চট্টগ্রাম-১৫ আসন: প্রার্থী দেয়নি বিএনপি, শক্তিশালী অবস্থানে জামায়াত - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৫:২০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম-১৫ আসন: প্রার্থী দেয়নি বিএনপি, শক্তিশালী অবস্থানে জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, নভেম্বর ৩০, ২০২৫ ২:৫৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, নভেম্বর ৩০, ২০২৫ ২:৫৪ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৫ আসন। এই আসনে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী এরই মধ্যে নির্বাচনি প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অন্যদিকে এখন পর্যন্ত প্রার্থী ঘোষণা না করলেও আসনটি উদ্ধারে তোড়জোড় শুরু করেছে বিএনপি। বিগত ১৬ বছরের নির্যাতনের অবসানের পর নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সাংগঠনিক কার্যক্রম তারা অব্যাহত রেখেছে। সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে সভা-সমাবেশে সরব উপস্থিতি দেখা গেছে দলটির নেতা-কর্মীদের।

আসনটিতে বিএনপি থেকে মনোনয়নের দৌড়ে আছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন, মুজিবুর রহমান, সদস্য অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন ও নাজমুল মোস্তফা আমিন।

এদিকে নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থী দেওয়া নিয়ে বিভিন্ন তথ্য বেরিয়ে আসছে। বিএনপির অনেকেই মনে করেন, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীকে হারাতে পারে এমন হেভিওয়েট প্রার্থী ঘোষণা করা না হলে এই আসনটি উদ্ধার করা বিএনপির জন্য কষ্টকর হয়ে পড়বে। অন্যদিকে সম্প্রতি গুঞ্জন উঠেছে বিএনপি এই আসনটি তাদের শরিক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এলডিপি) ছেড়ে দিতে পারে।

অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আব্দুল মাবুদ ও দীপংকর বড়ুয়া সানীসহ বেশ কয়েকজন মনোনয়ন সংগ্রহ করে নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিয়েছেন। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ও জাতীয় পার্টিসহ বাম এবং অন্যান্য ইসলামি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী কিংবা নেতা-কর্মীদের তেমন কর্মকাণ্ড চোখে পড়ছে না। মূলত এই আসনটিতে বিএনপিসমর্থিত ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য নাজমুল মোস্তাফা আমিন বলেন, ‘আমি শুরুতে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। পরে বিএনপির অন্যান্য অঙ্গ সংগঠন ও লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছিলাম। আমি দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে ছিলাম। ফলে একাধিক মামলার আসামি হয়েছি। দলের হাইকমান্ড যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে আমি অবহেলিত সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করব।’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘বিএনপি ২০১৮ সালে আমাকে একবার মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু পরে জোটের প্রার্থী হিসেবে আসনটি জামায়াতে ইসলামীকে ছেড়ে দেয়। ২০১৭ সালে ঢাকা থেকে আমাকে একবার গুম করা হয়েছিল। এ ছাড়াও দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিয়ে জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। দল যদি এবার আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে এলাকার সব সমস্যা সমাধানে কাজ করব।’

দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম-১৫ আসনে বিএনপি থেকে যারা মনোনয়নপ্রত্যাশী আছেন আমি তাদের সবার থেকে অনেক এগিয়ে আছি। বিগত হাসিনার আমলে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৩৬টি মামলা হয়েছে। তবুও আমি দমে যাইনি। সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে কাজ করে গেছি। ধানের শীষ প্রতীকে আমি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি শতভাগ আশাবাদী দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।

জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘আমি আগেও দুইবার সংসদ সদস্য ছিলাম। সে সময় এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। এই এলাকাকে শান্তির জনপদে পরিণত করেছি। তাই মানুষ শান্তি ও কল্যাণের জন্য আমাকে নির্বাচিত করবে- এটাই আমার প্রত্যাশা।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ