কোটা বাতিলের দাবিতে জবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, জুলাই ৬, ২০২৪ ২:০৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, জুলাই ৬, ২০২৪ ২:০৬ অপরাহ্ণ

জবি প্রতিনিধি
সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিল করে জারি করা ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল রাখার দাবিতে ক্লাস এবং পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনের সাথে একাত্মতা পোষণ করেছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৬টি বিভাগ ও ২টি ইন্সটিটিউটের মধ্যে ৩৪টি বিভাগের ১১৫টি ব্যাচ ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে একাত্মতা পোষণ করেছে। পরবর্তীতে এ সংখ্যা আরো বাড়বে। ক্লাস পরীক্ষা বর্জনকারী বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে গণ যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ব্যাচ (১৬,১৭ ও ১৮), ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের ব্যাচ(১৬,১৭ ও ১৮), আইন বিভাগের -ব্যাচ (১৫,১৬,১৭ ও ১৮), মার্কেটিং বিভাগের ব্যাচ(১৭,১৮), দর্শন বিভাগের ব্যাচ (১৭,১৮), সমাজকর্ম বিভাগের ব্যাচ(১৮), আই.ই.আর বিভাগের (১৪,১৬,১৭ ও ১৮), গণিত বিভাগের ব্যাচ(১৮), রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ব্যাচ (১৬,১৭,১৮), ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ব্যাচ (১৫,১৬,১৭ ও ১৮)।
এছাড়া রয়েছে আই.এম.এল বিভাগের ব্যাচ(১৪,১৫,১৬,১৭ ও ১৮), ইতিহাস বিভাগের (১৪,১৫,১৬,১৭ ও ১৮), পদার্থবিদ্যা বিভাগের ব্যাচ (১৭), লোক প্রশাসন বিভাগের ব্যাচ (১৭,১৮), নৃবিজ্ঞান বিভাগের ব্যাচ(১৬,১৭ ও ১৮), হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যাবস্থাপনা বিভাগের ব্যাচ(১৭ ও ১৮), পরিসংখ্যান বিভাগের ব্যাচ (১৬,১৭,১৮), সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ব্যাচ(১৬), ইংরেজি বিভাগের ব্যাচ(১৫,১৬), রসায়ন বিভাগের ব্যাচ (১৪,১৫,১৬,১৭,১৮), ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ব্যাচ(১৪,১৫,১৬,১৭,১৮),উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ব্যাচ(১৫,১৬,১৭,১৮),প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ব্যাচ ( ১৭ ও ১৮)। মনোবিজ্ঞান বিভাগের (১৭,১৮) ব্যাচ, বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের (১৬,১৭,১৮) ব্যাচ, ফার্মেসী বিভাগের ১৮ ব্যাচ, কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের (১৭) ব্যাচ, ফাইন আর্টস (১৮ ব্যাচ), ড্রইং এন্ড পেইন্টিং (১৫ ব্যাচ)। সংগীত বিভাগের (১৮ ব্যাচ) সহ আরো অন্যান্য ব্যাচ।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরলেও ছাত্ররা ফিরবে না। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। ছাত্রসমাজের ক্লাসরুম হবে পুরান ঢাকার উত্তাল রাজপথ।
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমি মনে করি একটি স্বাধীন জাতি কখনো বৈষম্যের শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকতে পারে না। তাই আমরা ছাত্র জনতা এক হয়ে আন্দোলন করে যাবো,যতদিন পর্যন্ত আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হয়।আমরা আশা করি,সরকার আমাদের কোটা সংস্কার দাবি শীঘ্রই মেনে নিবে।
প্রসঙ্গত, গত ৫ জুন সরকারি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাসহ অন্য কোটা বাতিল করে জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। তার প্রেক্ষিতেই গত ১জুলাই থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল ও ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে রাজপথে টানা আন্দোলন করে যাচ্ছে শিক্ষার্থী।
জনতার আওয়াজ/আ আ