ঢাকা অচল করে দিতে পারলে আমরাও তৃণমূল অচল করে দেব : জনপ্রতিনিধিরা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৩ ৭:১৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৩ ৭:১৭ অপরাহ্ণ

বিএনপির তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত দাবি করে সরকার হটাতে রাজধানী ঢাকায় কঠোর আন্দোলনের পরামর্শ দিয়েছেন দলটির তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা। ঢাকায় দলকে শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়ে হাইকমান্ডের উদ্দেশে তারা বলেছেন, আপনারা ঢাকা অচল করে দিতে পারলে অতীতের মতো আমরাও তৃণমূল অচল করে দেব। ইউনিয়ন পদযাত্রার মতো কর্মসূচিকে মানুষ ব্যাপকভাবে সমর্থন দিয়েছে জানিয়ে তৃণমূলে এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রস্তাব দেন তারা। সেইসঙ্গে অতীতের অভিজ্ঞতায় শেখ হাসিনার অধীনে আগামী নির্বাচনে না যাওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি আন্দোলনে দাবি আদায় হলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এমন নেতাদের দল থেকে এমপি পদে মনোনয়ন দেওয়ারও প্রস্তাব দেওয়া হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব পরামর্শ ও প্রস্তাবনা দেন বিএনপি সমর্থিত সাবেক ও বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানরা। এদিন বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত এই সভা হয়। সভায় ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত নির্বাচিত রংপুর বিভাগের দল সমর্থিত সাবেক ও বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের ২০২ জন চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই দলের জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির বর্তমান কিংবা সাবেক সদস্য। তাদের মধ্যে ৩০ জন বক্তব্য দেন। লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এই সভায় যুক্ত হয়ে এসব জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের মতামত নেন।
বৈঠক প্রসঙ্গে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার এক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বলেন, অনেক জনপ্রতিনিধিই আন্দোলনের বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। তারা বলতে চেয়েছেন, সারা দেশে তৃণমূল পর্যায়ে কঠোর আন্দোলন হলেও রাজধানী ঢাকায় আন্দোলন সেভাবে জমে ওঠে না। এদিকে নজর দেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, বৈঠকে অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান গ্রামযাত্রা, গ্রামমার্চ, ইউনিয়নের বড় বড় বাজারগুলোতে পথসভার মতো কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে কর্মসূচিগুলোতে কেন্দ্রীয় মনিটরিংয়ের মাধ্যমে জেলার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-গ্রুপিং কাটিয়ে জেলা নেতাদের সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন। তারা বলেন, এর ফলে তৃণমূলে কর্মসূচি সফল হবে, ১০ দফা দাবি ও ২৭ দফা রূপরেখার বিষয়টিও মানুষের কাছে তুলে ধরা যাবে।
আগের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে তাদের অনেককেই হারিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে বর্তমান সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার কথাও জোরালোভাবে বলেন জনপ্রতিনিধিরা। কেউ কেউ মামলার বিষয়টি তুলে ধরে জানান, মামলা-হামলায় নেতাকর্মীরা এখন আর ভয় পান না। কেন্দ্র থেকে ভবিষ্যতে যে কর্মসূচিই দেওয়া হোকনেতাকর্মীদের পাশাপাশি জনগণকে সংগঠিত করে তা সফলের অঙ্গীকার করেন তারা।
বৈঠকে কয়েকজন চেয়ারম্যান নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা নেতাদের আগামীতে এমপি পদে মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলেন। তখন বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, দল এখন নির্বাচন নিয়ে সেভাবে ভাবছে না। দলের মনোযোগ এখন আন্দোলনের দিকে। আপনারা আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেন। দাবি আদায় হলে আমরা তখন নির্বাচনে যাব।
বৈঠকে জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে তারেক রহমান ছাড়াও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। এর আগে মতবিনিময় সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল।
জনতার আওয়াজ/আ আ