নাগরিকত্ব বাণিজ্য ও প্রশাসনিক নীরবতা - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৮:৪৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নাগরিকত্ব বাণিজ্য ও প্রশাসনিক নীরবতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৫ ৯:৩৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৫ ৯:৩৩ অপরাহ্ণ

 

দলিল, ভয় আর প্রশ্ন — এক জেলার গল্প যা পুরো দেশের জন্য সতর্কবার্তা

ব‍্যারিস্টার রফিক আহমেদ
গতরাতের একটি ডকুমেন্টারি দেখার পর মন ভারাক্রান্ত। প্রথমত: যারা নিজের দেশকে ভালোবাসে না—তাদের কথা নয়; সমস্যা হলো যে কেউ যদি ব্যক্তিগত মদদে, টাকার বিনিময়ে বা নিজেদের স্বার্থে জনগণের মৌলিক অধিকারকে বিক্রি করে দিয়ে থাকে। ডকুমেন্টারিটি দাবি করেছে—নওগা জেলায় জেলাপ্রশাসক থেকে ওয়ার্ড মেম্বার পর্যায়ে পর্যন্ত কিছু জনস্বার্থবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত আছে; ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশি পরিচয়ে পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

একটা সমাজের বা দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলো তার নাগরিকতা: জন্মগত অধিকার, আইনি পরিচয়, ভোটাধিকার—এসবের ওপর রচিত করে একটি দেশের নীতি ও সুরক্ষা। যখন এই পরিচয়ের মূল্য বাজারে চলে আসে, সেটা শুধু কাগজের লেনদেন নয়; তা হলো সার্বভৌমত্ব ও আইনের প্রতি আস্থা ক্ষয়ে যাওয়ার সূচনা। ডকুমেন্টারিতে বর্ণিত প্রশাসনিক অনিয়ম আর প্রতিবেদকদের বিরুদ্ধে ধমকি-ধামকি, হামলার চেষ্টা এবং ব্যবহারিকভাবে তথ্য-সংগ্রহে বাধা—এসব কেবল এক জেলা নয়, পুরো ব্যবস্থার প্রতি প্রশ্ন তোলে।

থ্রিলার নয়, বাস্তবের ভয়াবহতা: একজন সাংবাদিক যখন মাইক্রোফোন বা ক্যামেরা নিয়ে গিয়ে সত্য উদঘাটনের চেষ্টা করে, তখন অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়—আর ঘটনাস্থলে দাঁড়ানো সাধারণ মানুষ হয়ত জানে না, বলতে সাহস পায় না। যারা সত্য সামনে এনেছেন তাদের নিরাপত্তা নেই—এমন পরিস্থিতি একটি স্বাধীন সাংবাদিকতার খোঁজকেই দুর্বল করে দেয়।

এখানে প্রশ্নগুলো স্পষ্ট: দায়ীরা কি শনাক্ত হবে? তদন্ত কি স্বচ্ছভাবে হবে? প্রতিবেদনকারীদের সুরক্ষা এবং অনুসন্ধানী কাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? —এটা যে এক জেলা বা এক ঘটনায় সীমাবদ্ধ নয়, তা আমরা বুঝতে অনুমেয়।

নাগরিক হওয়া শুধুই কাগজই নয়; তা হলো মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণের অধিকার। যদি এই মৌলিক বিষয় বাণিজ্যের পণ্য হয়ে যায়, তাহলে সমাজের সবচেয়ে দুর্বল স্তরই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এখনই দাবি করা উচিত: স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত, আক্রান্ত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, এবং অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে — এগুলো শেষ কথা নয়, কিন্তু শুরুটা হতে হবে এখান থেকেই।

বিষয়টি আমাদের সবার জন্য লজ্জার এবং আমাদের করণীয় ঠিক করার জন্য ভাবতে হবে। দেশের মর্যাদা রক্ষায় এগিয়ে আসুন।

লেখক: ব‍্যারিস্টার রফিক আহমেদ লন্ডন ১৯ অক্টোবর ২০২৫।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ