বিকাশমান বাংলাদেশের রূপকার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:১৩, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বিকাশমান বাংলাদেশের রূপকার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, মে ৩১, ২০২৩ ১:৩০ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, মে ৩১, ২০২৩ ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ

 

নজির হোসেন
এক।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের পর বাংলাদেশের অপুঁজিবাদী মিশ্র অর্থনীতি চালু করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকার অর্থনীতি ও শাসন পদ্ধতি কী হওয়া উচিত সেই ব্যাপারে একেবারেই দিশেহারা হয়ে যায় ৷ বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র নামের ইউটোপিয়া আওয়ামী যুব সমাজকে বিভ্রান্ত করে দেয় এবং তখনকার শাসকগোষ্ঠীর চিন্তা ও শাসনকে অস্থির করে তোলে। এশিয়টিক মোড অব ডেমোক্রেসির এই অঞ্চলের স্বরূপ উন্মোচনের রাজনৈতিক মেধা আওয়ামী লীগে দৃশ্যমান হয়নি ৷ ফলে তখনকার শাসকগোষ্ঠী ভুল পথে ধাবিত হয়ে বহুদলীয় শাসনের কমিটমেন্ট থেকে সরে গিয়ে বাকশাল গঠন করেন ৷ কমিউনিস্ট পার্টি আওয়ামী লীগকে ভুল পরামর্শ দিয়ে বিপথগামী করে ৷ শিল্প জাতীয়করণের মাধ্যমে শিশু পুঁজিবাদকে হত্যা করা হয় ৷ পুঁজিবাদী বাজার অর্থনীতিকে ধারণ করে কৃষি বিপ্লবই ছিল প্রধান করণীয়। আওয়ামী লীগ তা না করতে পারার ফলে ৭৪ এর দুর্ভিক্ষ অনিবার্য হয়ে পড়ে ৷ দুর্নীতির অপশাসনে সমাজ জীবন কলুষিত হয়ে পড়ে৷
দুই।
শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তম-এর সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে খালকাটা কর্মসূচি, কৃষিভর্তুকি, কৃষিঋণ প্রবর্তন, কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ, সার, বীজ, কীটনাশক ঔষধ সরবরাহ, উন্নত জাতের ফলনশীল ধান প্রবর্তন, গ্রাম সরকার, গ্রামরক্ষী বাহিনী গঠন, মৎস্য উৎপাদনে আধুনিক নীতি ব্যবস্থা প্রনয়ন, জাল যার জলা তার নীতির বাস্তবায়ন, মৎস্য চাষে বৈজ্ঞানিক উৎপাদন ব্যবস্থায় সমর্থন দেওয়া ইত্যাদি উদ্যোগ গ্রহণ করে কৃষিতে গুণগত পরিবর্তন এনে কৃষি বিপ্লব শুরু করেন ৷ খাদ্য উৎপাদনে বিপ্লব ঘটে যায় ৷
সমাজের দক্ষিণ শক্তি এবং সামরিক বাহিনী, অসন্তুষ্ট বামপন্থীসহ সমাজ জীবনের সর্বস্তরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চত করেন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন ৷ উৎপাদনমুখী শিল্পনীতি প্রনয়ন করে জাতীয়করণের গতি থামিয়ে বাজার অর্থনীতি চালু করেন ৷ জাতীয় চরিত্রের উৎপাদক শ্রেণি গড়ে উঠার সকল সুযোগ সৃষ্টি করে দেন ৷ প্রাথমিক শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন ৷ সামগ্রিক শিক্ষায় বিপ্লব ঘটান ৷ অবকাঠামো ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করেন ৷
সার্ক দর্শন ও সার্ক বাস্তবায়ন করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিকট প্রতিবেশীর কাছে বন্ধুত্ব পৌঁছে দেন ৷ পাশ্চাত্য, প্রাচ্য, মধ্যপ্রাচ্য সর্বত্র স্বাধীন বাংলাদেশকে তুলে ধরেন ৷
তিন।
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন তুলে ধরে একটি সামাজিক রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরি করেন ৷ স্বাধীনতার শত্রূদের নির্মুল করতে না পারার কারণে পাকিস্তানি ভাবধারা ও সমাজে চলমান দ্বিজাতি তত্ত্বের সংমিশ্রণে এক ডানপন্থী ক্ষমতাকেন্দ্র গড়ে ওঠার বিপরীতে ডান-বাম-মধ্যপন্থীদের এক প্লাটফর্মে সমবেত করার কৌশল গ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি মধ্যধারার সৃষ্টি করেন ৷ সৎ, সাদাসিধে জীবন যাপন এবং আদর্শ শাসকের যোগ্যতা তাকে বিশ্বে এক সুপরিচিত রাষ্ট্রনায়কে পরিণত করে ৷
১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তিনি বহুদলীয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন ৷ দেশে ইলেকটোরাল ডেমোক্রেসির ধারা সূচিত হয় ৷
২০১৪ সালে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে দমন ও নির্যাতন করে মাদার অব ডেমোক্রেসি দেশনেত্রী বেগম বেগম খালেদা জিয়াকেই জেলে দেয়নি মূলতঃ গণতন্ত্রকেই জেলবন্দি করে রেখেছে৷
চার।
কিন্তু ইতিহাসের গতিধারায় বন্ধি গণতন্ত্র আবার মুক্ত হবে ৷ কোন স্বৈরশাসনই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি ৷ শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জাতীয় ঐক্যের দর্শনটি ধারন করে ‘গণতান্ত্রিক শক্তির জাতীয় ঐক্য এবং জাতীয়তাবাদীদের সাংগঠনিক শক্তি’ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে অচিরেই নিখোঁজ গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবে ৷

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ