবে পর্যটন শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর চিপস এবং ফার্মাসিউটিক্যালস খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে।

এসব খাতে বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন মেয়র।

নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশপ্রেম যেমন ঈমানের অংশ, তেমনি শহরপ্রেমও ঈমানের অংশ। তিনি সবাইকে যত্রতত্র ময়লা, প্লাস্টিক ও পলিথিন না ফেলার অনুরোধ জানান এবং চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে গত ১৬ মাসে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে খাল সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ৫৭টি খালের মধ্যে অধিকাংশ খালের সংস্কার কাজ চলমান এবং পর্যায়ক্রমে সব খাল পুনরুদ্ধার করা হবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রকল্প গ্রহণের পথে এগিয়ে গেছে। বাস্তবায়িত হলে এ প্রকল্প চট্টগ্রামের জলবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করবে।

কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে খেলাধুলার প্রসারে গুরুত্ব দিয়ে মেয়র জানান, ৪১টি খেলার মাঠের মধ্যে ইতোমধ্যে ১১টি উন্নয়ন করা হয়েছে এবং বাকি মাঠগুলোও দ্রুত সংস্কার করা হবে।

এছাড়া জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা, টাইফয়েড ভ্যাকসিন প্রদান, এবং ব্রেস্ট, কোলোরেক্টাল ও লিভার ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান মেয়র।

অনুষ্ঠানে প্রায় আট হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের জন্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের আয়োজন করেন মেয়র।

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. কামরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যরিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, জাতীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, আলহাজ এরশাদ উল্লাহ, সাঈদ আল নোমান, জসিম উদ্দিন আহমেদ, বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মুনিরুজ্জামান, কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপি, চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি, মহানগর ও দক্ষিণ জেলা যুবদল, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্যসচিব ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী, চমেক ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, জেলা ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ মানিক, চমেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. তসলিম উদ্দিন, চসিক সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল হক, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান আলী চৌধুরী, জাসাসের আহ্বায়ক এম এ মুছা বাবলু, সদস্যসচিব মামুনুর রশীদ শিপন, তাঁতীদলের আহ্বায়ক সেলিম হাফেজ, সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মুরাদ প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ