ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে ঘিরে রাঙামাটিতে ১৪৪ ধারা জারি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, মে ৪, ২০২৬ ৫:৫৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, মে ৪, ২০২৬ ৫:৫৮ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
রাঙামাটিতে জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিবদমান দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় বিএনপি কার্যালয় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সময় দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। মাঠে নামানো হয় সেনাবাহিনী।
সোমবার (৪ মে) বিকেল ৩টার দিকে শহরের জেলা বিএনপি কার্যালয় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রায় ঘণ্টাব্যাপী দুই পক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
এর আগে রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে ঘিরে আনন্দ মিছিল এবং পদবঞ্চিতদের প্রতিরোধের ঘোষণার মধ্যে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হলে শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নতুন কমিটির নেতা-কর্মীরা পদবঞ্চিতদের ধাওয়া দিয়ে বিএনপি অফিসের নিয়ন্ত্রণ নেন। মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোটা এলাকা। বন্ধ হয়ে পড়ে সড়ক যানবাহন চলাচল ও আশপাশের দোকানপাট। সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাঙামাটি পৌরসভা এলাকা, কাঠালতলী ও বনরূপা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। পরে সেনাবাহিনী এসে এলাকা ফাঁকা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে স্বস্তি ফিরে আসে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে টহল দিচ্ছে।
জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটির সভাপতি অলি আহাদ বলেন, ‘দীর্ঘ ৮ বছর পর জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা হয়েছে। এই কমিটিতে পদবঞ্চিতদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম অস্বীকার করছি না। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তাদেরও যথাযথ স্থান দেওয়া হবে।’
রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে। জানমালের নিরাপত্তা রক্ষার্থে জেলা প্রশাসন থেকে রাঙামাটি পৌরসভা এলাকা, কাঠালতলী ও বনরূপা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। মাঠে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী কাজ করছে।’
এর আগে নতুন কমিটির পদবঞ্চিতরা রবিবার (৩ মে) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ঘোষিত কমিটিতে বিতর্কিত, অপহরণে জড়িত, চাঁদাবাজ ও বিবাহিত ব্যক্তিদের টাকা ও উপহারের মাধ্যমে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। এই কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি ঘোষণা না দিলে হরতালের হুমকি দেন তারা। পরে দলীয় নেতাদের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করলে আড়াই ঘণ্টা পর সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
রবিবার (২ মে) রাতে মো. অলি আহাদকে সভাপতি, নাঈমুল ইসলাম রনিকে সাধারণ সম্পাদক এবং গালিব হাসানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে জেলা ছাত্রদলের ২৩ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
জনতার আওয়াজ/আ আ