ভোট শুরু হবে সকাল সাড়ে ৭টায়, একটানা চলবে ৯ ঘণ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ ১১:১৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ ১১:১৪ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি
দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একদিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবার এক ঘণ্টা সময় বৃদ্ধি করে মোট ৯ ঘণ্টা ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ভোট ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে। ইসি জানিয়েছে, একই দিনে দুটি ভোট আয়োজনের কারণে ভোটারদের নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই সময় বাড়ানো হয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, এবারের সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবেন তরুণ ভোটাররা। ৩৫ বছরের নিচে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ কোটি ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৫৬১ জন। এর মধ্যে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী ভোটার রয়েছেন ২ কোটি ১২ লাখ ৪২ হাজার ৫৩১ জন। এ বয়সী ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ১ কোটি ১৭ লাখ ৫১ হাজার ৯০২ জন, নারী ৯৪ লাখ ৯০ হাজার ২২১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৪০৮ জন।
এছাড়া ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ভোটার আছেন ১ কোটি ৭৮ লাখ ১ হাজার ৩০ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ৪১ লাখ ১ হাজার ৯০ জন, নারী ভোটার ৩৬ লাখ ৮৯ হাজার ৫৬২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫৬৭ জন।
ইসি সচিব জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার এক হাজার ২৩২ জন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত রয়েছে। ওই আসনে পরবর্তীতে নতুন তফসিল অনুযায়ী ভোট নেওয়া হবে।
ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে। এর মধ্যে ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোট পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করবেন মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা। এদের মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন।
নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জন জেলা প্রশাসক এবং তিনজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, যারা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজ করছেন। ২৯৯ আসনের নির্বাচনে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নিচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে মোট প্রার্থী সংখ্যা দুই হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী এক হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন, যার মধ্যে ৬৩ জন দলীয় ও ২০ জন স্বতন্ত্র। পুরুষ প্রার্থী এক হাজার ৯৪৬ জন, এর মধ্যে এক হাজার ৬৯২ জন দলীয় ও ২৫৩ জন স্বতন্ত্র।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে মোতায়েন করা হয়েছে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য। সেনাবাহিনীর এক লাখ তিন হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। নৌবাহিনীর ৫ হাজার সদস্য উপকূলীয় পাঁচ জেলার ১৭ আসনে কাজ করছেন এবং বিমানবাহিনীর সাড়ে ৩ হাজার সদস্যও দায়িত্বে রয়েছেন।
এছাড়া বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্টগার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন, পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন, র্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯ জন, আনসারের ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন এবং বিএনসিসির ১ হাজার ৯২২ জন সদস্য ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।
নির্বাচনি অপরাধ দমনে ৬৫৭ জন বিচারিক হাকিম, এক হাজার ৪৭ জন নির্বাহী হাকিম এবং ৩০০ জন বিচারিক হাকিম সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি দায়িত্ব পালন করছেন। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪৬৮টি মামলার মধ্যে ২৫৯টি মামলায় প্রার্থী ও সমর্থকদের ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৪৯০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নির্বাচনি তদন্ত কমিটি সংক্ষিপ্ত বিচারে আরও ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে।
ভোট পর্যবেক্ষণে ইসির আমন্ত্রণে ৫৭ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক, স্বেচ্ছায় আগত ৩৩৫ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং ১৫৬ জন বিদেশি সাংবাদিক দেশে অবস্থান করছেন। এছাড়া দেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে ৮০টি সংস্থার ৪৪ হাজার ৯৯৫ জন দায়িত্ব পালন করবেন।
সব মিলিয়ে বাড়তি সময়, নতুন পোস্টাল ভোট ব্যবস্থা এবং ব্যাপক নিরাপত্তা আয়োজনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
জনতার আওয়াজ/আ আ