জুলাই ঐক্যের ‘মার্চ টু ইলেকশন কমিশন’ মঙ্গলবার
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬ ২:৪২ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬ ২:৪২ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ঋণখেলাপি, দ্বৈত নাগরিক ও জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে আগামী মঙ্গলবার ‘মার্চ টু ইলেকশন কমিশন’ কর্মসূচি পালন করবে জুলাই ঐক্য। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা দেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক প্লাবন তারিক।
সংবাদ সম্মেলনে জুলাই ঐক্যের সংগঠক ইসরাফিল ফরাজী বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাষ্ট্রের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে বৈধতা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে ঋণখেলাপি হয়েও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন কমপক্ষে ৪৫ জন প্রার্থী। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশসহ (আরপিও) বিভিন্ন আইনে ঋণখেলাপিদের আটকানোর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ৪৫ জন ঋণখেলাপি বেরিয়ে গেলেও বাদ পড়েছেন ৬৮ জন। এ নির্বাচন কমিশন নিজেদের মনমতো মনোনয়নের বৈধতা দিচ্ছে। যারা রাষ্ট্রের টাকা চুরি করেছে, তারা নির্বাচন করবে এবং গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তাদের ভোট দিতে হবে—তা সাংঘর্ষিক। এ নির্বাচন কমিশন মুখে ইনসাফের কথা বললেও আদতে রাজনৈতিক দলগুলোর মন জয় করতে তারা মরিয়া। এ ঘটনা দ্বৈত নাগরিক ইস্যুতেও দেখা যায়। যারা দুর্নীতি করে, দেশের টাকা লুটপাট করে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছে—সামনে ক্ষমতায় বসে অর্থ পাচার করবে—তাদেরও বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ও সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার দাবিতে ২ মাস ধরে আন্দোলন করছে জুলাই ঐক্য। হাইকোর্টে রিট এবং নির্বাচন অভিমুখী পদযাত্রা ও স্মারকলিপি দিয়েছে জুলাই ঐক্য। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা দেখছি, গণহত্যাকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। আমরা নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি—অবিলম্বে জাতীয় পার্টি, এনডিএফসহ ১৪ দল ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মনোনয়ন বাতিল করুন। অন্যথায় দেশের সাধারণ ছাত্রজনতা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে তার সব দায়ভার নির্বাচন কমিশনকে বহন করতে হবে।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণায় গিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে রাজধানীতে হত্যা করা হয় জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে। এখন পর্যন্ত আমরা খুনিকে গ্রেফতার তো দূরের কথা, মামলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতিও দেখাতে পারেনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সেনাবাহিনী মাঠে থাকলেও অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে কোনো অভিযান দেখা যাচ্ছে না। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বসন্তের কোকিলের মতো আচরণ করছে, যা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে। জুলাই ঐক্যের পক্ষ থেকে আমরা অবিলম্বে দাবি জানাচ্ছি— আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী করেছে, তা জাতির সামনে জানাতে হবে। একই সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে সব ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। অন্যথায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যত প্রকার বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে, তার সব দায়-দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বহন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন, জুলাই ঐক্যের সংগঠক জয়নাল আবেদিন শিশির ও মুন্সি বুরহান মাহমুদ।
জনতার আওয়াজ/আ আ