নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াতের ৬০ দিনেরপ্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন চায় নগরবাসী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, মে ১৩, ২০২৬ ৭:১৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, মে ১৩, ২০২৬ ৭:১৬ অপরাহ্ণ

এম আর কামাল, নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর নগরবাসীকে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়েছিলেন এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। শহরের দীর্ঘদিনের হকার সমস্যা, যানজট, অবৈধ অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ, মশক নিধন, ও ভাঙাচোরা সড়কের সংস্কারে ৫০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন তিনি। তবে দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও বাস্তবতায় তেমন কোনো পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন না নগরবাসী। বরং নানা উদ্যোগের ঘোষণা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন না থাকায় সমালোচনা বাড়ছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছিলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে তিনি স্বল্পমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা হাতে নেবেন। তিনি জানিয়েছিলেন, যানজট, ফুটপাত দখল, অব্যবস্থাপনা ও ধুলোবালির সমস্যা সমাধানে ৫০ থেকে ৬০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে।
সে সময় তিনি আরও বলেছিলেন, নারায়ণগঞ্জ ছোট শহর হলেও এখানে যানজটের মাত্রা ভয়াবহ। কখনো কখনো ঢাকার চেয়েও বেশি যানজট সৃষ্টি হয়। অপরিকল্পিত অটোরিকশা চলাচল, ফুটপাত দখল করে হকারদের বসা এবং সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে নগরবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে কাজ করার কথাও বলেছিলেন। তার ভাষ্য ছিল, প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন ভাবনা ও শাসন ব্যবস্থার ধরণ অনুসরণ করেই আমি কাজ করতে চাই।
তবে দুই মাস পার হওয়ার পর নগরবাসীর অভিযোগ ঘোষণার তুলনায় বাস্তব কাজের অগ্রগতি খুবই কম। বিশেষ করে যানজট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ এখনও চোখে পড়েনি। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে আগের মতোই দীর্ঘ যানজট লেগেই আছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চাষাঢ়া, বঙ্গবন্ধু সড়ক, খানপুর, দুই নম্বর রেলগেট, কালিরবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।
অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ নিয়েও ছিল বড় বড় ঘোষণা। নগরীতে চলাচলকারী অটোরিকশাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে রিকশা কার্ড ও চালকদের আইডি কার্ড প্রদানের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন প্রশাসক। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ফলে যত্রতত্র অটোরিকশা চলাচল ও স্ট্যান্ড গড়ে ওঠার কারণে যানজট আরও বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অন্যদিকে শহরের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল বঙ্গবন্ধু সড়কের হকার উচ্ছেদ অভিযান। গত ১৩ এপ্রিল সিটি করপোরেশন অভিযান চালিয়ে সড়ক ও ফুটপাত থেকে হকারদের সরিয়ে দেয়। শুরুতে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও কয়েকদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরতে শুরু করে। এখন অনেক জায়গায় আবার বস্তা বিছিয়ে বসতে দেখা যাচ্ছে হকারদের।
বঙ্গবন্ধু সড়কে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় হকার উচ্ছেদ কার্যক্রম এখন চোর-পুলিশ খেলায় পরিণত হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযান হলে কিছু সময়ের জন্য সড়ক ফাঁকা থাকে, পরে আবার হকাররা ফিরে আসে। ফলে স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না।
হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়েও আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রশাসক। তিনি জানিয়েছিলেন, হকার্স মার্কেটে তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে বা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো রূপরেখা প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে। হকারদের বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ কর্মীদের মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। এঘটনায় থানায় দশজনের নাম উল্লেখ করে ১৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও এখনও এর কোন অগ্রগতির নেই।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। কার্যকর পরিকল্পনা, রাজনৈতিক সমন্বয় এবং ধারাবাহিক অভিযান ছাড়া নারায়ণগঞ্জ শহরের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধান হবে না।
সবমিলিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের ৬০ দিন পার হলেও নারায়ণগঞ্জ শহরের হকার, যানজট ও অটোরিকশা সমস্যার দৃশ্যমান সমাধান না হওয়ায় সাখাওয়াত হোসেন খানের ঘোষণাগুলোকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
নাসিক প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমি ৬০ দিনের যে কর্মসূচি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তা আস্তবায়ন হতে সময় লাগবে। বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে।
জনতার আওয়াজ/আ আ