দেশে ও বহির্বিশ্বের দৃষ্টিতে শহীদ জিয়া কেমনরাষ্ট্রনায়ক ছিলেন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬ ৫:১২ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬ ৫:১২ পূর্বাহ্ণ

পর্ব নং — নবম ( ১০ম )
সন্মানিত পাঠকবর্গ ‘ আস্ সালামু আলাইকুম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিক উপলক্ষে আমার ধারাবাহিক লেখার ৯ ম পর্ব পর্যন্ত ছিল বহির্বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্র নায়ক ও বরণ্য ব্যক্তিবর্গের দৃষ্টিতে শহীদ জিয়া কেমন ছিলেন।
আজ থেকে থাকছে দেশের মহান স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতি অবিচল আস্থা ও নিখুঁত দেশপ্রেমিক জ্ঞানী গুনিজন বর্গের দৃষ্টিতে শহীদ রাষ্ট্রপতির পতি দৃষ্টি ও তাঁদের মূল্লায়ন নিয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে কটি কথা।
তারই আলোকে আজ থাকছে তৎকালীন বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংস্থ এন এস আই এর দুরদর্শি , বিচক্ষণ সফল মহা পরিচালক জনাব আব আবদুল হাকিমের স্মৃতি চারন নিয়ে ————
শহীগ জিয়ার শাষন আমলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংস্থা এনএস আই এর মহা পরিচালক ছিলেন জনাব এম আবদুল হাকিম। আবদুল হাকিম তাঁর লেখা ” জিয়া কে যেমন দেখেছি ” বইতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কে নিয়ে স্তরে স্তরে অনেক গুলো স্মৃতি চারন করেছেন। সেই স্সৃতি চারনের বিশেষ কযেকটি ঘটনা তুলে ধরছি।
১। একদিন খুবেই সকাল সকাল রাষ্ট্রপতির ফোনে আমার ঘুম ভাংলো। ফোনটি রিসিভ করে রাষ্ট্রপতিকে সালাম দেযার দেয়ার আগেই তিঁনি বললেন — ” আমি দিনাজপুরে যাচ্ছি। আপনি দ্রুত এয়ারপোর্টে চলে আসুন। আপনাকে আমার সাথে যেতে হবে। কোন রকম চোখে মুখে একটু পানি ছিটকিয়ে – আর কি দ্রুততম সময়ে জামা পরিবর্তন করে একটি ছোট সুটকেইসে কিছু জামা কাপড় আর তুথব্রাস ও তুথপেস্ট নিয়ে উল্কার গতিতে বিমানবন্দরে পৌঁছলাম। তখনো জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর চালু হয় নাই। বিমান বন্দরে এসে দেখরাম রাষ্ট্রপতি ভি আই পি রুমে বসে মনোযোগ দিয়ে রাষ্ট্রীয় ফাইল ওয়ার্ক করছেন। রাষ্ট্রপতির সাথে কয়েকজন মন্ত্রী ও সিনিয়র অফেসার বর্গও আছেন।তারাও জিয়ার সফর সংগি। ভি আই পি রুমে রাষ্ট্রপতির সাথে সকালের ( হালকা) চা — নাস্তা সেরে সবাই একসাথে বিমানে উঠলাম। বিমানে উঠে দেখলাম আগে থেকে বেগম খালেদা জিয়া তাঁর দুই সন্তান – পিনু ও ককো কে নিয়ে আগে থেকে বিমানে বসে আছেন। ওরা যে কত আগে থেকে বসে আছেন তা বুঝতে পারিনি। তখনো কিন্তু বিমানের এয়ারকন্ডিশনার প্রকৃয়া চালু হয়নি। দেখলাম বেগম খালেদা জিয়া তাঁর দুই সন্তান বেশ ঘামাচ্ছিলেন। বিমানে উঠে আমরাও বেশ গরম অনুভূতি করছিলাম। আমার মনে প্রশ্ন জেগেছিল – এমন অসহনিয় গরমের মধ্যে বেগম খালেদা জিয়া তাঁর দুই সন্তান কে নিয়ে বিমান বন্দরে ভি আ ইপি রুমেই তো বসতে পারতেন – – – কিন্ত প্রশ্নটি কাকে করবো? রাষ্ট্রপতিকে তো নয়। অন্য কাউকে করলে রাষ্ট্রপতির কানে পৌঁছলে তা হবে হিতে বিপরিত। তাই নিজের প্রশ্নটি নিজেই হজম করে নিলাম।
বিমানে করে ঢাকা ত্যাগ করে আমরা যথাসময়ে ঠাকুরগাঁও পৌছি। বিমান থেকে নেমে রাষ্ট্রপতি একটি গাড়িতে করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। আমি আবারো অভাক হলাম — বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে রাষ্ট্রপতির গাড়িতে উঠলেন না!!!!
আমরাও রাষ্ট্রপতির গাড়ির বহরের সাথে রওনা হলাম। রওনা হওয়ার ৪ কি ৫ মিনিট পর আমার মনে পড়লো যে , তারাহুরার কারনে ভুল বশতঃ আমি আমার সুটকেস টি বিমানে রেখে চলে এসেছি। তাই আমি বহরের নিরপত্তায় নিয়োজিত টিমকে ইনফর্ম করে আমার গাড়িটি আবার ফিরিয়ে নিয়ে বিমান বন্দরে আসি। এসে দেখলাম বিমান বন্দর প্রায় শুন্য। শুধুমাত্র বেগম খালেদা জিয়া পিনু ও কোকোকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর সংগে ছিরেন দিনাজপুরে এ ডি সি।
হতভম্ব হয়ে বুঝতে পারলাম তিঁনারা প্রচন্ড গরমের মধ্যে খোলা আকাশের নীচে নিশ্চয়ই কোন গাড়ির জন্য অপেক্ষায় আছেন। এমন পরিস্থিতি দেখে আমি দিনাজপুরের এ ডি সি কে বলরাম আপনি আমার গাড়ি নিয়ে বেগম সাহেবাকে নিয়ে রওনা করুন। আমি আপনাদের গাড়ি আসলে রওনা হবো। বিমান বন্দর থেকে আমার সুটকেস টি সংগ্রহ করে বেগম সাহেবার নিকট এসে এ ডি সি কে আবারো বললাম আপনারা আমার গাড়ি করে রওনা হন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার ইশারায় এডিসি সাহেব তা থেকে বিরত থেকেছিলেন। এডিসি সাহেব আমাকে আকার ইংগিতে বোঝালেন যে — রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সফরের প্রোগ্রামের বাহিরে অবস্থান নেয়া অসম্ভব। আমি আবারও বিস্মিত আর অবাক হযে আমার জন্য বরাদ্দকৃত গাড়ি করে গন্তব্যস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।
দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী তাঁর দুই সন্তান কে নিয়ে এমনি করে গাড়ির অপেক্ষায় বিমানবন্দরেে বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল এটা ভাবতে আজো আমার নিকট অভাক লাগে।
হয়তবা বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারবেনা। প্রেসিডেন্ট এরশাদের আমলে তাঁর স্ত্রী তথা তখকার সমযে ঘোষিত ফাস্ট লেডির কি ধাপট ছিল তা তখনকার দেশবাসীর অজানা নয়।
সম্মানিত পাঠক বৃন্দ , শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের জন্য কেমন রাষ্ট্র নায়ক ছিলেন তা ভেবে দেখবেন কি?
আগামী পর্বতে থাকছে — শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কঠোর ভাবে তাঁর পিতৃতুল্য শশুর সাহেব কে দিনাজপুরের স্থানিয় ডি সি সাহেবের মাধ্যমে কি পরামর্শ দিয়েছিলেন।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আপন ভাইযের সাথে কি আচরন করেছিলেন।
সেদিন রংপুরের সকাল থকে দুপুর এক ঘটিকা পর্যন্ত খাল খনন কর্মসূচি সমাপ্তির পর কেন রাগে , ক্ষোবে রংপুরের ডিসি সাহেবের আয়োজিত খাবার না খেয়ে ঢাকায় চলে এসেছিলেন।
আশাকরি সবাই সাথে থেকে আমায় কৃতার্থ করবেন।
——–_চলবে।
নজরুল ইসলাম চৌধুরী।
সাবেক সভাপতি – ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ,
প্রচার সম্পাদক – ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদীদল।
জনতার আওয়াজ/আ আ