চলমান বিভাগীয় গণসমাবেশ গুলোতে প্রতিবন্ধকতা কাটাতে আরও কৌশলী বিএনপি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, অক্টোবর ৩১, ২০২২ ২:১৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, অক্টোবর ৩১, ২০২২ ২:৫০ অপরাহ্ণ

চলমান বিভাগীয় গণসমাবেশগুলোতে প্রতিবন্ধকতা কাটাতে নানামুখী বিকল্প কৌশল গ্রহণ করছে বিএনপি। এরই মধ্যে বাধাবিঘ্ন ডিঙিয়ে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা ও রংপুর বিভাগীয় গণসমাবেশ ‘সফল’ করায় চাঙ্গা দলটির নেতাকর্মীরা। আগামী সমাবেশগুলোতে আরও ব্যাপক লোকসমাগম ঘটাতে চায় বিএনপি। ক্ষমতাসীন দলের বাধা উপেক্ষা করে এসব সমাবেশে জনসমাগম অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আরও আশান্বিত দলটির হাইকমান্ড।
দলীয় সূত্র জানায়, ক্ষমতাসীন দল, প্রশাসন ও গণপরিবহন বাধা মোকাবিলা করতে ‘গোপন’ কৌশল নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। যদিও গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে এসব বিষয়ে তাঁরা কথা বলছেন না। সমাবেশে দূর-দূরান্তের জেলা থেকে বেশি নেতাকর্মী আনার চেয়ে সংশ্নিষ্ট বিভাগীয় মহানগরের ও আশপাশের জেলার তৃণমূল নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষকে উপস্থিত করার ওপর বেশি গুরুত্ব দেবে দলটি। একই সঙ্গে গণপরিবহন ধর্মঘটের আগেই বেশিরভাগ নেতাকর্মী ওই সব সমাবেশে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি নিজস্ব কিংবা ভাড়ায় ছোট ছোট পরিবহন আগাম ভাড়া করে রাখছেন। অনেকে তিন-চার দিন আগেই আত্মীয়স্বজন, বন্ধুদের বাসাবাড়িতে, মেসে থাকার বন্দোবস্ত করে ছুটে আসছেন।
সূত্র জানায়, বিভাগীয় জেলার বেশিরভাগ নেতাকর্মী যাতে উপস্থিত থাকেন, সে জন্য প্রতিটি থানা, উপজেলা, পৌর এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ে কর্মিসভা, প্রস্তুতি সভার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে দলটির হাইকমান্ড। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যাতে সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ম্ফূর্তভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেন, সে বিষয়টিও প্রাধান্য দিচ্ছেন নেতাকর্মীরা। একেবারে তৃণমূল পর্যন্ত ছুটে চলছেন তাঁরা। পথসভা, লিফলেট বিতরণের মতো কর্মসূচিতেও সাড়া ফেলছেন। এতে নেতাকর্মীরা যেমন উজ্জীবিত, তেমনি সাধারণ মানুষের কাছাকাছিও যেতে পারছে দলটি। এসবের মধ্য দিয়ে দলটির বিভিন্ন স্তরে একটা চাঙ্গা ভাব সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে কর্মসূচিতে কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও বাড়ছে। আর এটিকেই প্রাধান্য দিতে চাচ্ছেন শীর্ষ নেতারা।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শত প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেও গণসমাবেশে জনস্রোত ঠেকাতে পারেনি সরকার। সমাবেশে লাখো মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে, খালেদা জিয়ার প্রতি তাঁদের ভালোবাসা ও সমর্থন। বিভাগীয় গণসমাবেশের মাধ্যমে নেতাকর্মীরা আরও উজ্জীবিত।
তাঁরা লক্ষ্য পূরণে আশা দেখাচ্ছেন।
জ্বালানি তেল ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে জন-ইস্যুতে গত জুলাই থেকে আন্দোলন করে আসছে বিএনপি। সারাদেশে জেলা, মহানগর, থানা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও এ কর্মসূচি পালন করেন দলটির নেতাকর্মীরা। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা ও রংপুর বিভাগে গণসমাবেশ করা হয়। শত বাধাবিপত্তি পেরিয়ে এসব সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে বিএনপিতে। দলটি এখন আরও আত্মবিশ্বাসী। গণসমাবেশ সফল করায় ওই সব বিভাগের নেতাকর্মীদের অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দলটির সিনিয়র নেতারা জানান, সামনে তাঁদের আরও পাঁচটি গণসমাবেশ ও ঢাকায় মহাসমাবেশ কর্মসূচি রয়েছে। এর মধ্যে আগামী ৫ নভেম্বর বরিশাল, ১২ নভেম্বর ফরিদপুর, ১৯ নভেম্বর সিলেট, ২৬ নভেম্বর কুমিল্লা, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী ও ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় এ কর্মসূচি রয়েছে। এসব সমাবেশেও সরকার বিভিন্ন কায়দায় বাধা দিতে চাইবে। এরই মধ্যে আগামী ৫ নভেম্বর ঘোষিত বরিশাল গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা যাতে কোনো আবাসিক হোটেলে উঠতে না পারেন, সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে হয়তো নৌপরিবহনও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা জানান, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগীয় গণসমাবেশে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক। তাঁদের ধারণারও বাইরে এসব সমাবেশে হাজারো বাধা উপেক্ষা করে যে হারে একেবারে সাধারণ জনগণ অংশ নিয়েছেন, তাতে তাঁরা আশান্বিত। সামনের কর্মসূচিতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে এবং আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তাঁরা। এটাকে ধরে রাখতে কেন্দ্র থেকে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কর্মসূচির আগে ও পরে দলটির সমন্বিত পরিকল্পনা দলকে শক্তিশালী করছে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, বিএনপির সমাবেশগুলোতে বাধা দিয়ে সরকারের লাভের চেয়ে লোকসান বেশি হচ্ছে। নেতাকর্মীরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে সমাবেশগুলো সফল করছেন। পাশাপাশি সারাদেশের মানুষ ও গণমাধ্যমের দৃষ্টিও সমাবেশগুলোর প্রতি বেড়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে তাঁরা সমাবেশগুলোতে আরও বেশি লোকসমাগম ঘটাতে নানা কৌশল গ্রহণ করছেন। কোনো বাধাই কাজে আসবে না বলেও জানান তিনি।
দলটির নেতাদের দাবি, বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে একটি জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে সব ভেদাভেদ ও কোন্দল ভুলে কর্মসূচি বাস্তবায়নে একাট্টা হয়েছেন। খুলনায় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু যেমন দীর্ঘদিনের রাগ-ক্ষোভ ভুলে নিজের অনুসারীদের নিয়ে সমাবেশে অংশ নিয়েছেন, তেমনি বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ নেতা মজিবর রহমান সরোয়ারও সমাবেশ সফল করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। এরই মধ্যে নিজের অনুসারীদের নিয়ে কর্মিসভা করেছেন, বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
নেতারা আরও জানান, সারাদেশে কর্মসূচিতে হামলা-মামলার পরও সভা-সমাবেশে উপস্থিতি বাড়ছে। অনেক স্থানে হামলার জবাবে পাল্টা হামলা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন তাঁরা। মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পাশে দলের হাইকমান্ড রয়েছে। আহতদের চিকিৎসা, আর্থিক সহযোগিতা এমনকি সুদিন এলে তাঁদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দেওয়ায় নেতাকর্মীরা ভরসা পাচ্ছেন।
বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জানান, তাঁদের হারানোর কিছু নেই। তাই নিজেদের শুধু অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই নয়; দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবার তাঁরা মরণপণ যুদ্ধে নেমেছেন। যতই বাধা আসুক, কোনো কাজ হবে না। জনগণ রাস্তায় নেমে গেছে। তাঁদের প্রস্তুতিও তেমন। বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে রাত-দিন একাকার করে পথসভা, লিফলেট বিতরণ, কর্মিসভা, প্রস্তুতি সভা চলছে।
জনতার আওয়াজ/আ আ