খুনের আসামি কিভাবে জামিন পায়? প্রশ্ন শহীদ পরিবারের - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:৩৮, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

খুনের আসামি কিভাবে জামিন পায়? প্রশ্ন শহীদ পরিবারের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, অক্টোবর ৯, ২০২৪ ৬:১০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, অক্টোবর ৯, ২০২৪ ৬:১০ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস ও আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের উদ্দেশ্যে খুন, গুম হওয়া পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, আপনাদের কাছে জানতে চাই, যে হাত আজকে এতো রক্তে রঞ্জিত সে কিভাবে জেল থেকে বের হয়ে আসে? কিভাবে ৬/৭ টা হত্যার আসামিকে একদিনের মধ্যে জামিন দেয়া হয়? এটা কী আমরা মেনে নিতে পারি? এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।

বুধবার (৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘খুন ও গুমের শিকার শহীদ পরিবার’ এর ব্যানারে আয়োজিত হয় এই মানববন্ধন। এসময় সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর ফাঁসির দাবি জানান ‘খুন ও গুমের শিকার শহীদ পরিবার’।

সাবেক এই মন্ত্রীর জামিনের পর তার ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করছে শহীদ পরিবারের সদস্যরা। তারা বলেন, আমরা সাবের হোসেন চৌধুরীর ফাঁসি দেখতে চাই। এর জন্য আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে বলতে চাই সাবের হোসেনকে আবার গ্রেপ্তার করা হোক। তাহলে আমরা ভাববো আপনারা নিরপেক্ষ সরকার।

অনুষ্ঠানের সভাপতি খিলগাঁও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান জনির বাবা ইয়াকুব আলী বলেন, আমার ছেলে কী অপরাধ করছিলো যে তাকে মেরে ফেলতে হলো ? আমার ছেলে রাজপথ কাঁপানো আন্দোলন করতো এটা উনার (সাবের হোসেন চৌধুরী) সহ্য হয়নি। এই জন্য আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার ছেলের হত্যাকারী (সাবের হোসেন চৌধুরী) পাঁচদিনের রিমান্ড থাকার পরও কিভাবে কারামুক্ত হয়ে যায়? আমার সন্তানের হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমি রাজপথে থাকবো।

তিনি আরও বলেন, আমি এই সরকারের কাছে জানতে চাই আপনারা কার নির্দেশে চলছেন? আমরা জানতে চাই কিভাবে সে কারামুক্ত হয়ে গেলো? প্রয়োজনে আমরা আবার এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবো। আপনারা যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন তখন আমরা ভেবেছিলাম আমরা বিচার পাবো। কিন্তু আপনারা এটা কোন বিচার করলেন? আমরা চাই আবার তার কারাদণ্ড দেয়া হোক। তার ফাঁসি কার্যকর করা হোক।

সমাজকর্মী ইউনুস মৃধা বলেন, আমরা যে আশা নিয়ে স্বপ্ন নিয়ে এই সরকারের সমর্থন দিয়েছি, কিন্তু সাবের হোসেন চৌধুরীকে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকা দিয়ে জামিন দেয়া হলো। একটি স্বাধীন দেশে এটা কিভাবে সম্ভব? আমাদের বহু নেতা, ছাত্র-নেতাকে তিনি হত্যা করেছেন। আর কত মানুষ হত্যা হলে সাবের হোসেন চৌধুরীকে খুনি হিসেবে গণ্য করা হবে?

তিনি বলেন, আমরা ১৭ বছর গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছি, আইনের শাসনের জন্য রক্ত দিয়েছি। আজকেই আইনের যে অবস্থা এটা কিসের আলামত? এই সাবের হোসেন চৌধুরীকে জামিন দেয়ার মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিসের আলামত দিতে চাচ্ছেন?

প্রধান উপদেষ্টা ও আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমরা প্রধান উপদেষ্টা ও আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের কাছে জানতে চাই, যে হাত আজকে এতো রক্তে রঞ্জিত সে কিভাবে জেল থেকে বের হয়ে আসে? কিভাবে ৬/৭ টা হত্যার আসামিকে একদিনের মধ্যে জামিন দেয়া হয়? এটা কী আমরা মেনে নিতে পারি? এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে মাসুদ আহমেদ মিলন নামের বিএনপির কর্মী বলেন, খুনের মামলার আসামি যদি দুই দিনে বের হয়ে যায় তাহলে বাকি খুনিরাও একই রেফারেন্স দিবে। তিন খুনের আসামিকে আপনারা কিভাবে মুক্তি করে দিলেন? আপনারা সাবের হোসেনকে ভদ্রলোক ভাববেন না। আপনারা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। নাহলে আমরা ১৬ বছর আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছি। এখনো চালিয়ে যাবো। আপনাদের বিরুদ্ধেও আন্দোলন করতে বাধ্য হবো।

উল্লেখ্য, সাবের হোসেন চৌধুরী সর্বশেষ সংসদে রাজধানীর খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। পালন করছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ