জাগদল ও জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট থেকে বিএনপি : পথচলার ৪৭ বছর - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:০৬, শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জাগদল ও জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট থেকে বিএনপি : পথচলার ৪৭ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৮, ২০২৫ ৫:১০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৮, ২০২৫ ৫:১০ অপরাহ্ণ

 

মোঃ আব্দুল আজিজ
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একদল সদস্য সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত করে এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ধানমন্ডি ৩২-এর বাসভবনে সপরিবারে হত্যা করে। পরে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ থেকে ৬ নভেম্বর ১৯৭৫ পর্যন্ত খন্দকার মোশতাক আহমেদ অঘোষিতভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদে আসীন হন।

শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা বিরাজ করে। তিনটি সেনা-অভ্যুত্থান আর ঘাত-প্রতিঘাতে দেশে এক অনিশ্চয়তা নেমে আসে। এমন এক সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে আবির্ভাব ঘটে সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান এর।

রাষ্ট্র ক্ষমতায় গণমানুষের অংশীদারিত্ব ও গণতন্ত্রায়নের জন্য ১৯৭৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠা করা হয় জাগদল। যার চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি আবদুস সাত্তার। জাগদল রাজনীতিতে সাড়া ফেলতে পারেনি। পরবর্তীতে জাগদল বাদ দিয়ে ১৯৭৮ সালের ১ মে গঠিত হয় গঠিত হয় জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট । জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান হন জিয়াউর রহমান। ৩০ এপ্রিল ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠাতার লক্ষ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন এবং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের একটি রূপরেখা দেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন এগিয়ে আসলে জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন। জাগদলকে বিএনপির সাথে একীভূত করা হয়। রাষ্ট্রপতি জিয়া এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন এবং এই দলের প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির প্রথম মহাসচিব ছিলেন অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী । জিয়াউর রহমানের এই দলে বাম, ডান, মধ্যপন্থি সকল প্রকার লোক ছিলেন।

১৯৭৮ সালের ২৮ আগষ্ট ‘বিচারপতি সাত্তার জাতিয়তাবাদী ফ্রন্টের অন্যতম শরিক জাগদল বিলুপ্তি ঘোষণা করেন।১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় রমনা রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যাত্রা শুরু করেন। জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণাপত্র পাঠ ছাড়াও প্রায় দুই ঘণ্টা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সংবাদ সম্মেলনে নতুন দলের আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রথমে ১৮ জন সদস্যের নাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ওই ১৮ জনসহ ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন।

বিএনপির গঠনতন্ত্র তৈরির প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন নয়জন । তাদের মধ্যে জিয়াউর রহমান ছাড়া যুক্ত ছিলেন বিচারপতি সাত্তার, নাজমুল হুদা, মওদুদ আহমদ এবং ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী অন্যতম।

জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট ছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গ্রুপের একটা প্ল্যাটফর্ম। তাঁদের একতার একটাই ভিত্তি ছিল, তারা সবাই ছিলেন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এককাট্টা। নানান মত ও পথের এ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট নিয়ে জিয়াউর রহমান স্বস্তিতে ছিলেন না। তিনি ‘একমনা’ লোকদের নিয়ে আলাদা দল তৈরির সিদ্ধান্ত নিলেন।

দল তৈরির জন্য যাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছিল, তাঁদের অন্যতম ছিলেন তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী। তিনি দলের নাম ‘জাস্টিস পার্টি’ রাখার প্রস্তাব করেন। নামটি কিছুটা পানসে হওয়ায় সেটি গ্রহণযোগ্য হয়নি। দলের নামের সাথে জাতীয়তাবাদী থাকাটা জরুরী ছিল। শেষমেশ স্থির হয়, দলের নাম হবে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’। জিয়াউর রহমান নিজেই দলের নামকরণ করেছিলেন।

জিয়াউর রহমান ইতোমধ্যে রাজনীতিবিদদের যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছিলেন। প্রথম দিকে তিনি যাঁদের সাথে কথাবার্তা বলা শুরু করেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ভাসানী-ন্যাপের সভাপতি মশিউর রহমান যাদু মিয়া।পরবর্তীতে দল গঠনের জন্য যাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছিল, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী। তিনি দলের নাম ‘জাস্টিস পার্টি’ রাখার প্রস্তাব করেন। নামটি কিছুটা পানসে হওয়ায় সেটি গ্রহণযোগ্য হয়নি। দলের নামের সাথে জাতীয়তাবাদী থাকাটা জরুরী ছিল। শেষমেশ স্থির হয়, দলের নাম হবে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’। জিয়াউর রহমান নিজেই দলের নামকরণ করেছিলেন।

নিচে দলের প্রথম আহ্বায়ক কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেয়া হলো :

আহ্বায়ক : জিয়াউর রহমান।
সদস্য : ১. বিচারপতি আবদুস সাত্তার
২. মশিউর রহমান যাদু মিয়া
৩. মোহাম্মদউল্লাহ
৪. শাহ আজিজুর রহমান
৫. ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল হালিম চৌধুরী
৬. রসরাজ মন্ডল
৭. আবদুল মোনেম খান
৮. জামাল উদ্দিন আহমেদ
৯. ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী
১০. মির্জা গোলাম হাফিজ
১১. ক্যাপ্টেন (অব.) নুরুল হক
১২. সাইফুর রহমান
১৩. কে এম ওবায়দুর রহমান
১৪. মওদুদ আহমেদ
১৫. শামসুল হুদা চৌধুরী
১৬. এনায়েতুল্লাহ্‌ খান
১৭. এসএ বারী এটি
১৮. ড. আমিনা রহমান
১৯. আবদুর রহমান
২০. ডা. এম এ মতিন
২১. আবদুল আলিম
২২. ব্যারিস্টার আবুল হাসনাত
২৩. আনোয়ার হোসেন মঞ্জু
২৪. নুর মোহাম্মদ খান
২৫. আবদুল করিম
২৬. শামসুল বারী
২৭. মুজিবুর রহমান
২৮. ডা. ফরিদুল হুদা
২৯. শেখ আলী আশরাফ
৩০. আবদুর রহমান বিশ্বাস
৩১. ব্যারিস্টার আবদুল হক
৩২. ইমরান আলী সরকার
৩৩. দেওয়ান সিরাজুল হক
৩৪. এমদাদুর রহমান
৩৫. এডভোকেট আফসার উদ্দিন
৩৬. কবীর চৌধুরী
৩৭. ড. এম আর খান
৩৮. ক্যাপ্টেন (অব.) সুজাত আলী
৩৯. তুষার কান্তি বারবি
৪০. সুনীল গুপ্ত
৪১. রেজাউল বারী ডিনা
৪২. আনিসুর রহমান
৪৩. আবুল কাশেম
৪৪. মনসুর আলী সরকার
৪৫. আবদুল হামিদ চৌধুরী
৪৬. মনসুর আলী
৪৭. শামসুল হক
৪৮. খন্দকার আবদুল হামিদ
৪৯. জুলমত আলী খান
৫০. এডভোকেট নাজমুল হুদা
৫১. মাহবুব আহমেদ
৫২. আবু সাঈদ খান
৫৩. মোহাম্মদ ইসমাইল
৫৪. সিরাজুল হক মন্টু
৫৫. শাহ বদরুল হক
৫৬. আবদুর রউফ
৫৭. মোরাদুজ্জামান
৫৮. জহিরুদ্দিন খান
৫৯. সুলতান আহমেদ চৌধুরী
৬০. শামসুল হুদা
৬১. সালেহ আহমেদ চৌধুরী
৬২. আফসার আহমেদ সিদ্দিকী
৬৩. তরিকুল ইসলাম
৬৪. আনোয়ারুল হক চৌধুরী
৬৫. মাইনুদ্দিন আহমেদ
৬৬. এমএ সাত্তার
৬৭. হাজী জালাল
৬৮. আহমদ আলী মন্ডল
৬৯. শাহেদ আলী
৭০. আবদুল ওয়াদুদ
৭১. শাহ আবদুল হালিম
৭২. জমির উদ্দিন সরকার
৭৩. আতাউদ্দিন খান
৭৪. আবদুর রাজ্জাক চৌধুরী
৭৫. আহমদ আলী।

বিএনপির লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতন্ত্রায়ন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য এবং জনগণের মধ্যে স্ব-নির্ভরতার উত্থান ঘটানো। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয়লাভ করে। ক্ষমতায় আসার পর সৈনিক জিয়া দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেন। দেশকে ক্রমান্বয়ে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দেন। বিশ্ব দরবারে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তাঁর দল বিএনপি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যায়।

ঠিক এই মুহূর্তে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিপথগামী একদল সেনাসদস্যের গুলিতে শহীদ হন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার রাষ্ট্রপতি হন। ১৯৮৩ সালে সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রপতি হন। দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
বিএনপির ৪৭ তম প্রতিষ্টা বার্ষিকীতে জাগদল, জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট ,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্টাতা ও বহু দলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনা করি।

লেখকঃ আব্দুল আজিজ
সম্পাদক জনতার আওয়াজ ডটকম
রাজনৈতিক বিশ্লেষক
কলামিস্ট

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ