বিএনপি কেন চুপ্পুকে রাখতে চায়, আমি যুক্তি খুঁজে পাই না : ফরহাদ মজহার - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৪:১৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বিএনপি কেন চুপ্পুকে রাখতে চায়, আমি যুক্তি খুঁজে পাই না : ফরহাদ মজহার

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, নভেম্বর ১, ২০২৪ ৪:৫৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, নভেম্বর ১, ২০২৪ ৪:৫৩ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
বর্তমান সময়ে বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল, তাদের কাছে অনেক বেশি দায়িত্ব প্রত্যাশা করেন বলে জানিয়েছেন লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার। তিনি বলেছেন, আমরা আশা করব বিএনপি অনেক দায়িত্বশীল ভাবে কথা বলবেন। বাংলাদেশে বর্তমানে আমরা যে দুর্বল মুহূর্তে পড়ে গেছি, এই সময় বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল ; তাদের কাছে অনেক বেশি দায়িত্ব আমরা আশা করি।

শুক্রবার (১ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সেন্টার ফর ডেমিক্রেসি এন্ড পিস স্টাডিজ আয়োজিত ‘দুর্নীতি ও রাষ্ট্রপতি বা সংস্কার’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

ফরহাদ মজহার বলেন, বিএনপি কেন চুপ্পুকে রাখতে চায় আমি কোন যুক্তি খুঁজে পাই না। এটার কোন সাংবিধানিক যুক্তি এবং রাজনৈতিক যুক্তি নেই। এই তথাকথিত ফ্যাসিস্ট সংবিধানের অধীনে ঢুকানোটাই ভুল ছিল। এই ভুলটা সংশোধন করার উপায় হচ্ছে প্রথমত চুপ্পুকে অপসারণ করা এবং একই সঙ্গে ঘোষণা দেওয়া যে আমরা শুরুতে ভেবেছিলাম সাংবিধানিকভাবে আমরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে পারব। কিন্তু রাষ্ট্রপতি যখন আমাদেরকে বললেন তার কাছে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ পত্র নেই ; তিনি (রাষ্ট্রপতি) আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তার ওইখানে থাকার কোন অধিকার নেই। তাকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, এটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়। এট সেনা সমর্থিত উপদেষ্টা সরকার। সেনা প্রধানের সাপোর্টের কারণে এই সরকার এখনো টিকে আছে। সেনাপ্রধান যদি এই সরকারকে সমর্থন না করেন তাহলে সরকার মুহূর্তের ভিতরেই পড়ে যাবে। তার শুভবুদ্ধির উপর ভিত্তি করে এটা দাঁড়িয়ে আছে। আমরা সেনা সমর্থিত উপদেষ্টা সরকার চাই না। আমাদের সৈনিকরাও চাই না। সৈনিকরা গুলি করতে অস্বীকার করেছিল বলে এই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। শ্রমিকদের অভিপ্রায়ের সঙ্গে আমরা এখানে যারা উপস্থিত আছি আমাদের অভিপ্রায় মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যে রাষ্ট্র জনগণের অভিপ্রায়কে প্রতিনিধিত্ব করে।

এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, জনগণের অভিপ্রায়ের প্রতিনিধিত্ব হবে তখন, যখন আমরা চুপ্পুকে অপসারণ করবো। এবং তারা স্বীকার করবে আমরা ভুল করেছি, ভুল হতেই পারে; তবে আমরা শুধরাতে চাই। এখন আমাদেরকে অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে ঘোষণা করুন। আমরা অধ্যাদেশ হতে চাই না। একটু সাবধানে থাকতে হবে। তারা কিন্তু আবার পুরনো সংবিধানের নামে অধ্যাদেশ করার চেষ্টা করবে। আমরা কোন অধ্যাদেশ মানবো না। এই অন্তর্বর্তী সরকারের একটাই প্রধান দায়িত্ব সেটা হলো এই দেশকে একটি নতুন গঠনতন্ত্র অথবা একটি কনস্টিটিউশন উপহার দেওয়া। নতুন গঠনতন্ত্র কি করে হবে এটা করার জন্য আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। জনগণের অভিপ্রায় আপনারা জনগণের কাছে এসেই শুনতে হবে। আমরা পরস্পরে আলাপ-আলোচনা করে একটা জায়গায় আসবো যেটা জনগণের সমষ্টির অভিপ্রায়।

ক্ষমতা সব সময় তৈরি হয় জনগণের দ্বারা জানিয়ে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, এই পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ইলেকশন করাটা হলো একটি বাজার ব্যবস্থা ব্যবসা। খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইলেকশন কখনো গণতন্ত্রকে রিপ্রেজেন্ট করে না। নির্বাচনের সময় ভোট কেনাবেচা করে এটাতো জনগণের অভিপ্রায় নিশ্চিত হবে না। আমরা চেয়েছি জনগণের অভিপ্রায় নিশ্চিতকরণ। যাদের কাছে টাকা আছে বিশেষ করে লুটেরা মাফিয়া শ্রেণি তারাই এই ইলেকশনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাবে। আমি আপনি কেউ রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে অংশগ্রহণ করতে পারবো না। এখন আমাদেরকে এমন একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হবে যেখানে সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে পারে। সেই নীতি আমাদের সংবিধানে এখনো আছে। সংবিধানের ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্রের সকল প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নির্বাচিত জনগণের প্রতিনিধির দ্বারা প্রশাসন চলবে। প্রশাসন এক জিনিস ক্ষমতা আরেক জিনিস।

তিনি বলেন, যতক্ষণ তুমি জনগণের অভিপ্রায় ধারণ করো কতক্ষণ আমি তোমাকে মানি। কিন্তু যখন তুমি জনগণের অভিপ্রায় থেকে সরে গেছো যেমন ঠিক শেখ হাসিনাকে যেভাবে পতন করা হয়েছে। ঠিক তোমাকেও পতন করা হবে। সেজন্য বলবো নির্বাচন আমাদের জন্য মোটেও কোন কিছুর সমাধান নয়। বিএনপিকে এজন্যই বলব নির্বাচন সমাধান নয়। নির্বাচন আমরা অবশ্যই চাই। কিন্তু নির্বাচনের আগে সর্বপ্রথম গণপরিষদ নির্বাচন করতে হবে। একটা নতুন খসড়া তৈরি হবে, সেই খসড়ার আলাপ আলোচনা করার জন্য গণপরিষদের নির্বাচন ব্যবস্থা করতে হবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ