তারেক রহমান-এর সাথে কুমিল্লা ও ফরিদপুর বিভাগে চেয়ারম্যানদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:০১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

তারেক রহমান-এর সাথে কুমিল্লা ও ফরিদপুর বিভাগে চেয়ারম্যানদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, মার্চ ৬, ২০২৩ ৪:০১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, মার্চ ৬, ২০২৩ ৪:০১ অপরাহ্ণ

 

সরকারের পতনের জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে আন্দোলনের ডাক দিতে বিএনপির হাইকমান্ডকে অনুরোধ জানিয়েছেন দলটির তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা। তবে তার আগে রাগ-ক্ষোভ, বিভেদ ভুলে সবাইকে নিয়ে দল পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

রোববার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে কুমিল্লা ও ফরিদপুর বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দলীয় সমর্থক সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তারা এ আহ্বান জানান। সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে দুই বিভাগের ২৫০ জন চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে বক্তব্য দেন ৩৫ জন।

সভা শুরুর আগে এক বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। দুর্নীতি কমছে না। দু-চার হাজার কোটি টাকা পাচারও এখন ছোট ঘটনা। কিন্তু কথা বললেই মামলা দেওয়া হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশ কঠিন সময় পার করছে। সরকার ২০১৪ ও ২০১৮ সালে প্রহসনের নির্বাচন করেছে। একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র চলছে। গত আগস্টে আন্দোলন শুরু হয়েছে। এই আন্দোলনে জনগণ কীভাবে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, কীভাবে জনগণের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে সরানো যায়, সে বিষয়ে আপনারা সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দেবেন।

সভায় কুমিল্লার একজন ইউপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সন্তুষ্ট করে যদি পদ-পদবি আর মূল্যায়ন নিশ্চিত করা যায় তাহলে তৃণমূল একসময়ে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। কিসের ভিত্তিতে নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয় সে বিষয়ে তিনি দলের কাছে জানতে চান।

ওই ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, দলকে সংগঠিত করতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়, আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু জেলা পর্যায়ের নেতারা যারা বিগত দিনে দলের সুবিধাভোগী, এখনও বড় বড় পদে আছেন তাদের দেখা পাওয়া যায় না। বিগত এক যুগেও জেলার নেতাদের তার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় পাওয়া যায়নি। তার অভিযোগ, এতদিন কর্মীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হয়নি। কর্মীদের কোনো খোঁজ-খবর রাখা হয় না। কোন উপজেলাতেই নেতারা সফর করেন না। তার দাবি, এভাবে রাজনীতি হয় না।

ওই চেয়ারম্যান বলেন, শুধু জেলা শহরে এসি রুমে বসে আন্দোলন হবে না। উপজেলাতেও যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁরা কোথায় থাকেন, কিভাবে তাঁরা পদ পান তাও জানতে চান ওই জনপ্রতিনিধি।

ওই চেয়ারম্যানের সুরে সুর মিলিয়ে আরও কয়েকজন বলেন, তৃণমূলকে সম্মান করুন। এবারও যদি তাদের মনে না রাখা হয় তাহলে প্রাকৃতিক নিয়মেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো দল, দেশ ও জাতি। কারণ তারা এসবের জন্য জীবনের ঝুঁকি নেয়। সেই তৃণমূলকে নিয়ে সব জায়গাতেই বৈষম্য। এখানে কারা বক্তব্য দিতে পারবেন, কারা পারবেন না তা নিয়েও সিন্ডিকেট করা হয়। বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেন শঙ্কায় তালিকায় তাদের নাম দেওয়া হয় না। তারা সবাইকে কথা বলতে দেওয়ার দাবি জানান।

সভায় জনপ্রতিনিধিরা দলের মধ্যে বিভেদ, কোন্দল ভুলে সবাইকে নিয়ে দ্রুত সময়ে আন্দোলনের ডাক দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, তাদের হারানোর কিছু নেই। এবারও যদি পরিবর্তন না আসে তাহলে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়তে হবে। কেউ বাড়ি নয়, এলাকাতেই থাকতে পারবে না। সব ধ্বংস হয়ে যাবে।

দলটির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসন উপদেষ্টা জহিরুল হক শাহাজাদা মিয়া, আকরামুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, শামা ওবায়েদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ