রাজশাহীতে দুটি আসনে অভ্যন্তরীণ চাপে বিএনপি - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:৪৩, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

রাজশাহীতে দুটি আসনে অভ্যন্তরীণ চাপে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১, ২০২৬ ৫:৪৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১, ২০২৬ ৫:৪৯ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহীতে অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুটি আসনে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া একাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনি মাঠে নামায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে বিএনপির ভোটব্যাংক বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন দলটির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ছয়টি আসনের বিপরীতে মোট ৩৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে দুটি আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন, যাদের সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন মেজর (অব.) শরীফ উদ্দিন। তবে দলীয় টিকিট না পেয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট সুলতানুল ইসলাম তারেক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এতে ওই আসনে বিএনপির ভোটব্যাংকে সরাসরি অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতিকরা।

অন্যদিকে রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে দলীয় কোন্দল আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডলের বিপরীতে তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন। তারা হলেন প্রয়াত বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপি নাদিম মোস্তফার ছেলে জুলকার নাঈম মোস্তফা, পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ইশফা খায়রুল হক শিমুল এবং সাবেক ছাত্রনেতা রেজাউল করিম। তিনজনই দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তারা মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, এসব ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর কারণে ভোট বিভক্ত হয়ে গেলে নির্বাচনি সমীকরণ জটিল হয়ে উঠতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ের সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে তারা আশা প্রকাশ করছেন, দলীয় হাইকমান্ড দ্রুত হস্তক্ষেপ করে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাবেন এবং দলীয় ঐক্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবেন।

মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজশাহী-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সুলতানুল ইসলাম তারেক বলেন, ‘দলের মনোনয়ন দেওয়ার পদ্ধতি ছিল স্বৈরাচারী। তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে একজন অজনপ্রিয় ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এই অনিয়ম ও স্বচ্ছতার অভাবের প্রতিবাদ জানাতেই আমি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।’

নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার জানিয়ে রাজশাহী-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্য নিয়েই নির্বাচনে নেমেছি। আমি দলের বাইরে নই; একজন কর্মী হিসেবেই জনগণের কাছে যাওয়ার এই প্ল্যাটফর্মকে বেছে নিয়েছি।’

এ বিষয়ে দলের অবস্থান জানতে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার মন্তব্য জানা যায়নি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ