টাকা খেয়ে ফেলেছেন সেটা তো বলি নাই, সুর পাল্টে বললেন মোস্তাক
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, মে ৩১, ২০২৬ ৫:১৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, মে ৩১, ২০২৬ ৫:১৬ অপরাহ্ণ

জহির শান্ত, কুমিল্লা প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লা জেলা পরিষদের রাজস্ব থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ২৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ তোলা কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া এবার কিছুটা সুর পাল্টেছেন। হাসনাত আব্দুল্লাহকে ফোনে তিনি বলেছেন, ‘টাকা খেয়ে ফেলেছেন সেটা তো বলি নাই। মিডিয়ায় হয়তো পুরোটা আসেনি।’
বিষয়টি স্পষ্ট করে তিনি জানিয়েছেন, ‘ওই অর্থ মূলত দুই নেতার নিজ নিজ উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নকাজের জন্য বাজেট বরাদ্দ হিসেবে দেওয়া হয়েছে, যা হয়তো গণমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।’
শনিবার (৩০ মে) রাতে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বার আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে জেলা পরিষদ প্রশাসকের সরাসরি ফোনালাপ হয়। সেই কথোপকথানের অডিওটি হাসনাত তার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করেছেন।
ফোনে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার সঙ্গে কথা বলে হাসনাত আব্দুল্লাহ তার বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। তখন সুর নরম করে প্রশাসক মোস্তাক মিয়া বলেন, ‘রাজস্ব খাতসহ সব খাত মিলে মোট ১০ কোটি টাকা আপনার নির্বাচনি এলাকায় গেছে। আপনারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছেন, আপনার উপজেলায় গেছে ১০ কোটি আর আসিফ মাহমুদের এলাকায় গেছে ১৫ কোটি। আপনি নিজে টাকা খায়ছেন সেটা তো আমি কোনোভাবেই বলিনি। আমি জনসম্মুখে বলেছি, ডেভেলপমেন্ট বা সরকারি উন্নয়ন কাজের জন্য আপনারা দুই নেতা দুই উপজেলায় নিয়ে গেছেন মোট ২৫ কোটি টাকা। হয়তো মিডিয়ায় আমার বক্তব্যের মূল অংশটা সেভাবে সঠিকভাবে আসেনি।’
এর আগে শনিবার (৩০ মে) কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া অভিযোগ তোলেন, ‘কুমিল্লা জেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে আসিফ মাহমুদ মুরাদনগরে ১৫ কোটি ও হাসনাত আবদুল্লাহ দেবিদ্বারে ১০ কোটি টাকা নিয়ে গেছে। এটা আমাদের জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্বের টাকা। এই হলো সমন্বয়েকদের অবস্থা। তারা মুখে মুখে বাংলাদেশের সমন্বয়ের রাজনীতির কথা বললেও তাদের মধ্যেই এটা ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তাদের চরিত্র ছিল একরকম।’
ওই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন।
মোস্তাক মিয়ার বক্তব্যের এমন খবর সংবাদ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
এর জবাবে হাসনাত আবদুল্লাহ গণমাধ্যমকে জানান, তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কোনো টাকা নেননি, বরং দেবীদ্বার উপজেলার সার্বিক সার্বিক উন্নয়ন কাজের জন্য এই সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে বিভ্রান্তি দূর করতে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ নিজেই সরাসরি ফোন করেন প্রশাসক মোস্তাক মিয়াকে। পরে সেই ফোন কলের অডিও ছেড়ে দেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
জনতার আওয়াজ/আ আ