বর্তমানে যুগপৎ আন্দোলনে সরকার কঠোর হলে নতুন কৌশলে যাবে বিএনপি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, মে ৬, ২০২৩ ৩:১৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, মে ৬, ২০২৩ ৩:১৫ অপরাহ্ণ

ডেস্ক নিউজ
বিএনপি বর্তমানে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল ও জোটগুলোর লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করে কর্মসূচি প্রণয়ন করছে। শিগগিরই নতুন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে বিএনপি ও মিত্ররা। এখন সেই কর্মসূচি প্রণয়ন নিয়ে কাজ করছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আন্দোলন ক্রমেই বেগবান করবে বিএনপি। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি না মানলে যা একপর্যায়ে সরকার পতনের একদফা আন্দোলনে পরিণত হবে। মিত্ররা ঈদুল আজহার পরে বিএনপিকে একদফার আন্দোলনে নামার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে বিএনপি আশঙ্কা করছে, আন্দোলন দমনে সামনে সরকার আরও কঠোর হতে পারে। সেক্ষেত্রে হামলা-মামলা-ধরপাকড় আরও বৃদ্ধি পাবে। পরিবর্তিত সেই পরিস্থিতিতে তখন হয়তো এভাবে সবার সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বসে কর্মসূচি প্রণয়ন করা সম্ভব হবে না। তাই উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিএনপিও তখন নতুন কৌশল গ্রহণ করবে। এ লক্ষ্যে যুগপতের শরিক সব দল ও জোট থেকে প্রতিনিধি নিয়ে স্বল্প পরিসরে একটি ‘স্টিয়ারিং কমিটি’ (পরিচালনা পর্ষদ) করার পরিকল্পনা করছে বিএনপি, যাতে এক বৈঠকেই সবকিছু চূড়ান্ত করা যায়। আর যদি বৈঠকে বসার মতো পরিবেশই না থাকে, তাহলে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল যোগাযোগের মাধ্যমে কর্মসূচি প্রণয়ন করা হবে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে গত ৩০ এপ্রিল গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে যুগপতের শরিক গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাতে এই ‘স্টিয়ারিং কমিটি’ গঠনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় বলে বাম ঐক্যের এক নেতা জানিয়েছেন। আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি প্রণয়ন নিয়ে এর আগে ওইদিন চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বৈঠক করে বিএনপি। বাম ঐক্যের দাবি, এ স্টিয়ারিং কমিটি যুগপৎ আন্দোলন পরিচালনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন ছাড়াও দাবি আদায় সাপেক্ষে আগামী নির্বাচন এবং বিজয়ী হলে সরকার গঠন নিয়েও আলোচনা করবে। তবে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ বিএনপি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও যুগপতের লিয়াজোঁ কমিটির প্রধান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ১০ দফার ভিত্তিতে সুশৃঙ্খলভাবে সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে। শরিক সব দল ও জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে যুগপতের কর্মসূচি প্রণয়নসহ আন্দোলন পরিচালনা করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যথাসময়ে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিভাগীয় গণসমাবেশ থেকে ১০ দফার ভিত্তিতে যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। এরপর ঢাকার বাইরে ২৪ ডিসেম্বর এবং ঢাকায় ৩০ ডিসেম্বর থেকে যুগপৎ আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনে ৩৮টি রাজনৈতিক দল সম্পৃক্ত হয়। এদের মধ্যে সাত দলের গণতন্ত্র মঞ্চ, ১১ দলের ১২ দলীয় জোট, ১০ দলের জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ও চার দলের গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য রয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি, জামায়াত, এলডিপি ও লেবার পার্টি পৃথকভাবে এবং গণফোরাম (মন্টু) ও বাংলাদেশ পিপলস পার্টি (বিপিপি) যৌথভাবে আন্দোলনে যুক্ত রয়েছে। লেবার পার্টি প্রথমে ১২ দলীয় জোটে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পরে জোট ত্যাগ করে এককভাবে যুগপতের কর্মসূচি পালন করছে।
‘স্টিয়ারিং কমিটি’ গঠন প্রসঙ্গে গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের একজন নেতা বলেন, আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি প্রণয়ন নিয়ে গুলশানে বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের পর তারা (গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের নেতারা) দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তখন বিএনপি মহাসচিব ‘স্টিয়ারিং কমিটি’ গঠন নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি (ফখরুল) বলেন, বিএনপির আন্দোলন সামনে আরও বেগবান হবে, পর্যায়ক্রমে তা একদফায় পরিণত হবে। আন্দোলন দমনে তখন সরকার আরও কঠোর হতে পারে। পরিবর্তিত সেই পরিস্থিতিতে যুগপতের শরিক সব দলকে নিয়ে তখন ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করা হয়তো সম্ভব হবে না। তা ছাড়া সব দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মসূচি প্রণয়ন করাও সময়সাপেক্ষ একটা ব্যাপার। তাই আন্দোলন পরিচালনার সুবিধার্থে শরিক প্রতিটি জোট থেকে দুজন করে নিয়ে স্বল্প পরিসরে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হতে পারে। বিএনপি থেকে ওই কমিটিতে ৫ জন অন্তর্ভুক্ত হবেন, যার প্রধান হবেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আর তিনি নিজে ওই কমিটির সদস্য হবেন।
নতুন কর্মসূচি প্রণয়ন নিয়ে এরপর ২ মে গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠক করে বিএনপি। ওই বৈঠক প্রসঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চের এক নেতা জানান, আলোচনার একপর্যায়ে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, সামনে আন্দোলন জোরদার হলে হয়তো এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে যুগপতের শরিক সব দল ও জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বসে আলোচনা করা সম্ভব নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে শুধু জোটের সমন্বয়কের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন কর্মসূচি প্রণয়ন করা হবে।
এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে বিএনপির বৈঠকে স্বল্প পরিসরে এমন একটি কমিটি গঠন নিয়ে প্রথম আলোচনা হয়। তখন অবশ্য সুশৃঙ্খলভাবে যুগপৎ আন্দোলন পরিচালনা এবং কর্মসূচি প্রণয়ের লক্ষ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে ‘কোর কমিটি’ গঠনের কথা বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে ওই কমিটির জন্য গণতন্ত্র মঞ্চের কাছে ২ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকাও চাওয়া হয়। এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি গণতন্ত্র মঞ্চ নিজেরা বৈঠক করে মঞ্চের যখন যিনি সমন্বয়ক থাকবেন, তখন তিনি ওই ‘কোর কমিটি’তে প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেয়; কিন্তু বিষয়টি পরবর্তীতে আর এগোয়নি।
এদিকে ঈদুল ফিতরের আগে ১২ দলীয় জোটের সঙ্গে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিএনপি আলোচনা করেছিল বলে জোটের এক নেতা জানান। তবে নতুন কর্মসূচি প্রণয়ন নিয়ে গত ৩০ এপ্রিল বিএনপির সঙ্গে ১২ দলের বৈঠক হলেও সেখানে ‘কোর কমিটি’ কিংবা ‘স্টিয়ারিং কমিটি’ গঠন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান জোটের এক নেতা।
জানতে চাইলে বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেন, যুগপতের শরিক সব দল ও জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এখন কর্মসূচি প্রণয়নসহ আন্দোলন পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে যদি তেমন কঠোর কোনো পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজন পড়লে তখন কৌশলের অংশ হিসেবে শরিক সব দল ও জোটের প্রতিনিধি সমন্বয়ে স্বল্প পরিসরে একটি ‘স্টিয়ারিং কমিটি’ গঠন করা হতে পারে।কালবেলা
জনতার আওয়াজ/আ আ