চট্টগ্রাম-১৬ কোন্দল-শরিক দলের প্রত্যাশার চাপে বিএনপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৭:৪৯, শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম-১৬ কোন্দল-শরিক দলের প্রত্যাশার চাপে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, নভেম্বর ২৮, ২০২৫ ১০:৩৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, নভেম্বর ২৮, ২০২৫ ১০:৩৯ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে ভোটের মাঠের সমীকরণ জটিল হতে শুরু করেছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে রূপ নেয়। প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে অর্ধলক্ষাধিক নেতা-কর্মী জড়ো করে আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী বিশাল সমাবেশ করেন। হুঁশিয়ারি দেন, প্রার্থী পরিবর্তন করা না হলে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোটে লড়বেন। বিএনপির শরিক দল এলডিপি আবার এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চায়। তাদের প্রত্যাশা, যেহেতু এখানে বিএনপির মধ্যে গ্রুপিং তৈরি হয়েছে, সে ক্ষেত্রে আসনটি এলডিপিকে ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে। বিএনপির সহযোগিতায় তারা এখানে জিততে পারবে। একদিকে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল অন্যদিকে তাদের কাছে শরিক দলের প্রত্যাশা- রাজনীতির এই সমীকরণকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে জামায়াত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসনটিতে শুরুর দিকে বিএনপির ডজনখানেক মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তারা সবাই জানিয়েছিলেন- দল যাকে মনোনয়ন দেবে সবাই তার পক্ষে কাজ করবেন। কিন্তু প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পাকে প্রার্থী ঘোষণা করা হলে দৃশ্যপট বদলে যায়। মনোনয়নবঞ্চিত গন্ডামারা ইউপি চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক লেয়াকত আলী প্রকাশ্যে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন।

গত ২২ নভেম্বর বাঁশখালী জলদী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সমাবেশ করে ঘোষণা দেন, প্রার্থী পরিবর্তন করে তাকে ধানের শীষ দেওয়া না হলে তিনি স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন। দেখিয়ে দেবেন তার জনপ্রিয়তা কেমন। এ ছাড়া প্রার্থী ঘোষণার পর তার সমর্থকরা প্রতিবাদ হিসেবে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা আশিকুর রহমানও প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানান।

বিএনপির শরিক দল এলডিপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরীও তার নেতা-কর্মীদের নিয়ে ভোটের মাঠে সরব রয়েছেন। আসনটির জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপির সঙ্গে দরকষাকষি চলছে বলে জানা গেছে।

সার্বিক বিষয়ে চট্টগ্রাম-১৬ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, ‘বিএনপি যেহেতু বড় দল কিছুটা মান অভিমান থাকবেই। শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের প্রার্থীকে জেতাতে সবাই ভেদাভেদ ভুলে কাজ করবেন।’

স্বতন্ত্র ভোট করার হুঁশিয়ারি দেওয়া বিএনপি নেতা লেয়াকত আলী বলেন, ‘আন্দোলন-সংগ্রামে আমিই মাঠে ছিলাম। ৪৩টি মামলা খেয়েছি। হামলার শিকার হয়েছি। জনপ্রিয়তার দিক দিয়েও আমি এগিয়ে। তারপরও মামা-খালু না থাকায় আমি মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছি। নেতা-কর্মীরা চান আমি প্রার্থী হই। তা ছাড়া বাঁশখালীতে আমার বিকল্প নেই।’

বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই মাওলানা জহিরুল ইসলামকে এই আসনে দলটি প্রার্থী ঘোষণা করে। এরপর থেকেই নেতা-কর্মীরা তার পক্ষে নির্বাচনি প্রচারের কাজ করে যাচ্ছেন।

জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁশখালীতে আমি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। দুই মেয়াদে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলাম। এই উপজেলায় জামায়াতের আলাদা ভোটব্যাংক রয়েছে। তা ছাড়া জামায়াতের নেতৃত্বে ইসলামী শক্তির আটদলীয় জোট গঠিত হয়েছে। সব মিলিয়ে আমরা বিজয় অর্জন করব ইনশাআল্লাহ।’

এই আসনে নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছেন এলডিপির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরী, মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুছা বিন ইজহার, ইসলামী আন্দোলনের হাফেজ মাওলানা ফরিদ আহমদ আনসারী এবং ইসলামী ফ্রন্ট তথা সুন্নি জোটের মহিউল আলম চৌধুরী।

এলডিপির প্রার্থী কফিল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামের দীর্ঘ সময়ের সঙ্গী এলডিপি। সে হিসেবে চন্দনাইশ, কুমিল্লার মতো বাঁশখালী আসনটি এলডিপিকে ছেড়ে দিতে দাবি করা হয়েছে। আশা করি, খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে। এর বাইরেও আমি প্রতিদিন এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় যাচ্ছি। জনগণের প্রচুর সাড়া পাচ্ছি। কোনো ধরনের সমঝোতা না হলে আমি নির্বাচনে অংশ নেব।’

জানা গেছে, জাতীয় পার্টির মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী এবং স্বতন্ত্র মুজিবুর রহমান সিআইপি প্রার্থী হলে ভোটের হিসাব পাল্টে যেতে পারে। তারা ছাড়া নির্বাচন হলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মূল লড়াই হবে বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ