নির্বাচনে যারা ভয় পায়, তারা বিভিন্ন অজুহাতে নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চায়: খসরু
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, জুলাই ১২, ২০২৫ ৯:৫২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, জুলাই ১২, ২০২৫ ৯:৫২ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: প্রতিনিধি
নির্বাচনে যারা ভয় পায়, তারা বিভিন্ন অজুহাতে নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শনিবার (১২ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ জাসদ আয়োজিত ‘অপূর্ণ জাতীয় আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “নির্বাচন পিছিয়ে তারা মনে করে কিছু শক্তি সঞ্চয় করে নির্বাচন করবে। প্রেশার গ্রুপ হিসেবে কাজ করতে চায়। তাদের প্রতি আমার একটা উপদেশ, আপনারা প্রেশার হিসেবে থাকেন না কেন? কেন শুধু শুধু নির্বাচনী প্রক্রিয়াটাকে ধ্বংস করতে প্রেশার গ্রুপ হিসেবে আছেন?”
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “আপনারা আগামী দিনে থাকেন, যারা ক্ষমতায় আসবে তাদের উপর প্রেশার গ্রুপের কাজ করবেন। এটা ভালো জিনিস। এটা থাকা দরকার। সিভিল সোসাইটি দরকার, প্রেশার গ্রুপ দরকার। আপনি প্রেশার গ্রুপ হিসেবে থেকে যান। নির্বাচন প্রক্রিয়াটাকে কেন আপনি ধ্বংস করতে চাচ্ছেন? বাংলাদেশের মানুষের মালিকানার মাধ্যমে যে পরিবর্তন আসতে হবে, সেই পরিবর্তনটাকে কেন আপনি বাধাগ্রস্ত করছেন? আপনার পরিবর্তন কেন আমার উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন?”
তিনি বলেন, “আমি মনে করি, আজকে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এক জায়গায়। সেটা হচ্ছে—বাংলাদেশের মানুষের মালিকানা, তাকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন। কোনো কমিশন আপনার এই সমস্যা সমাধান করতে পারবে না। কোনো বিজ্ঞ ব্যক্তি ঢাকায় বসে বাংলাদেশের মানুষের সমস্যা সমাধান করতে পারবে না। বাংলাদেশের মানুষকে তার সমস্যা সমাধান করতে হবে একমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমে।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “যে পরিবর্তনের মাধ্যমে আনতে হবে সেটা হচ্ছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। একটা কমিশন হয়েছে, সেখানে সবাই যাচ্ছে এবং মতামত দিচ্ছে। যতটুকু ঐক্যমত সম্ভব, অতটুকু আপনি করতে পারবেন। আমরাতো সব বাকশাল করতে বসি নাই যে সব আমরা এক জায়গায় ঐক্যমত হবে, তার পরে নির্বাচন হবে, তার পরে আপনার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হবে, তার পর জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে—এটা তো সম্ভব না। যতটুকু আমরা কমনে পৌঁছেছি, এর বাইরে আর কিছু না করে আপনাকে নির্বাচনের দিকে যেতে হবে।”
তিনি বলেন, “আমি মনে করি, বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেরকম গণতন্ত্রায়নের কথাটা উঠে আসছে, অর্থনীতিতেও গণতন্ত্রায়ন করতে হবে। রাজনীতিকে শুধু গণতন্ত্রায়ন করলে এটা টেকসই হবে না। আপনাকে অর্থনীতিকেও গণতন্ত্রায়ন করতে হবে, সামাজিক ব্যবস্থাকেও গণতন্ত্রায়ন করতে হবে। সকলের চিন্তার প্রতিফলন সেভাবে ঘটাতে হবে।”
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “গণঅভ্যুত্থানে চরম দক্ষিণপন্থার উত্থান হয়েছে। ধর্মীয় ভাবাদর্শের জড়াজড়ি হয়েছে। গত ১৫ বছরে বাম প্রগতিশীলদের যে দায়িত্ব ছিল, সেটা ঠিক মতো পালন করা যায়নি।”
তিনি বলেন, “এতগুলো কমিশন হয়েছে, কিন্তু বৈষম্যবিরোধী কোনো কমিশন গঠন হয়নি। সরকার যদি সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আগামী ৩/৪ মাসে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ঠিক করে নির্বাচন করা সম্ভব। নির্বাচন যদি অনিশ্চিত থাকে, যদি দোলাচলে থাকে, তাহলে কিন্তু নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে পারে,” বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় গণফোরামের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমরা অনেক আশা নিয়ে ছিলাম। কিন্তু প্রতিদিনই আমরা আশাহত হচ্ছি। জাতি জানতে চাচ্ছে, কবে, কখন নির্বাচন হবে। কিন্তু সরকার আমাদের সঙ্গে কানামাছি খেলছে। এর মধ্যে আবার একটা কিংস পার্টি করে দিয়েছে। জাতির সঙ্গে তামাশা শুরু করেছে সরকার। এই তামাশা বন্ধ করুন। কেউ কেউ এখন বলছে—স্থানীয় নির্বাচন করেন। কারা এসব বলে, আমরা বুঝি না। পুরো জিনিসে হযবরল অবস্থা। আমরা এটা চাই না। আমরা চারিদিকে অন্ধকার দেখতে পাচ্ছি। লন্ডনের বৈঠকের পরে স্বস্তি পেয়েছিলাম। কিন্তু নব্য রাজনৈতিক দল নতুন করে যে ষড়যন্ত্র করছে, তা হতে দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশ মৌলবাদীদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না।”
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, “গভর্নমেন্ট আসলে নির্বাচন যেভাবে বলছে, সেভাবে দেবে কি না, সেটা নিয়ে গভীর একটা সন্দেহ এখনো আছে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে, এটা এখনো মানুষ সন্দেহ করে। এটা রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে হয়েছে, যারা ক্ষমতায় আছেন, তাদের আচার-ব্যবহারের কারণে হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “অভ্যুত্থান যারা করেছিল, সেই যুব সমাজ এখন বিভিন্নভাবে খণ্ডিত হয়ে গেছে। একটা অংশ একটি পার্টি করেছে ‘বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টি’ নামে। তাদের আরেকটা অংশ যারা, তারাই কিন্তু বঙ্গবন্ধুর বাড়ি আক্রমণ করেছে। এবং তাদেরই লোকেরা প্রথমে গোলাম আজম সাহেবের ছেলে—তিনি একটু নাড়া দিয়ে দেখেছেন, জাতীয় সংগীতটা চেঞ্জ করে দেওয়া যায় কি না। এগুলো টোকা দিয়ে দিয়ে দেখে যে তারা এন্টি-লিবারেশন, অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনীতি যেটা ছিল, সেটাকে কতটুকু কিভাবে এখানে আনা যায়, প্রতিষ্ঠিত করা যায়।”
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ