কোটা বাতিলের আন্দোলন করে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোকে টার্গেট করা হচ্ছে - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

কোটা বাতিলের আন্দোলন করে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোকে টার্গেট করা হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, জুন ১২, ২০২৪ ১:৪৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, জুন ১২, ২০২৪ ১:৪৬ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

আদালতের রায়ের পরও সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা বাতিল করার যে আন্দোলন করা হচ্ছে তা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার জন্য উদ্দেশ্য প্রণদিত ভাবে টার্গেট করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও প্রজন্ম, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল নামের একটি সংগঠন।

এসময় তারা বলেন, আদালতের রায়ের পরও আন্দোলনের নামে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারগুলোকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রোল করা হচ্ছে।

বুধবার (১২ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খা হলে ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল, অপুরচার ও বাস্তবতা’ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও প্রজন্ম, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও প্রজন্ম, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি ও কোটার পক্ষে রিট কারী অহিদুল ইসলাম তুষার।

এসময় তিনি বলেন, এদেশে নানা বৈষম্যর কারণে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। তবে এখন সরকারি চাকরির নিয়োগে এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে যেখানে যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছে, তাদের যে প্রজন্ম তাদের জন্য শুধু মাত্র চতুর্থ শ্রেণীর চাকরিদেবার জন্য কোঠা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী হিসেবে চাকরি দিতে চাচ্ছে একটি গোষ্টি। মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের প্রথম শ্রেনীর কর্মচারী হিসেবে দেখতে চায় না সেই গোষ্ঠি। কোটা আন্দোলনের পর যখন কোটা ব্যবস্থা বন্ধ নিয়ে আদালতে রায় দেয়া হয়েছিল, তখন আমরা আমাদের পক্ষ থেকেও আদালতে যাওয়া হয়।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আদালতে রায়ের পর ২০১৮ সালে ৪ অক্টোবর ৯ম-১৩তম গ্রেড এবং ২০২০ সালে ১ম-৮ম গ্রেডে কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তখন মিডিয়ায় প্রচার করা হয় শুধু ১ম ও ২য় শ্রেণির পদে কোটা বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু পরিপত্রে দেখা গেলো ১ম, ২য় এবং তৃতীয় শ্রেণির ৩টি গ্রেড ১১,১২,১৩তম পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। কেননা ১ম শ্রেণি শুধু ৯ম গ্রেড, ২য় শ্রেণি শুধু ১০ম গ্রেড এবং তৃতীয় শ্রেণি ১১-১৬তম গ্রেড ও চতুর্থ শ্রেণি ১৭-২০তম গ্রেড। অর্থাৎ ১ম ও ২য় শ্রেণির কথা বলে ৩য় শ্রেণির আংশিক কিছু পদে কোটা বাতিলের কারণ খুব পরিকল্পিত কারণ। তৃতীয় শ্রেণির এ গ্রেড গুলোতে জনবল সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হয়, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক যাতে সরকারি চাকরিতে বৃদ্ধি না পায় সে জন্য এ শ্রেণি গুলোতেও মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করা হয়।

তিনি বলেন, যারা কোটার বিপক্ষে ছিলেন সেটা ছিল তাদের আন্দোলন, এখানে আমাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু আমরা যারা কোটার পক্ষে আমরা আমাদের দাবি নিয়ে আদালতে যাই। আদালত আমাদের বিষয়েও রায় দিয়েছে। কিন্তু তারপরও যারা এই কোটার জন্য আদালতের রায়ের পরও আন্দোলন করছে তারা আদালতের রায়ের প্রতি অবমাননা করছে। রায় হবার পরও কেন আন্দোলন হবে। এখানে সুপরিকল্পিত ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের পেছনে একটি গোষ্টি কাজ করছে।

তিনি আরো বলেন, কোটা প্রথা কখনই বৈষম্যময় নয়। আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা আছে যে, কোটা প্রথায় যারা চাকরি নেয় তাদের কোন প্রকার মেধা যাচাই ছাড়া চাকরি দেয়া হয়, এই ধারণাটি ভুল। কোটায় যারা চাকরি নেন তাদের অন্য সকল চাকরির প্রার্থীর মত মেধা যাচাই করা হয়। অন্য কোন কোটা থাকলে সমস্যা নেই, শুধু সমস্যা মুক্তিযুদ্ধ কোটায়।

সংবাদ সম্মেলনের এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা জামালউদ্দিন সরকার, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল হক।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ