কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বৈষম্য বাড়ায়: সিপিডি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬ ৩:০৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬ ৩:০৫ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ প্রতিনিধি
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া নৈতিকভাবে পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তার মতে, এটি সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করে এবং করদাতাদের মধ্যে বড় ধরনের বৈষম্য বাড়ায়।
কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখার প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, এ ধরনের উদ্যোগ নৈতিকতার অবক্ষয়কে উৎসাহিত করে এবং সৎ করদাতাদের প্রতি অন্যায় আচরণের শামিল।
শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী তামিম আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানের আরও কয়েকজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, অন্যায্য বা অপ্রদর্শিত উপায়ে অর্জিত অর্থ অল্প কর পরিশোধের মাধ্যমে বৈধ করার সুযোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তার মতে, এই ব্যবস্থা করনীতির ন্যায়সংগত ভিত্তিকে দুর্বল করে এবং সুশাসনের পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, দেশের সাধারণ নাগরিকরা কঠোর পরিশ্রমে উপার্জিত আয়ের ওপর তুলনামূলক উচ্চ হারে কর পরিশোধ করেন। অথচ কালো টাকার মালিকদের জন্য বিশেষ সুবিধা বা ছাড় দেওয়া হলে তা অর্থনৈতিক বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে নিয়মিত করদাতা ও কর ফাঁকি দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে স্পষ্ট বৈষম্যের সৃষ্টি হয়।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, এ ধরনের নীতি সৎ ও নিয়মিত করদাতাদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়। এতে তারা কর প্রদানে নিরুৎসাহিত হতে পারেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের কর সংস্কৃতি ও রাজস্ব ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
তার মতে, করব্যবস্থায় জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগত নীতি নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য, যাতে করদাতাদের আস্থা আরও শক্তিশালী হয়।
জনতার আওয়াজ/আ আ