নারী ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষায় ইউএন উইমেনের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৮:০৮, শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা সফর, ১৪৪৮ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নারী ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষায় ইউএন উইমেনের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, জুলাই ১৭, ২০২৬ ৬:৩০ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, জুলাই ১৭, ২০২৬ ৬:৩০ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
বৈশ্বিক সংঘাত, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্নে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তে থাকা চাপের প্রেক্ষাপটে নারী ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করতে জাতিসংঘ নারী সংস্থা (ইউএন উইমেন)-এর সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।

একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা এবং নারী ও কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সংস্থাটির আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে ইউএন উইমেনের উপনির্বাহী পরিচালক ও জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব নিয়ারাডজাই গুম্বোনজভান্ডার সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বৈঠকের তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন।

বৈঠকে ড. তিতুমীর বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বাংলাদেশ বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা সংকুচিত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে নারী ও কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়নে ইউএন উইমেনের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ বর্তমানে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। এর ফলে দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ এবং নিরাপত্তার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি প্রত্যাবাসনের পর বিশেষ করে রোহিঙ্গা নারী ও কন্যাশিশুরা যেন নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারে, জীবিকার সুযোগ লাভ করে এবং তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয়, সে লক্ষ্যেও ইউএন উইমেনকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

ড. তিতুমীর বলেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কঠোর ঋণশর্ত এবং সহজ শর্তে ঋণ ও অনুদান পাওয়ার সীমিত সুযোগের কারণে অনেক স্বল্পোন্নত দেশ ক্রমেই ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নারী-কেন্দ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো টেকসইভাবে পরিচালনা করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারের নারী-কেন্দ্রিক বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড চালু, মেয়েদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা, প্রজনন ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সর্বজনীন জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নারীর ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের অংশগ্রহণকে আরও গতিশীল করবে।

বৈঠকে ইউএন উইমেনের উপনির্বাহী পরিচালক নিয়ারাডজাই গুম্বোনজভান্ডা নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জনের প্রশংসা করেন। তিনি পরিবারের নারীপ্রধানের নামে চালু হওয়া ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে নারী-কেন্দ্রিক সামাজিক সুরক্ষার একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি কক্সবাজার সফরের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন এবং বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মানবিক দায়িত্ব পালন করছে, তার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা, লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠা, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক বৈশ্বিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউএন উইমেনের সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ