জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:৪১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৫ ৯:২৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৫ ৯:২৪ অপরাহ্ণ

 

রংপুর প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জুলাই সনদ এবং বিচারের রোড ম্যাপ দিয়ে তারপরে নির্বাচনের দিকে যেতে হবে। দেশে একটা নির্বাচন ও স্থিতিশীলতা প্রয়োজন।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নগরীর পর্যটন মোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ কালে এ কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, তিস্তা মহা পরিকল্পনাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। রংপুর অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। কমিশন দুটি প্রস্তাব দিয়েছে দ্বিতীয় যে প্রস্তাবটি সেটি গ্রহণযোগ্য নয়। প্রথম প্রস্তাবটি মোটামুটি গ্রহণযোগ্য ফলে প্রথম প্রস্তাবটিকে আমরা সমর্থন দিচ্ছি। যে দাবিগুলোর প্রেক্ষিতে আমরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর থেকে বিরত ছিলাম, একটা ছিল আদেশটা প্রকাশ করা আরেকটা হচ্ছে আদেশটি প্রকাশ করবে অন্তর্বর্তী সরকার। এবং এটি স্পষ্ট হওয়া উচিত যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনুস এই আদেশটি জারি করবেন।

আমরা গণভোটের কথা বলেছি পরবর্তী সরকারের হাতে সেটার গাঠনিক ক্ষমতা থাকবে যার ভিত্তিতে সংস্কারকৃত সংবিধান তারা প্রণয়ন করবে। প্রথম প্রস্তাবটি যাতে সরকার দ্রুত আদেশ জারি করার ব্যবস্থা করে এটা আমাদের জোর দাবি থাকবে বলে জানান তিনি। ওই ক্ষমতা কমিশনের জায়গা থেকে রেসপন্স আসলে আমাদের স্বাক্ষরের বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত জানাবো। প্রথম প্রস্তাবটিকে আমরা সমর্থন করছি সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম প্রস্তাবে যখনই তারা কার্যক্রম শুরু করবে জাতীয় নাগরিক পার্টি স্বাক্ষর করবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন দল এখানে কথা বলেছে এখানে জাতির স্বার্থে যেগুলো প্রয়োজন সেগুলোই আলোচনায় এসেছে। ঐক্যমত্য কমিশনের যে প্রস্তাব ছিল নোট অফ ডিসেন্টে একটা দলের বিরোধিতা ছিল সেটাকে ডকুমেন্ট হিসেবে রাখতে চায় তারা। আমাদেরও নোট অফ ডিসেন্ট আছে সেটা হচ্ছে ঐতিহাসিক ডকুমেন্টসের কারণে যেই দল এটার বিরোধিতা করেছিল বাস্তবায়নে সেটা আর কার্যতালিকায় আসার কথা ছিল না। ঐক্যমত্য কমিশনও সেদিকে এগিয়েছে। নির্বাচন কমিশন জনগণের আস্থা হারাচ্ছে। এগুলো দ্রুত সমাধানের দিকে যেতে হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পরে একটা ঐক্যমত্য কমিশন গঠিত হয়েছে। এরপরে গণভোট হচ্ছে এবং গণভোটে সব প্রস্তাবগুলো অনুমোদিত হয়ে যাচ্ছে। পরবর্তীতে সংবিধান এটাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্নিবেশিত করবে। পরবর্তীতে সংবিধানের কোনো এখতিয়ার থাকবে না এটাকে সংশোধন করার। পরবর্তী সংসদ বাধ্য থাকবে এটাকে সংবিধানে সন্নিবেশিত করতে। যারা বিরোধীতা করছে সাউথ আফ্রিকা কেনিয়াসহ অনেক দেশে এটা আছে তারা চাইলেই দেখতে পারে। এবং তারা এক্সপার্টদের সঙ্গে কথা বলতে পারে।

নাহিদ আরও বলেন, ঐকমত্য কমিশন জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে যথার্থ সুপারিশ দিয়েছে। সংস্কারের বিপক্ষে অনেক দলকে কথা বলতে দেখেছি। বিএনপি বড় ধরনের সংস্কারের বিরোধিতা করেছে। সংস্কার প্রক্রিয়াটা তারা চায় কিনা এটা নিয়ে একটা প্রশ্ন তৈরি হবে। গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের বিরুদ্ধে বিএনপি বাঁধা দিয়েছে। সব দলের ঐকমত্যের কারণে এবং জনগণের ঐকমত্যের কারণে তারা সেখান থেকে সরে এসেছে এবং সেটাকে সাধুবাদও জানিয়েছে।

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পরে জনগণের অনেক প্রত্যাশা ছিল। মানুষ দেশের একটা পরিবর্তন চাচ্ছে দেশের মানুষের একটা ভয় দেখতে পাচ্ছি। সবকিছু কি আগের মতন হয়ে যাচ্ছে কিনা, নতুন করে ফ্যাসিবাদ তৈরি হবে কিনা, স্বৈরাচার আসবে কিনা, আগস্টের পরে আমরা দেখেছি দেশে দুর্বৃত্তায়ন ও দুর্নীতি নতুন করে শুরু হয়েছে, চাঁদাবাজ দখলদারিত্ব। অন্যদিকে আমরা সামাজিক ফ্যাসিবাদের উত্থান দেখছি। দেশে নানামুখী সংকট আছে। পতিত স্বৈরাচারী শক্তি তারা নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে তাদের সঙ্গে বৈদেশিক শক্তিও জড়িত ফলে আমরা সংকটের মধ্যেই আছি। এ সংকটে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। নিজেদের দল গুলোর ভেতর যে সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধান করে এক থাকতে হবে। কেউ যদি মনে করে এককভাবে সব নেতৃত্ব দেবে সরকার গঠন করে ফেলবে এটা আসলে সম্ভব হবে না।

নাহিদ বলেন, এককভাবে সরকার গঠন করা এবং সেই সরকারকে টিকিয়ে রাখা কারো পক্ষে সম্ভব হবে না। জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল সংস্কার বিচার এগুলোকে উপেক্ষা করতে গেলে সেটিও আসলে সম্ভব হবে না। টেকসই পরিবর্তনের জন্য স্থিতিশীল এবং পরিবর্তনের জন্য জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। অনেক সংস্কার আমরা চেয়েছিলাম অল্প কিছু সংস্কারে আমরা একমত হয়েছি। ন্যূনতম সংস্কার করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সরকারের জায়গা থেকে কোনো গড়িমসি তৈরি হলে সে সরকারকে জনগণের মুখোমুখি হতে হবে। আমরা দেশের বহুমাত্রিক সংকট দেখতে পাচ্ছি। এখান থেকে উত্তরণের একটাই উপায় ঐকমত্য থাকা এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা না করা যাতে জনআকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা সামনের দিকে আগাতে পারি।

নির্বাচনী প্রস্তুতির ব্যাপারে তিনি বলেন, এনসিপি এককভাবে তার সাংগঠনিক এবং নির্বাচনীপ্রস্তুতি নিচ্ছে। কারো মুখাপেক্ষী হয়ে কারো ওপর নির্ভর করে নির্বাচন করবে না। নির্বাচনে কৌশলগত কারণে অথবা দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সমঝোতা প্রয়োজন হলে সেটার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জোটের ব্যাপারে তিনি বলেন, জোট করবো কি করবো না এটা নিয়ে আমাদেরকে ভাবতে হবে। কারণ আমাদেরকে নিয়ে জনগণের অনেক প্রত্যাশা আছে। একটা ফ্যাসিস্ট ছিল এছাড়াও যে দলগুলো আছে গত ১৬ বছর তাদের ভূমিকা জনগণের পক্ষে সঠিকভাবে দাঁড়াতে না পারা এবং ঐতিহাসিকভাবে অনেক দলের অনেক সমস্যা থাকায় নতুন রাজনৈতিক দল থেকে জনগনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দলের বিভিন্ন কলঙ্ক লেগেছে সেটা বিএনপির শাসনামলেও দুর্নীতি নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। ৫ আগষ্টের পরেও তাদেরকে নিয়ে সমালোচনা রয়েছে একইভাবে জামাতেরও ঐতিহাসিক দায়ভার রয়েছে ৫ আগস্টের পরে জামায়াতকে নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ জায়গা থেকে এ ধরনের দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের ঐক্যে গেলে আমাদেরকে ভাবতে হবে। আমাদের জোটের বিষয়টা একটা নীতিগত জায়গা থেকেই হতে হবে।

শাপলা প্রতীক প্রশ্নে নাহিদ বলেন, শাপলা তাদেরকে দিতে হবে। শাপলা প্রতীক যদি তারা দিতে না চায় তাদের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হবে কিনা সেটা আমরা জানিনা। কারণ একটা নবগঠিত দলের সঙ্গে যদি তারা বেইনছাফি করে তাহলে এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়। ফলে নির্বাচন কমিশনকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা নির্বাচন সুষ্ঠু করবে নাকি আগের নির্বাচন কমিশনের যে পরিণতি হয়েছিল তারাও সেই পরিণতি দেখতে চায়।

সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আতিক মুজাহিদ, রংপুর জেলার প্রধান সমন্বয়কারী আসাদুল্লাহ আল গালিব, জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা দিনাসহ বিভিন্ন জেলা উপজেলার নেতাকর্মীরা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ