দলগুলোর স্বাক্ষরের পর শঙ্কা কাটছে, নির্বাচনমুখী বিএনপি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৫ ১:১৮ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৫ ১:১৮ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরের পর নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা অনেকটা কেটেছে। এখন ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে পুরোপুরি নির্বাচনমুখী হয়েছে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। যদিও আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য বার্তা দেয়া হয় দলের তরফে। এখন এটা আরও জোরেশোরে শুরু করেছে দলটি। চলতি মাসেই অনানুষ্ঠানিকভাবে ২০০ আসনে প্রার্থীদের গ্রিন সিগন্যাল দেয়া হবে। ইতিমধ্যে দল ও সমমনাদের বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রিন সিগন্যাল দেয়া হয়েছে। তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি ও প্রচারণার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে দলীয় হাইকমান্ড থেকে। তারা সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। এখন থেকে দলীয় কর্মকাণ্ড সবই নির্বাচনকেন্দ্রিক করার নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপি’র হাইকমান্ড। ওদিকে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আজ সিলেট বিভাগীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ডেকেছেন বিএনপি’র হাইকমান্ড। মনোনয়ন, নির্বাচনী প্রস্তুতি, প্রচারণাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হবে এই সভায়। অন্যদিকে জুলাই সনদে এনসিপিসহ চার বাম দল স্বাক্ষর করেনি। বিষয়টি নির্বাচনে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন বিএনপি’র নেতারা। তারা মনে করছেন এসব দল সামনে সনদে স্বাক্ষর করবে। এবং আসছে নির্বাচনেও তারা অংশ নেবে।
বিএনপি’র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হবে। অক্টোবর মাসেই এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রার্থী চূড়ান্তের ক্ষেত্রে এলাকায় মানুষদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, আন্দোলনে ভূমিকা, দলের প্রতি আনুগত্যতা, দেশপ্রেমসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু হবে। এ ছাড়া প্রার্থীদের ভোটারদের দোরগোড়ায় যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিএনপি জনগণের ভোটে রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে কি কি উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ড করবে- তা জনগণের কাছে তুলে ধরতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ৩১ দফা কর্মসূচি নিয়ে নেতাদের তৃণমূলে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন দলের হাইকমান্ড।
সূত্র আরও জানায়, পরিচ্ছন্ন এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং অপেক্ষাকৃত তরুণদের প্রার্থী বাছাইয়ে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। প্রায় চার কোটি তরুণ ভোটারের মনোভাবকে কাজে লাগাতে এবং তাদের সমর্থন আদায়ে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সিনিয়র নেতারা বাদ পড়তে পারেন। এর মধ্যদিয়ে দলে কোনো কোন্দল যাতে সৃষ্টি না হয় সেদিকেও কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
বিএনপি’র নেতারা জানিয়েছেন, জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরের পর নির্বাচন নিয়ে বিএনপি’র আর কোনো সংশয় নাই। তবে এখনো ষড়যন্ত্রকারীরা আছে, তারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলে বিএনপি বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না। এজন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে জনগণ সঙ্গে নিয়ে রাজপথে বিএনপি এর মোকাবিলা করবে বলেও জানিয়েছেন নেতারা।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন মানবজমিনকে বলেন, আমাদের প্রস্তুতি চলছে। প্রার্থীদের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের ব্যাপারে কাজ চলছে। তাই বলা যাচ্ছে না, কোনদিন আমরা মনোনয়ন ঘোষণা করবো। তবে যার মনোনয়ন যেদিন ঘোষণা করা হবে, সেদিন থেকেই তিনি কাজ শুরু করবেন। এখানে আনুষ্ঠানিকতার কিছু নাই। আর এলাকায় প্রার্থীরা এখন কাজ করছেন।
ওদিকে, সমমনাদের সঙ্গেও আসন ভাগাভাগির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য তাদের সঙ্গে বৈঠক করছে বিএনপি। তাদের কাছে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকাও চাওয়া হয়েছে। তালিকা দেয়ার পর সমমনাদের কয়েকজন নেতাকে নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশনাও দিয়েছেন বিএনপি’র হাইকমান্ড। তবে কোন প্রক্রিয়ায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে? জোট না কি আসন সমঝোতার মাধ্যমে, তা এখনো মীমাংসিত হয়নি। সম্প্রতি এনিয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বিএনপি’র। আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে আবারো বৈঠক হওয়ার কথা হয়েছে। ওই বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত মীমাংসা হবে বলে প্রত্যাশা করছেন নেতারা। এ ছাড়া ইসলামী দল ও সংগঠনগুলোকেও কাছে টানার চেষ্টা করছে বিএনপি। গত ১৬ই অক্টোবর চট্টগ্রামের পটিয়ায় ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল জামিয়াতুল আরাবিয়া ইসলামিয়া জিরি মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। এর আগে হেফাজতে ইসলামের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছে দলটি। ইতিমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে বিএনপি’র প্রার্থী হতে যাচ্ছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি ও হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব। এ আসনটি তাকে ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে বিএনপি’র পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব দেখানো হয়েছে। এ বিষয়ে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সমমনাদের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মানবজমিনকে বলেন, বিএনপি’র সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আমাদের আলোচনা চলছে। প্রথম দফায় বৈঠকে জোট না কি আসন সমঝোতার ভিত্তিতে আমরা নির্বাচন করবো, সেবিষয়ে আলাচনা হয়েছে। কিন্তু কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি। আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে এ বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে।
এলডিপি’র চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম মানবজমিনকে বলেন, বিএনপি আমাদের কাছে ১২ দলীয় জোটের একটি সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা চেয়েছিল। আমরা সেটা দিয়েছে। পরে বিএনপি’র পক্ষ থেকে ১২ দলীয় জোটের কয়েকজনকে নির্বাচনীর প্রস্তুতি ও প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
জনতার আওয়াজ/আ আ