কুলাউড়ায় টানা ৪০ দিন জামাতে নামাজ পড়ে বাইসাইকেল পেল ৭ কিশোর
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৫ ২:৫৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৫ ২:৫৬ অপরাহ্ণ

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত
“নামাজের আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি শিশু”— এই শ্লোগান নিয়ে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামে টানা ৪০ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করায় ৭ কিশোরকে বাইসাইকেল ও আরও ৪৮ জনকে বিভিন্ন উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। ব্যতিক্রমধর্মী এই উদ্যোগ নেয় আমতৈল গ্রামের হযরত শাহ সর্দার মুহাম্মদ (রহ.) মাহফিল বাস্তবায়ন পরিচালনা কমিটি।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে আমতৈল মাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নিয়মিত নামাজ আদায়কারীদের পুরস্কৃত করা হয়। আয়োজকদের মতে, শিশু-কিশোরদের মুঠোফোন আসক্তি কমিয়ে মসজিদমুখী ও নামাজে আগ্রহী করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আয়োজক কমিটির উপদেষ্টা সাংবাদিক নাজমুল ইসলাম জানান, ৬০ জন কিশোর এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৫ জন নিয়মিত নামাজে অনুপস্থিত থাকায় বাদ পড়েন। বাকি ৫৫ জন টানা ৪০ দিন জামাতে নামাজ আদায় করতে সক্ষম হন। পরে লটারির মাধ্যমে প্রথম সাতজনকে বাইসাইকেল পুরস্কার দেওয়া হয়।
পুরস্কার পাওয়া কিশোর মাহদি ইসলাম শাফি, নাজমুস সিয়াম ও জাবির খান বলেন, “৪০ দিন নিয়মিত জামাতে নামাজ পড়তে গিয়ে এখন অভ্যেস হয়ে গেছে। পুরস্কারের জন্য নয়, মুসলমান হিসেবে নামাজ আদায় আমাদের দায়িত্ব। সারাজীবন যেন এভাবে নামাজে থাকতে পারি, সে জন্য দোয়া চাই।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মো. সাহেদুর রহমান কিরন এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলম।
প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদ। উদ্বোধক ছিলেন বাবনিয়া হাসিমপুর নিজামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি আহসান উদ্দিন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন কুলাউড়া দারুসসুন্নাহ মডেল দাখিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল খন্দকার অজিউর রহমান আসাদ, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি কুলাউড়া শাখার সভাপতি মো. নাজমুল ইসলাম ও সাবেক সভাপতি এম. মুক্তাদির হোসেন, আমতৈল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, “শিশুকাল থেকেই নামাজের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হলে তাদের ভবিষ্যৎ হবে আলোকিত ও নৈতিকতায় ভরপুর।”
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।
এছাড়া মাত্র ১৮ মাসে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করায় ৯ বছর বয়সী রেদওয়ান আহমেদ মারিয়ানকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।
পুরো আয়োজন ঘিরে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
জনতার আওয়াজ/আ আ