রেশমের হারানো গৌরব ফেরাতে কাজ করছে সরকার: পাট প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, এপ্রিল ১১, ২০২৬ ৪:৪৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, এপ্রিল ১১, ২০২৬ ৪:৪৩ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
রাজশাহী সিল্ক (রেশম) শুধু একটি অঞ্চলের নয়, এটি সারা বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক। তাই এই শিল্পের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকার ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজশাহী রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
রেশম শিল্পের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পর্যালোচনা এবং উন্নয়নের একটি কার্যকর রূপরেখা প্রণয়নের লক্ষ্যেই এ সফর বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘রাজশাহী সিল্ক দেশের ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে শিল্পটি দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা এবং প্রশিক্ষণকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
রেশম শিল্পের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, ‘১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজশাহী রেশম বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় শিল্পটির আধুনিকীকরণ ও গবেষণাভিত্তিক উন্নয়নের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’
দেশে রেশমের চাহিদা ও উৎপাদনের বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ মেট্রিক টন রেশমের চাহিদা রয়েছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানি করতে হয়। স্থানীয় কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া বা পিছিয়ে পড়ার কারণেই মূলত এই পরনির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে। এই সংকট কাটাতে সরকার পলু চাষ সম্প্রসারণ, তুঁত গাছের উন্নয়ন এবং রেশম সুতার মান বৃদ্ধিতে গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টের মাধ্যমে শিল্পটিকে গতিশীল করার পরিকল্পনাও রয়েছে।’
রেশম শিল্পের অন্যতম প্রাণশক্তি ঐতিহ্যবাহী কারিগর ‘বোসনি’দের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ জন বোসনি থাকলেও বয়সজনিত কারণে এ সংখ্যা ক্রমেই কমছে। নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই দক্ষতা ধরে রাখতে না পারলে শিল্পটির অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে। তাই ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে গবেষণা, প্রশিক্ষণ, বিনিয়োগ এবং দক্ষ জনবল সবকিছুর সমন্বিত উন্নয়ন প্রয়োজন। সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে রাজশাহী সিল্কের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে চীন ও জাপানের মতো দেশে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ চলছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে সমন্বয় করে শিগগিরই একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে, পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদ একটি উপস্থাপনার মাধ্যমে বোর্ডের সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরেন। পরে বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জনতার আওয়াজ/আ আ