মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে প্রথম ভাষণে যা বললেন বিজয় - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৫:২৭, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে প্রথম ভাষণে যা বললেন বিজয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, মে ১১, ২০২৬ ৩:২৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, মে ১১, ২০২৬ ৩:২৬ অপরাহ্ণ

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় শপথ নেওয়ার পর প্রথম ভাষণে নিজেকে একজন ‘সাধারণ মানুষ’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো রাজকীয় পরিবার থেকে না আসা একজন মানুষ হিসেবেই জনগণ তাকে গ্রহণ করেছে।

রোববার (১০ মে) চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে বিজয় বলেন, তিনি জনগণকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেবেন না এবং ‘প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ সামাজিক ন্যায়ের নতুন যুগ’ গড়ে তুলতে কাজ করবেন। একই সঙ্গে তার সরকারের কাজ মূল্যায়নের জন্য জনগণের কাছে যুক্তিসঙ্গত সময়ও চান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে ছাড়া আর কোনো ক্ষমতার কেন্দ্র থাকবে না। আমিই একমাত্র ক্ষমতার কেন্দ্র হব।’ তার এই মন্তব্যকে জোটসঙ্গীদের চাপমুক্ত থেকে সরকার পরিচালনার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী, বিজয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ ৬২৪ কোটি রুপি। এর মধ্যে ২১৩ কোটি রুপি বিভিন্ন সঞ্চয়ী হিসাবে এবং ১০০ কোটি রুপি বিভিন্ন ব্যাংকে স্থায়ী আমানত হিসেবে রয়েছে।

ভাষণে বিজয় জানান, স্বচ্ছতার স্বার্থে তিনি রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের কথা বিবেচনা করছেন।

ভাষণে তিনি বলেন, ‘তামিলনাড়ু সরকারের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাজ্যের মোট ঋণ ১০ লাখ কোটি রুপির বেশি হয়ে গেছে। সরকারি কোষাগার প্রায় খালি করে ফেলা হয়েছে এবং অসহনীয় বোঝা রেখে যাওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতেই আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। দায়িত্ব নেওয়ার পরই প্রকৃত অবস্থা জানা সম্ভব হবে। সবকিছু মূল্যায়নের পর আমরা একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করব। আমি স্বচ্ছ সরকার পরিচালনা করতে চাই, জনগণকে প্রকৃত অবস্থা জানাতে চাই এবং সেখান থেকেই এগোতে চাই। সেটাই হবে আমার প্রথম দায়িত্ব।’

প্রথম ভাষণে বিজয় বলেন, ‘আজ আপনারাই সেই কারণ, যার জন্য আমি বলতে পারছি ‘আমি সি জোসেফ বিজয়’। আমি কোনো ত্রাণকর্তা নই। আমি একজন সাধারণ মানুষ, যিনি সাধারণ জীবনযাপন করেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করব না। যা সম্ভব, শুধু সেটাই করব। অনেকেই ভাবতে পারেন অসম্ভব মনে হওয়া কাজ আদৌ সম্ভব কি না। কিন্তু কোটি কোটি মানুষ যখন আমার পাশে দাঁড়ায়, তখন আমি বিশ্বাস করি সবকিছুই সম্ভব। সেই আত্মবিশ্বাস আমার আছে।’

নিজের পারিবারিক পটভূমির কথা তুলে ধরে বিজয় বলেন, ‘একজন সহকারী পরিচালকের ছেলে হিসেবে, যিনি সিনেমায় সফল হতে কঠোর সংগ্রাম করেছেন, আমি দারিদ্র্য আর ক্ষুধার অর্থ খুব ভালোভাবেই জানি। আমি কোনো রাজপরিবার থেকে আসিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের পরিবারেরই একজন। আপনারাও আমাকে সেভাবেই দেখেছেন বলেই সিনেমায় এত বড় জায়গা দিয়েছেন। সবকিছু ছেড়ে আমি রাজনীতিতে এসেছি আপনাদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার ঋণ শোধ করতে। আর আপনারা আমাকে ভালোবাসা দিয়ে গ্রহণ করেছেন।’

তামিলনাড়ুর জনগণকে ‘নতুন শাসনব্যবস্থা ও নতুন সূচনার’ জন্য এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিজয় বলেন, ‘আজ থেকে ধর্মনিরপেক্ষ সামাজিক ন্যায়ের নতুন যুগ শুরু হলো।’

বক্তব্যে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ‘ভার্চুয়াল যোদ্ধাদের’ ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি তাকে সমর্থন দেওয়া তরুণ ভক্তদেরও কৃতজ্ঞতা জানান, যারা তাকে ‘বিজয় মামা’ বলে ডাকেন।

এ সময় মঞ্চে উপস্থিত জোটসঙ্গী নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিজয়। তিনি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, কে সি ভেনুগোপাল, তামিলনাড়ু কংগ্রেস নেতা কে সেলভাপেরুনথাগাই, প্রবীণ চক্রবর্তী, সিপিআই(এম) নেতা এম এ বেবি, থোল থিরুমাভালাভান, ডি রাজাসহ জোটের অন্য নেতাদের ধন্যবাদ জানান।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিজয়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকার তামিলনাড়ুর নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।

সূত্র: এনডিটিভি

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ