নজরুলের কবিতা দেশের ১৭ কোটি মানুষের কাছে এখনো পৌছায়নি’
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, মে ২৪, ২০২৪ ২:৩১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, মে ২৪, ২০২৪ ২:৩১ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
নজরুলের কবিতা দেশের ১৭ কোটি মানুষের কাছে এখনো পর্যন্ত পৌঁছায়নি উল্লেখ করে সাবেক সিনিয়র সচিব আবদুস সামাদ ফারুক বলেন, বিশ্ব কবির কবিতা যেভাবে সকল যায়গায় ছড়িয়ে গেছে সেভাবে কি নজরুলের সাহিত্য কবিতা গান কি দেশের ১৭ কোটি মানুষের কাছে গিয়েছে। না যাওয়ার কারণ কি। এমন ব্যবধান কেন হয়েছে। আমাদের দেশে নজরুলকে নিয়ে যেভাবে চিন্তা করা দরকার ছিল সে ভাবে হয়নি। এর জন্য দেশে চিন্তাশীল লোকের প্রয়োজন আছে। প্রতিটি প্লাটফর্মে নজরুল কে নিয়ে আলোচনা করতে হবে। তাছাড়া চিন্তাশীল জাতী তৈরি করা যাবে না। যদিও কোন জাতি নাখেয়ে মারা যায় না, মারা যায় তখনই যখন তার চিন্তা করারা কোন শক্তি থাকে না। তাই সে যায়গায় নজরুল আমাদের অনেক চিন্তার জায়গা তৈরি করেছে।
শুক্রবার (২৪ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকর খান মিলনায়তনে ‘সাম্য কবি, ন্যায়ের কবি, দ্রোহের কবি, সম্প্রীতির কবি জাতীয় কবি কাজী নাজরুল ইসলামের বাংলাদেশ আগমন দিবস স্মরণে উন্মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনা সভাটির আয়োজন করে স্বপথ ও অগ্নিবীণা নজরুল চর্চা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
সাবেক সিনিয়র সচিব আবদুস সামাদ ফারুক বলেন, নজরুলের যে চরিত্র তাতে দারিদ্রতাকে শেষ করে দিয়েছে তিনি। আমরা দারিদ্রতা নিয়ে কখনো চিন্তা করতে পারিনা। কিন্তু নজরুল দারিদ্রাকে খ্রিস্টের মত করে দেখেছেন। তিনি সারা জীবন কোন চাকরি করতে পারেনি, কোন ব্যবসা করতে পারে নি। তিনি সারাজীবন তার স্ত্রীর আয়ের উপর চলেছে।
তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম একবার নির্বাচন করতে ফরিদপুর এসেছিলেন। তখন জসীমউদ্দিন তার ছাত্র। তখন জসীমউদ্দিন বলেছিলেন আপনিতো কবি নির্বাচন করবেন কিভাবে। তখন নজরুল হেসে বলেছিল, আমাকে যারা সমর্থন করে তারা পোষ্টার বিলিয়ে জানিয়েছে। যারা নজরুল কে ভোট দিবে না তাদের ইসলাম থেকে নাম কাটা যাবে।
তিনি বলেন, সিরাজউদ্দৌলাকে ইংরেজরা যখন পরাজিত করেছিল তার এত বছর পর্যন্ত আমরা কিন্তু কোন প্রতিশোধ নিতে পারিনি। কিন্তু নজরুল সকলের থেকে এত উপরে অবস্থান করে যে তিনি এভারেস্টের চূড়ায় উঠে আছে। তিনি এক মাত্র কবি যিনি হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে এমন এক সম্পর্ক তৈরি করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি সত্যি অসাম্প্রদায়িক কবি হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। তিনি মুসলমানদের জন্য এমন সকল গান গজিল লিখেছেন যা ইসলামের বহু মাওলানারা পর্যন্ত লিখতে পারেনি। এমন কি হিন্দুদের শ্যামা সংগীত লিখেছে তা কেউ কোন দিন লিখতে পারেনি। নজরুল সাধারণ মানুষের জন্য লিখেছেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সূচনা বক্তব্য দেন অগ্নিবীণার চেয়ারম্যান এইচ এম সিরাজ। তিনি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, একটি যুদ্ধ-বিধ্বস্ত সদ্য-স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ২৪ মে বিদ্রোহী কবি যথাযথ মর্যাদা দেয়া হয়। ৩০ বছর আগে নির্বাক হওয়া কবিকে বঙ্গবন্ধু তড়িগড়ি করে কেনো এনেছিলেন তা অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে।
আলোচনা সভাটির সভাপতিত্ব করেন জাতীয় স্বেচ্ছাসেবী সাংস্কৃতিক সংগঠন স্বপথের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।
মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন, কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ও বিশিষ্ট নজরুল অনুরাগী এ. এফ এম হায়াতুল্লাহ, এবং অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা করেন, নজরুল ইনস্টিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নজরুল, অন্তপ্রাণ মোহম্মদ জাকীর হেসেন, সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও কবি আমিনুল ইসলাম, ভারতের মুর্শিদাবাদ থেকে আসা বিশিষ্ট সাংবাদিক ও প্রখ্যাত নজরুল গবেষক জয়নুল আবেদীন, বাঁশরী নামক সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী ডঃ খালেকুজ্জামান, অনন্য শিক্ষাবিদ ড. সাধন কুমার বিশ্বাস, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ড. আবুল আজাদ, ড. শহীদ মঞ্জু, ড. ইফতেখার আলম ফয়াদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আঞ্জুমান আরা, অর্থ মন্ত্রনালয় এর উপসচিব মো: জেহাদউদ্দীন এবং ‘অগ্নিবীণা’র ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ