গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে গণতন্ত্রে আস্থা হারাবে জনগণ: জামায়াত আমির - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৮:৫৫, সোমবার, ২০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৬ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে গণতন্ত্রে আস্থা হারাবে জনগণ: জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, জুলাই ১৯, ২০২৬ ১০:৪৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, জুলাই ১৯, ২০২৬ ১০:৪৫ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত

গণভোটের রায় বাস্তবায়িত না হলে জনগণ গণতন্ত্র ও নির্বাচনি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা হারাবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের ধিক্কারের পাত্র বিরোধীদল হতে চায় না। এ দায়িত্ব আমরা নেবো না। এজন্যই আমাদের লড়াই, আমাদের সংগ্রাম।

রবিবার (১৯ জুলাই) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজিত ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার স্বাধীন বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও নির্বাচন কমিশন চায় না। তারা আগের ফ্যাসিবাদী ধারায় সবকিছু রাখতে চায়। এজন্যই গণভোটের রায় মানতে চায় না। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এ রায় বাংলার মাটিতে বাস্তবায়ন হবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, জনগণকে অপমান করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। ৭০ শতাংশ মানুষ যে রায় দিয়েছে, আল্লাহর রহমতে তা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। আমরা সংসদে ও রাজপথে লড়াই করব। সংসদে দাবি আদায় হলে আলহামদুলিল্লাহ, আর না হলে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।

জামায়াত আমির বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কোনও টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না। আমাদের অনেক লোভ দেখানো হয়েছে, কিন্তু আমরা তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছি। জনগণের সঙ্গে আমরা বেইমানি করব না, তাদের রায়কে অপমান করব না। যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে জনগণ গণতন্ত্র ও নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা হারাবে। সেই ধিক্কারের পাত্র বিরোধীদল হতে চায় না।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এখন স্বৈরশাসকদের ভাষায় কথা বলছে। তাদের অনুসারীরাও মানুষের সম্মান নিয়ে খেলছে। ‘আবার সেই ফ্যাসিবাদ’—মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর গণরুম বা গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরে আসতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণরুম ও গেস্টরুমের কবর হয়ে গেছে চব্বিশে। কেউ এটি ফিরিয়ে আনতে চাইলে তাকেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে আর এ সংস্কৃতি চলবে না।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো রাজনৈতিক অপচর্চামুক্ত হয়নি। রাজনৈতিক বিবেচনায় এখনো অনেক কিছু করা হচ্ছে। আমরা চুপচাপ আছি বলে মনে করবেন না যে ঘুমিয়ে গেছি। আমরা সতর্ক আছি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের স্বার্থের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। দেশীয়, আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক—কোনও অপশক্তির কাছেই মাথা নত করা হবে না। যুবসমাজের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়তে জীবনের বাকি সময় উৎসর্গ করার অঙ্গীকারও করেন তিনি।

এ সময় জামায়াতের সেক্রেটারি ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ কামাল হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমসহ জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় এবং মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে জামায়াত আমির ডাকসুর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত করেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ