যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আব্দুল জলিলের দাফন সম্পন্ন হয়েছে - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:১৬, শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আব্দুল জলিলের দাফন সম্পন্ন হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, নভেম্বর ৩, ২০২৫ ১:০১ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, নভেম্বর ৩, ২০২৫ ১:০১ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) জোহরের নামাজের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের নিউজার্সি ফাউন্টেন লোন মেমোরিয়াল পার্ক, 545 Eggert crossing rd,Trenton, NJ 08638- এ তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

এর আগে জোহরের নামাজের পরপরই নিউইয়র্কের ওজন পার্কের ২০৩ ফরবেল স্ট্রিটের আল আমান জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্টিত হয়েছে।

জানাজার আগে মরহুমের জীবনের গুরুত্বপূর্ন বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসাবে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান শ্রদ্ধার সাথে সবাই স্মরণ করেন। এছাড়াও তাঁর সেবামূলক বিভিন্ন তৎপরতা ও খেলোয়াড়ী জীবন নিয়েও স্মৃতিচারণ করেন কেউ কেউ।

তারা বলেন, আব্দুল জলিলকে হারিয়ে নিউইয়র্কের বাঙালী কমিউনিটির অপুরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। তবে আমরা তাঁর দেখানো পথে প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করে তাঁর অভাব পূরণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো, যদিও তা কখনো হওয়ার নয়।

ব্ক্তারা তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

গত বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকাল সোয়া ৫টার দিকে তিনি নিউইয়র্কের ওজন পার্কের নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৮০ বছর।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তান, নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গিয়েছেন।

আব্দুল জলিল সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব দেবারাই গ্রামের সন্তান। তিনি একসময় একজন পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন। বাংলাদেশ পাকিস্তান এবং ভারতের বিভিন্ন ক্লাবে ফুটবল খেলে সুনাম অর্জন করেন।

পরে তিনি সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে বসোবাস শুরু করেন। সমাজ সেবার পাশাপাশি তিনি সক্রিয় ছিলেন রাজনীতিতেও। তিনি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর অন‍্যতম সদস‍্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা এতই সক্রিয় ছিল যে, এলাকার অধিকাংশ লোক তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবেই জানেন। তবে তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।তাছাড়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকায়ও তাঁর নাম পাওয়া যায়নি।

তবে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা এবং সচেতন মহল আব্দুল জলিলকে মুক্তিযুদ্ধের একজন তুখোড় সংগঠক হিসাবে উল্লেখ করেছেন। তাকে রাজাকারদের সহায়তায় ধাওয়া করে ধানক্ষেত থেকে ধরে নিয়েছিল পাক-হায়েনারা। তখন তিনি উর্দু ভাষায় দক্ষতা দেখিয়ে অত্যন্ত কৌশলে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন বলে এলাকায় ব্যাপক জনশ্রুতি রয়েছে।

তাঁর মৃত্যুতে কেবল নিউই্য়র্কই নয়, জন্মভূমি দেবারাই এবং আছিরগঞ্জ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

উল্লেখ্য, আব্দুল জলিল যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সমাজসেবক, শিক্ষা ও ক্রীড়ানুরাগী শাহীন জলিলের পিতা।

শোক প্রকাশ

এদিকে আব্দুল জলিলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন আছিরগঞ্জ গণপাঠাগার নেতৃবৃন্দ।

এক শোক বার্তায় পাঠাগারের সভাপতি আতাউর রহমান আফতাব ও সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ মরহুমের অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

তারা তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে পরিবারের শোকসন্তপ্ত সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ