কেউ কেউ রমজানকে লোভ-লাভের মাস বানিয়ে ফেলেন: প্রধানমন্ত্রী - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:২১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

কেউ কেউ রমজানকে লোভ-লাভের মাস বানিয়ে ফেলেন: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬ ৮:০৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, মার্চ ৮, ২০২৬ ১:৫৮ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাসে কারও কষ্টের কারণ না হতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অসাধু চক্র রমজান মাসকে লোভ ও লাভের মাস বানিয়ে ফেলেন মন্তব্য করে সবাইকে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সরকারপ্রধান।

শনিবার (৭ মার্চ) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা-য় এতিম শিশু ও আলেম-ওলামাদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র রমজান মূলত ত্যাগ, সংযম, রহমত ও বরকতের মাস। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, রমজান এলেই আমাদের মধ্যে কেউ কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। এতে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ে। তিনি বলেন, যারা পবিত্র রমজান মাসেও অসাধু পন্থা অবলম্বন করেন, তাদের প্রতি তার বিনীত আহ্বান—মানুষের কষ্টের কারণ না হওয়ার জন্য এমন আচরণ থেকে বিরত থাকুন।

তারেক রহমান বলেন, ইসলামী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় অতীতের প্রতিটি রমজানেই প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হতো। বিশেষ করে আলেম-ওলামা, মাশায়েখ ও এতিমদের সম্মানে সাধারণত রমজানের প্রথম দিনেই ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হয়।

তিনি জানান, তবে দেশের চলমান বাস্তবতার কারণে এবার কিছুটা দেরিতে এই ইফতারের আয়োজন করতে হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচন এবং কৃচ্ছতা সাধনের অংশ হিসেবে এবার রমজানে সীমিত পরিসরে ইফতার আয়োজন করা হয়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, এবারের রমজানে গতকাল এবং আজ—এই দুই দিনে মোট দুটি ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এটিই সম্ভবত চলতি রমজানের শেষ ইফতার আয়োজন হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আজকের ইফতার মাহফিলে অংশ নেওয়া এতিম শিশুরাই এই অনুষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অতিথি। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এতিমদের অধিকার রক্ষার বিষয়ে মুমিন মুসলমানদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। সেই গুরুত্ব বিবেচনা করেই এতিমদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই ইফতারে সঙ্গত কারণেই দেশের সব এতিম শিশুকে আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব হয়নি। তবে এতিমদের বিষয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই আয়োজনের প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে। তার বিশ্বাস, এই আয়োজন বিত্তবানদের মধ্যে এতিমদের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে ইতিবাচক বার্তা দেবে।

তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি বিত্তবান ব্যক্তি যদি পবিত্র কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী এতিমদের প্রতি দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে পিতৃহারা এতিম শিশুরা বেদনা নিয়েও সমাজে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি পাবে।

আলেম-ওলামাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির অন্যতম হলো জাকাত। দেশে জাকাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের একটি পরিকল্পনা রয়েছে, যা তিনি আলেমদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান।

তিনি বলেন, ইসলামী বিধান অনুযায়ী অনেক বিত্তবান ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে জাকাত প্রদান করেন। আবার কেউ কেউ সরকারি জাকাত বোর্ডের মাধ্যমে জাকাত দেন। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর জাকাতের পরিমাণ প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। কেউ কেউ এর পরিমাণ আরও বেশি বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে তারেক রহমান বলেন, সুপরিকল্পিত ও সংগঠিতভাবে জাকাত বণ্টন না হওয়ায় এই বিপুল অর্থ দারিদ্র্য বিমোচনে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী বিধান অনুযায়ী জাকাত এমনভাবে বণ্টন করা উচিত, যাতে একজন ব্যক্তি প্রথম বছর জাকাত নেওয়ার পর পরের বছর আর জাকাত গ্রহণের প্রয়োজন না হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিতভাবে জাকাত বণ্টন করা গেলে দারিদ্র্য দূরীকরণে এটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে।

এ বাস্তবতায় সরকার জাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ধনী-দরিদ্র মিলিয়ে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারের মধ্যে দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে যদি প্রতি বছর পর্যায়ক্রমে পাঁচ লাখ পরিবারকে এক লাখ টাকা করে জাকাত দেওয়া যায়, তাহলে তাদের অধিকাংশেরই পরের বছর আর জাকাত নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

তার মতে, লক্ষ্যভিত্তিক ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে জাকাত বণ্টন করা গেলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে শুধু জাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

আলেমদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা যৌক্তিক মনে হলে বিত্তবানদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে আলেম-ওলামা ও মাশায়েখরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, জাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, ইসলামি চিন্তাবিদ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন বিদ্যমান জাকাত বোর্ডকে পুনর্গঠন করা যেতে পারে। তার মতে, সঠিকভাবে জাকাত ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা গেলে দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশকে ইসলামি বিশ্বের একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ