পানিতে ডোবা মানুষকে উদ্ধার করাডুবুরি সাদিকের প্রাণ গেল শীতলক্ষ্যায়
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, জুলাই ১৭, ২০২৬ ১০:৫৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, জুলাই ১৭, ২০২৬ ১০:৫৭ অপরাহ্ণ

এম আর কামাল, নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
ছবিঃ প্রতিনিধি
পানিতে ডুবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার করাই ছিল ২৬ বছর বয়সী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি সাদিকের কাজ। এ কাজে দক্ষতার পুরস্কার হিসেবে গতবছর পেয়েছিলেন ফায়ার সার্ভিস পদকও। প্রশিক্ষিত সেই ডুবুরিরই প্রাণ গেলো শীতলক্ষ্যা নদীতে। নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে ডুবে মারা গেছেন ফায়ার সার্ভিসের এ সদস্য। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর নিতাইগঞ্জ ফায়ার ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সহকর্মীদের ধারণা, স্পিডবোট থেকে পড়ে যাওয়ার সময় মাথায় আঘাত পান সাদিক। এরপর আর ভেসে উঠতে পারেননি তিনি। দীর্ঘ ৮ ঘণ্টার তল্লাশি শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলের অদূরে কেরোসিন ঘাট এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে ছুটে আসেন তাঁর স্ত্রী সাদিয়া ও পরিবারের সদস্যরা। হাসপাতালের মর্গে স্বামীর নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ।
দাম্পত্য জীবনের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই থেমে গেল তাঁর জীবনযাত্রা। যে মানুষটি অন্যের স্বজনদের খুঁজে ফিরতেন, আজ তাঁর জন্যই কাঁদছে পরিবার, সহকর্মী আর প্রিয়জনেরা।
২০০১ সালের ১০ অক্টোবর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে জন্ম নেওয়া সাদিক ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর ফায়ার সার্ভিসে যোগ দেন। পরে ২০২২ সালের ৮ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনে যোগ দেন।
তার সহকর্মীদের ভাষ্যমতে, একজন দক্ষ ডুবুরি হিসেবে বিভিন্ন উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি সিদ্ধিরগঞ্জের একটি লেকে নিখোঁজ তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের অভিযানে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ গত বছর ‘সেরা ডুবুরি’ হিসেবে পদকও পেয়েছিলেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, চার সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন সাদিক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিয়ে করেন সাদিক। স্ত্রীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের ডালপট্টি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ