নীলফামারী-১ আ’লীগে প্রার্থীজট, জাপা-জামায়াতে একক, বিএনপিতে প্রার্থীতা সংকট - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৬:৪৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নীলফামারী-১ আ’লীগে প্রার্থীজট, জাপা-জামায়াতে একক, বিএনপিতে প্রার্থীতা সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মে ১৮, ২০২৩ ২:০৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মে ১৮, ২০২৩ ২:০৪ অপরাহ্ণ

 

নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারী-১ ডোমার-ডিমলা উপজেলায় নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদীয়-১২ আসন ভৌগলিক সিমারেখায় উত্তরে ভারত ঘেষা, পূর্বে লালমনিরহাট, পশ্চিমে পঞ্চগড়ের দেবিগঞ্জ ও দক্ষিণে নীলফামারীর জলঢাকা আর নদী বিধৌত নীলফামারী সদর উপজেলা। অঞ্চলটির অর্থনীতি চাকা ঘুড়িয়েছে কৃষি ও নুরী পাথর। নুরীপাথর রপ্তানিকারক অঞ্চল বলা হয়ে থাকে এ এলাকাটিকে।

অধিকাংশ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের জটের ন্যায় এখানেও রয়েছে। এখানে বর্তমান সাংসদ হলেন- বীরমুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার। এছাড়াও দৌঁড় ঝাপ করছেন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী সংসদের সাবেক উপ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা আ’লীগের সদস্য সরকার ফারহানা আখতার সুমি, ডোমার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম বাবুল, সুপ্রিমকোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সদস্য এ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন এবং সাবেক জাতীয় সংসদের হুইপ আব্দুর রউফ অনুর ছেলে ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার ইমরান কবির চৌধুরী জনি।

অন্যদিকে প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে সংকটে আছে বিএনপিতে। অতীতের সব নির্বাচনে যে দ্ইুজন প্রার্থীরা নির্বাচন করলেও দুজনেই এখন অবস্থান করছেন আমেরিকায়। একজন হলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ভগ্নীপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী অপরজন উনার সন্তান শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন। এবার আলোচনায় আছেন এ দুই নেতা। তাদের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় দেশের বাইরে অবস্থান করছেন তারা।

এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে জামায়াতে ইসলামী গাঁ ঢাকা দিয়ে মাঠ চাষাচ্ছে। তারা বিভিন্ন এলাকায় সভা-সেমিনার করেছেন। সবার মাঝে সামাজিক কাজের মধ্যদিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এর আগে সংগঠনটি জেলা শাখার নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তারকে প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলেছিল। এছাড়াও একাধিকবার আসনটিতে বিজয় লাভ করা জাতীয় পার্টি আবার মরিয়া হয়ে পরেছে। এনেছে প্রার্থীতার পরিবর্তন।

দলটির একটি সূত্রে জানা গেছে, সাবেক সেনা কর্মকর্তা লে. কর্ণেল (অব.) তছলিম উদ্দিনকে করা হয়েছে প্রার্থী। এছাড়াও সাবেক সংসাদ এন.কে আলম চৌধুরী মনোনয়ন প্রত্যাশির তালিকায়।

অপরদিকে মাঠ চাষাচ্ছে জামিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ভাসানী ন্যাপ’র চেয়ারম্যান ও সাবেক সিনিয়র মন্ত্রী স্বপন গণির ছেলে জেবেল রহমান গণি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাইফুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের ইউনুস আলী, ন্যাশনালিস্ট ফন্টে সিরাজুল ইসলাম।

ডোমার-ডিমলা এলাকা নিয়ে গঠিত নীলফামারী-১। আওয়ামী লীগের রাজনীতি এই এলাকাকে ঘিরে হলেও এটি কখনো দলটির একক ঘাঁটি ছিল না। ১৯৯১(পঞ্চম সংসদ), ২০০১(অষ্টম সংসদ), ২০১৪(দশম সংসদ), ২০১৮(একাদশ) আওয়ামী লীগ ও ১৯৯৬ সালের বির্তকিত নির্বাচনে এই আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি। ১৯৯৬(৮ম সংসদ), ও ২০০৮(৮ম সংসদ)তে জয় পায় জাতীয় পার্টি।

নির্বাচনী এলাকার ঘুরে জানা গেছে, এলাকার লোকজন প্রয়োজনে সংসদকে পাশে পান। তাঁর সঙ্গে নিয়মিত দেখা করে অভিযোগ বা দাবি জানাতে পারেন। তবে স্থানীয় লোকজন জানান, কিছু বিষয়ে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। পাথর কোয়ারী, বাণিজ্যিক কোনো শিল্প কল-কারখানা স্থাপন, বেকার দূর করণে নতুন কোনো উদ্যোগসহ নানাবিধি সমস্যা।

এছাড়াও এলাকাটির সাধারণ জনগণ একদিকে অনেকটা খুশি নতুন রাস্তা ঘাট নির্মাণ, প্রস্তুতকরণ ও সংস্কারে। ডিমলা উপজেলার জন্য মূল সমস্যা হয়েছে তিস্তার মহাগ্রাসন। উপজেলাটি তিস্তা বাদে রয়েছে আরও একাধিক বড় নদী। যা উন্নয়ন কল্পের বড় বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উন্নতি হবে মানুষের কৃষি ও অর্থনৈতিক সূচক।

বর্তমান সংসাদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও সংগঠন শুধু আমাকে নয়। যাকে মনোনয়ন দিবেন তারে পক্ষে কাজ করে যাব। এ কাজ আমার আফতাবের নয়, এ কাজ আওয়ামী লীগের, এ কাজ নৌকার। আমি চাই নেতৃত্ব তারুনের মাঝে চলে আসুক। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সাথে কেন্দ্রীয় সংগঠন যাকে ভালো মনে করবেন আমরা তারেই পক্ষে কাজ করবো। আর মডেল ও স্মার্ট নীলফামারী-১ গড়তে বীরমুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন ব্যতিত কোনো প্রার্থী দেখি না।’

গয়াবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহাবুব ইসলাম জানান, জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে প্রথম সারির কোনো গ্রহণযোগ্য নেতাকে প্রার্থী হিসেবে শাহরিন ইসলাম তুহিন ও তার বাবা রফিকুল ইসলাম চৌধুরীর বিকল্প নেই। তারা আজ মিথ্যা মামলায় দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে।

উপজেলা সেচ্ছাসেক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সবুজ আলী জানান, বর্তমান সরকার হামলা-মামলা দিয়ে বিরোধী শক্তিকে দমন করছে। আমরা যদি সুষ্ঠু নির্বাচন পাই তাহলে এখানে ধানের শীষ ব্যতিত কোনো প্রতিকে বিজয় লাভ করতে পারবে না। আজকে আমরা স্বাধীন দেশে বাকস্বাধীনতা হারিয়েছি, রাজনৈতিকসহ সকল স্বাধীনতা হারিয়েছি। এখানে তুহিন ভাইয়ের বিকল্প নেই তবে ওনার পরিবর্তনে ওনার বাবা গত দুইবারের নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেছিল এবারে তিনি থাকবে।

অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, এখনো প্রার্থী ঘোষনা হয়নি। নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া জাতীয় সিদ্ধান্ত। আপনারা দেখেছেন যে ভাবে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে গৃহবন্দি করে রেখেছে তা সুষ্ঠু নির্বাচনে লক্ষণ নয়। তবে, নির্বাচনে এখনো অনেক সময় আছে সময় আসুক তখনি বলা যাবে নির্বাচনে প্রার্থী কে। আপনারা গণমাধ্যম আজ স্বাধীন ভাবে লিখতে, প্রচার করতে পারেন না। মানুষের কথা বলার, লিখার, চলার ও ভোটারাধিকার এই সরকার হরণ করেছে।

তরুণ ভোট সমীপে
একই এলাকার নবীন ভোটার শাওন বলেন, ২০১৯ সালে ভোট উঠলেও জাতীয় নির্বাচনের ভোট দিতে পারিনি। ২০২৪ সালে প্রথম ভোট দিবো দেখে বুঝে ভোট দিবো । তবে, প্রার্থী যারা আসুক না কেন সৎ, যোগ্য, দেশপ্রেমিক ব্যক্তিকে মূল্যবান ভোট প্রদানের মাধ্যমে বিজয়ী করার চেষ্ঠা করবো।

হিমেল নামের আরেক তরুন ভোটার জানান, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে। আর দেশ গড়তে আওয়ামী লীগ ব্যতিত সম্ভব্য নয়। ইতিপূর্বে তারুণের মাধ্যমে পরিবর্তন ঘটেছে এখন তারুনের ভোটে সঠিক সরকার নির্বাচিত হবে বলে মনে করে এই নবীন ভোটার।

নবীন ভোটার
২০১৯-২০২২ সালের সর্বশেষ হালনাগাদ অনুসারে ডিমলা উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ২৪ হাজার ৪৯৫ জন ভোটার। তার মধ্যে নারী ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ১১ হাজার ০৮৪ জন আর পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ১৩ হাজার ৪১০ জন, হিজড়া ভোটার ১। ডোমার উপজেলায় ২ লাখ ০৪ হাজার ৩৪৬ জন ভোটার তার মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৬৮৮ জন ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩ হাজার ৬৮৮জন, হিজড়া ভোটার ২।

ভোট পরিসংখ্যান-
১৯৯১: পঞ্চম জাতীয় নির্বাচনে আবদুর রউফ নৌকা প্রতিকে ৪১ হাজার ২১৮ ভোটে বিজয়ী নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এন কে আলম চৌধুরী লাঙল প্রতিকে ৪০ হাজার ৪৯২ ভোটে পরাজিত হয়।
১৯১৬: ষষ্ঠ জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিকে শাহরিন ইসলাম তুহিন নির্বাচিত হয়।
১৯৯৬: সপ্তম জাতীয় নির্বাচনে এন কে আলম চৌধুরী লাঙল প্রতিকে ৬০ হাজার ৪৪৪ ভোটে জয় লাভ করেন এবং নিকটতম প্রতি›দ্ব›িদ্ব প্রার্থী আবদুর রউফ ৪৭ হাজার ৮৩৩ ভোটে পরাজিত হয়।
২০০১: অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতিকে হামিদা বানু সোভা ৬৬ হাজার ৮৭১ ভোট অর্জন করেন আর লাঙ্গল প্রতিকে এন কে আলম চৌধুরী ৬৫ হাজার ৫৫২ ভোট অর্জন করেন। ১ হাজার ৩১৯ ভোটে পরাজয় লাভ করেন।
২০০৮: নবম জাতীয় নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতিকে জাফর ইকবার সিদ্দিকী ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৫৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী আর ধানের শীষ প্রতিকে রফিকুল ইসলাম ৬৭ হাজার ১৯০ ভোট অর্জন করেন।
২০১৪: দশম জাতীয় নির্বাচনে বিরোধীদল গুলো নির্বাচন বয়কট করলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নৌকা প্রতিকে বীরমুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন নির্বাচন করে, তিনি ৮০ হাজার ৪৩ ভোট পায় এবং জাতীয় পার্টি(এরশাদ) লাঙ্গল প্রতিকে ১৫ হাজার ৮৪৮ ভোট পেয়ে পরাজয় গ্রহণ করেন।
২০১৮: একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতিকে বীরমুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন ২ লাখ ৩ হাজার ৭২৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। কারচুপির অভিযোগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ