ব্যতিক্রম মুক্তাদির: প্রস্তাব-সমর্থকে কেউ নেই বিএনপির - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:৪০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ব্যতিক্রম মুক্তাদির: প্রস্তাব-সমর্থকে কেউ নেই বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫ ১১:২০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫ ১১:২০ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই গা ভাসাননি গতানুগতিক ধারায়। নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে শোডাউন করে গৎবাঁধা মতবিনিময়, লিফলেট বিতরণ আর গণসংযোগের পথে হাঁটেননি তিনি। রাষ্ট্র সংস্কারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা নিয়ে হেঁটেছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। সভা-সেমিনার করে তরুণদের উদ্ধুব্ধ করেছেন ৩১ দফায়। বসেছেন পেশাজীবীদের সাথে। পাড়া-মহল্লায় গিয়ে শুনেছেন সাধারণ মানুষের কথা। আগামীর সিলেট কেমন দেখতে চায় তারা- সেটা শুনেছেন। সিলেট নিয়ে স্বপ্নের কথা জানতে নগরীর জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বসিয়েছেন কিউআর কোড সম্বলিত ফেস্টুন। আধুনিক ও যুগোপযোগী এমন প্রচারণায় প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

মনোনয়ন দাখিলেও তিনি পরিচয় দিয়েছেন সৃজনশীলতার। যেখানে সকল প্রার্থীর প্রস্তাবক ও সমর্থক ছিলেন দলীয় নেতাকর্মী, সেখানে খন্দকার মুক্তাদিরের প্রস্তাব ও সমর্থকরা ছিলেন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তাঁর দাখিল করা তিন সেট মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষরকারী প্রস্তাব ও সমর্থকদের মধ্যে ছিলেন ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা, চব্বিশের জুলাইযোদ্ধা, সাংবাদিক, চা শ্রমিক, পেশাজীবী ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের পক্ষে তিন সেট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং দুইজন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার (নির্বাচন অফিস ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস) কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।

এই তিন সেট মনোনয়নপত্রে প্রস্তাব ও সমর্থকদের মধ্যে বিএনপির কোন নেতাকর্মীর নাম ছিল না। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাখিল করা মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক ও সমর্থক ছিলেন জুলাইযোদ্ধা নাঈম আহমদ চৌধুরী ও চা শ্রমিক নেতা জয় মাহাত্ম কুর্মি।

বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, প্রচারণার সময় খন্দকার মুক্তাদির সবসময় চেষ্টা করেন সাধারণ মানুষের কথা শোনার। মতবিনিময়ের সময় তিনি চেষ্টা করেন সিলেট নিয়ে তাদের স্বপ্নগুলো জানার। দলের ‘বড় নেতা’ হলেও তাঁর মার্জিত আচরণ মুগ্ধ করে সাধারণ ভোটারদের। অবলীলায় তিনি মিশে যেতে পারেন রাস্তার পাশে কাজের জন্য অপেক্ষমান শ্রমিক কিংবা বাগানে ঘাম ঝরিয়ে আসা চা শ্রমিকদের মাঝে। তাঁর এই গুণ অন্য যে কোন রাজনীতিক বা প্রার্থী থেকে তাকে আলাদা করেছে।

এদিকে, সোমবার খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের পক্ষে নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে তিন সেট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা মনোনয়নপত্রে প্রস্তাব ও সমর্থক ছিলেন- সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, প্রবীণ সাংবাদিক ইকবাল সিদ্দিকী ও সিলেট জেলা বারের প্রবীণ আইনজীবী নোমান মাহমুদ।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সিলেট সদরের ইউএনও’র কাছে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক ও সমর্থক ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মনাফ খান ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি ওয়াজিহা লোদী।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের এই ব্যতিক্রম প্রস্তাবক ও সমর্থকের বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ মানুষের কাছে বেশ প্রশংসিত হয়। নগরীর কুশিঘাটের বাসিন্দা ইমতিয়াজ রহমান বলেন, ‘খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সবসময়ই ব্যতিক্রম। নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে ভোটের জন্য তিনি কোন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে শুনেনি। অথচ অনেক প্রার্থী ভোটারদেরকে অলীক গল্প শুনিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তার এই সত্যবাদিতা আমার মতো অনেক ভোটারকে মুগ্ধ করেছে। তাঁর মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক ও সমর্থক হিসেবে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশীদারিত্ব থাকার বিষয়টি প্রশংসার দাবি রাখে। এতে বুঝা যায় তিনি সবার সমর্থন ও ভালোবাসা নিয়েই সবার জন্য বাসযোগ্য সিলেট গড়তে চান।’

এ প্রসঙ্গে সিলেট-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘তারেক রহমান তাঁর ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি রেইনবো ন্যাশন গড়তে চান। জনগণকে সাথে নিয়েই সেই ৩১ দফা বাস্তবায়ন করা আমাদের লক্ষ্য। আমরা ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ এর জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে দেশ গড়তে চাই। এ লক্ষ্যেই মনোনয়নপত্রে প্রস্তাব ও সমর্থক হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাইযোদ্ধাদের প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। তরুণরাই যেহেতু আগামী বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে তাই তাদের প্রতিনিধির স্বাক্ষরও রয়েছে মনোনয়নপত্রে। এছাড়া বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিদেরও আমরা চেষ্টা করেছি সম্পৃক্ত করতে। সবমিলিয়ে আমরা দলীয় গণ্ডির ভেতর থেকে বের হয়ে সর্বস্তরের মানুষ নিয়েই একটি আধুনিক সিলেট গড়তে চাই।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ