দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ দূতদের শরণাপন্ন আ'লীগ - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৬:১৩, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ দূতদের শরণাপন্ন আ’লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৪, ২০২৫ ১১:০৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৪, ২০২৫ ১১:০৭ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
সারা বিশ্বে ‘গণতান্ত্রিক আন্তর্জাতিক অর্ডার’ প্রসারের জন্য জাতিসংঘের যে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ আছেন এবং অন্য যে ‘স্পেশাল র‍্যাপোর্টিয়ার’ বা বিশেষ দূতরা আছেন– তাদের কাছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে জরুরি পদক্ষেপ চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছেন শেখ হাসিনার নিযুক্ত আন্তর্জাতিক আইনজীবীরা।

লন্ডনের আইনি পরামর্শদাতা সংস্থা ‘ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্স’-এর পক্ষ থেকে ৮ অগাস্ট (শুক্রবার) জারি করা এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরও জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার তরফে এ আবেদনটি পেশ করেছেন সংস্থার দু’জন সিনিয়র আইনজীবী স্টিভেন পাওয়েলস কেসি ও অ্যালেক্স টিনসলে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা ‘মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন’ এবং সে কারণেই জাতিসংঘের উচিত বাংলাদেশ সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্সের বিবৃতি

মাসতিনেক আগেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত ওই রাজনৈতিক দলটির সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। এর ফলে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের পথও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ এত তাড়াতাড়ি সেই বিচারপর্ব শেষ হবে এমন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ আন্তর্জাতিক স্তরে এই প্রথম কোনও পদক্ষেপ নিলো।

প্রসঙ্গত, এই মুহূর্তে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অর্ডার প্রসারে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞর পদে আছেন জর্জ কাট্রোগ্যালোস, যিনি গ্রিসের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বটে। তিনি মানবাধিকার, তুলনামূলক সাংবিধানিক আইন, গণতন্ত্র ও সামাজিক অধিকারের ক্ষেত্রেও একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে সুপরিচিত।

ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্স তার কাছে আবেদন জমা দেওয়ার কথা বললেও কাট্রোগ্যালোসের কার্যালয় থেকে অবশ্য সেটির প্রাপ্তি স্বীকার করে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে শেখ হাসিনার নিযুক্ত আইনজীবীরা যুক্তি দিচ্ছেন– আওয়ামী লীগ ‘এখনও বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি’, অথচ অন্তর্বর্তী সরকার সব ধরনের নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করে দিয়েছে— যা পরিষ্কার মানবাধিকারের লঙ্ঘন।

অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচন করার কথা জানালেও ‘সেটা আদৌ তখন হয় কিনা’– সেটাও দেখার বিষয় বলে মন্তব্য করেছে ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্স।

জর্জ কাট্রোগ্যালোস-সহ জাতিসংঘের অন্য বিশেষ দূতদের কাছে তারা আবেদন জানিয়েছেন—

১) বাংলাদেশে যত দ্রুত সম্ভব একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আয়োজনে তারা যেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

২) আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা যাতে তুলে নেওয়া হয়।

৩) পরবর্তী নির্বাচন যখনই হোক, আওয়ামী লীগ যেন তাতে পরিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, সেটা যাতে নিশ্চিত করা হয়।

তবে এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, জাতিসংঘের নিযুক্ত এই বিশেষজ্ঞ বা ‘স্পেশাল র‍্যাপোর্টিয়ারদের’ কোনও দেশের সরকারকে কোনও নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা নেই।

কিন্তু তারা যখন কোনও দেশের ক্ষেত্রে কোনও বিশেষ ইস্যু উত্থাপন করেন, তখন সেটির ব্যাপারে সেই সরকারের ওপর অবশ্যই চাপ তৈরি হয় এবং আন্তর্জাতিক জনমত সৃষ্টিতেও তা সাহায্য করে। আওয়ামী লীগও ঠিক সেই উদ্দেশ্যেই এই আন্তর্জাতিক আইনজীবীদের নিয়োগ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ