পটুয়াখালী-২ -বিএনপি’র চ্যালেঞ্জ জামায়াত - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:৫৯, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

পটুয়াখালী-২ -বিএনপি’র চ্যালেঞ্জ জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৫ ২:২২ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৫ ২:২২ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালী-২ আসনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস ও এনসিপি’র সম্ভাব্য প্রার্থীরা গণসংযোগ ও কর্মিসভার মধ্যদিয়ে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করছেন। দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করতে করছেন গণসংযোগ। মাঠে বেশি তৎপর বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন এবং জামায়াতের ঢাকা দক্ষিণের সেক্রেটারি জেনারেল মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। কিছুটা পিছিয়ে বিএনপি’র সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদার। গণসংযোগে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লিটু ও বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার একেএম ফারুক আহম্মেদ তালুকদারকে।

বাউফল উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটি। এ আসনে বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী চারজন। তাদের মধ্যে তিনজনই কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। চারজনই আলাদা আলাদাভাবে সভা সমাবেশ করে নিজেদের গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। ভোটারদের মধ্যে তাদেরকে নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিএনপি’র সাবেক এমপি মো. শহিদুল আলম তালুকদার। তিনি ২০০১ সালে ধানের শীষ নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। বয়সের কারণে গণসংযোগে পিছিয়ে আছেন। বার্ধক্যের কারণে চলাচল করতে পারেন না। পায়ে হেঁটে সভা সভাবেশে অংশ না নিতে পারাসহ কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো সমস্যায়ও ভুগছেন। মনোনয়ন চাইবেন বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য একেএম ফারুক আহম্মেদ তালুকদার। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। ওই নেতা ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আদালতের মাধ্যমে শহিদুল আলমকে পরাজিত করে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করেন। ২০০৮ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সামনে থেকে বাউফল বিএনপি’র নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময় তিনি এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে দলীয় প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন।

এদিকে, হতাশাগ্রস্ত বিএনপি নতুন করে জেগে ওঠে ২০২২ সালে নতুন আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে। ওই কমিটির সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ক্লিন ইমেজের কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ-দপ্তর সম্পাদক এবং ৯০ দশকের ডাকসু’র সাবেক মিলনায়তন সম্পাদক, এসএম হলের ভিপি ছাত্রনেতা মুহাম্মদ মুনির হোসেন। হাসিনা সরকারের আমলে ৪২টি মামলার আসামি হন। জেল খেটেছেন মাসের পর মাস। দলের ত্যাগী এবং নির্যাতিত এ নেতাকে নিয়ে উপজেলা বিএনপি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। হাসিনা সরকার পতনের বর্ষপূর্তি পালন করতে গিয়ে এবং দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রায় স্মরণকালের বিশাল শোডাউন করে তিনি শক্তপোক্ত অবস্থানের জানান দেন। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি মুনির নিজেও ব্যাপক গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এ ছাড়াও মনোনয়নপ্রত্যাশী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান লিটু। বাউফল উপজেলা কৃষক দল তাকে নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। নিজেও ছুটছেন ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যায়ে। হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে সরব থাকায় তিনিও তিনটি মামলার আসামি হয়েছেন। মো. লিটন নামের এক বিএনপি কর্মী বলেন, ‘পরিবর্তনের ধারায় উদ্যমী প্রার্থীর প্রয়োজন। মুনির ভাই দক্ষ, সৎ, সাহসী, কর্মঠ একজন নেতা। বাউফলের সার্বিক উন্নয়নসহ সুসমাজ গঠনে তার বিকল্প এ মুহূর্তে বাউফল বিএনপিতে নাই। তাই তিনি বাউফলবাসীর আপনজনে পরিণত হয়েছেন।’ উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে দেশের সবাই। আমরাও সেই স্বপ্নের সারথি। বাউফলের মানুষ ক্লিন ইমেজের প্রার্থী চায়। সেক্ষেত্রে মুনির ভাই এগিয়ে থাকবেন যোজনযোজন ব্যবধানে। এ আসনে আওয়ামী লীগ বিএনপি’র ভোট সমানে সমান। নমিনেশন অনেকেই চাইবেন। কিন্তু সবাই ঐক্য হয়ে ধানের শীষের জন্য কাজ করবেন এতে সন্দেহ নাই। ধানের শীষে আমরা ঐক্যবদ্ধ ১৫টি বছর ধরে মানুষ একটি ভোট দেয়ার অপেক্ষায় আছে এবং বিপুল ভোটে ধানের শীষ প্রতীক এ আসনে বিজয়ী হবে ইনশাআল্লাহ।’

এদিকে, এ আসনে জামায়াতে ইসলামী ব্যাপক তৎপর। অতীত পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভোটের মাঠে তাদের অবদান কম নয়। দলটির তরুণ নেতা ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি জেনারেল মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রার্থী। বিভিন্ন দান-দখিনা এবং শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি এসব কর্মকাণ্ড করে মাসুদ নিজেকে আলাদাভাবে চিনিয়েছেন এলাকার ভোটারদের। নিয়মিত জোরেশোরে চালাচ্ছেন গণসংযোগ। শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হলে এ আসনে জামায়াতই জিতবে ইনশাআল্লাহ। এনসিপি’র প্রার্থী হিসেবে দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন গণসংযোগ করছেন। এক সময় ছাত্রশিবির করা শাহীনের বাবা উপজেলা জামায়াতের আমীর। নতুন দিনের ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। অপরদিকে, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ করছেন আইউব বিন মুছা। তিনি দলটির জেলা কমিটির সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। তিনি দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ