রাখাইনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে থমকে আছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৩:২১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

রাখাইনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে থমকে আছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, মার্চ ৩০, ২০২৬ ৫:২৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, মার্চ ৩০, ২০২৬ ৫:২৪ অপরাহ্ণ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি
ছবি প্রতিনিধি
মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও সশস্ত্র সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা ও আইনি লড়াই জোরদার করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে পাঠানো রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া মায়ানমার সরকারের সঙ্গে চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত ছয় ধাপে ৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জন রোহিঙ্গার তথ্য যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫১ জনের তথ্য যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। যাচাইকৃতদের মধ্যে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৬৪ জনকে মায়ানমার তাদের ‘সাবেক বাসিন্দা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।’

তিনি জানান, মায়ানমারের বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি। দেশটির সামরিক বাহিনী ও বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, অতীতেও বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সফলতা দেখিয়েছে। ১৯৭৮ সালে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গাকে মায়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়। পরে ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আরও প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি। ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা ইস্যুতে উচ্চপর্যায়ের একটি ইভেন্ট আয়োজন করা হয়। সেখানে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনকে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হিসেবে তুলে ধরা হয়।

এছাড়া রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান ‘গাম্বিয়া বনাম মায়ানমার’ মামলাটিও বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। সরকারের অবস্থান স্পষ্ট নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ