বাংলাদেশের রাজনীতি ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উদ্বেগ - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৪:২৩, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বাংলাদেশের রাজনীতি ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫ ১০:০৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫ ১০:০৯ অপরাহ্ণ

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ছবি :সংগৃহীত

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে। এতে উঠে এসেছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, সংখ্যালঘু সুরক্ষা ইস্যু এবং ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ।

মানবাধিকার ও সংখ্যালঘু সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ: গত এক বছরে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হাউস অব কমন্সে লেবার এমপি ব্যারি গার্ডিনার ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা বৃদ্ধির অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ক মন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট জানান, ব্রিটিশ সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধকরণ নিয়ে সমালোচনা: ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের ওপর “নজিরবিহীন হামলা” হিসেবে আখ্যায়িত করেন ব্রিটিশ এমপিরা। ১৫ জুলাই এমপি বব ব্ল্যাকম্যান ও বাংলাদেশ ইউনিটি ফোরামের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক পার্লামেন্টারি অনুষ্ঠানে বক্তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রয়োগেরও কঠোর সমালোচনা করেন।

আইসিসিতে অভিযোগ পাঠানো: আলোচনায় জানানো হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) বরাবর পাঠানো এক বার্তায় নির্বিচার গ্রেপ্তার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান: ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত সাধারণ নির্বাচন অপরিহার্য। এজন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ও অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ওপর জোর দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দফতর। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং ভিন্নমত দমন না করার আহ্বান জানানো হয়।

এমপি টিউলিপ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে অভিযোগ: আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ। তার খালা ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর এসব অভিযোগ আনা হয়। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি পদত্যাগ করেন। তবে টিউলিপ সিদ্দিকী অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন।

পার্লামেন্টারি প্রতিবেদন প্রত্যাহার : ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত কমনওয়েলথ বিষয়ক সর্বদলীয় পার্লামেন্টারি গ্রুপের (এপিপিজি) প্রতিবেদনটি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রত্যাহার করা হয়। অভিযোগ ছিল, ওই প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার সরকারকে কেন্দ্র করে পক্ষপাতমূলক অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। লেবার এমপি রূপা হক এ প্রতিবেদনকে “সরকারি প্রাসঙ্গিকতা ছাড়া অন্তবর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে কুৎসিত হামলা” বলে মন্তব্য করেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ