শরীয়তপুরে সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৪ ৩:৫৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৪ ৩:৫৬ অপরাহ্ণ

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুরে বিভিণœস্থানে সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে কিছু প্রভাবশালীরা এসব স্থাপনা নির্মাণ করে সরকারি জায়গা তাদের দখলে নিচ্ছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
শনিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, শরীয়তপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের মূল ফটকের ১শ’ ফুট উত্তরে ব্রীজ সংলগ্ন সরকারি খাল দখল করে পাকাভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। খালে নির্মাণাধীন ভবনের দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম পাশেই সরকারি পাকা রাস্তা রয়েছে। নির্মাণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, স্থানীয় বাবু নামের জনৈক ব্যক্তি এ পাকাভবন নির্মাণ করছেন। তবে তার কাগজপত্র আছে বলে তারা জানান। এ বিষয়ে জানার জন্য বার বার ঘটনাস্থলে গিয়েও বাবুর দেখা পাওয়া যায়নি। আর নির্মাণ শ্রমিকরা বাবুর ঠিকানা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাফিস এলাহী বলেন, তাকে কাগজপত্র নিয়ে অফিসে আসতে বলেছি। তারপর মাপা হবে। সে এখনো কাগজপত্র নিয়ে আসেনি।
এদিকে জেলা শহরের রাজগঞ্জ ব্রীজের ২শ’ গজ পশ্চিমে খাল দখল করে পাকাভবন নির্মাণ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী আব্দুল মান্নান ছৈয়াল। তিনি দাবি করছেন, তার ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে তিনি স্থাপনা নির্মাণ করছেন। এ বিষয়ে কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের কোন কাগজপত্র দেখাবেন না বলে জানান।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার সাজনপুরের জাজিয়াহারে সরকারি পাকা রাস্তা দখল করে ‘ফ্রেন্ডস্ টি এন্ড ফুডপার্ক’ নামে একটি ফাস্টফুডের দোকান দিয়ে বসেছেন স্থানীয় কয়েক যুবক। ভেদরগঞ্জ উপজেলার পুটিজুড়ি এলাকার সাব্বির, আকাশ, শাওন, শার্মি ও নাজমুল নামের ৫ যুবক বিশাল এলাকা জুড়ে পরিচালনা করছেন দোকানটি। তাদের দাবি, ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়ে যুব সমাজের উদ্যোগে তারা এখানে দোকান দিয়েছেন।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের পশ্চিম পাশে মহাসড়কের পাশে রাস্তা জুড়ে কতিপয় প্রভাবশালী নানা রকমের দোকান তুলছে। ইতোমধ্যে ভাতের হোটেল, ফুলের দোকান সহ বেশ কটি দোকান তুলছে। এতে করে যানবাহন চলাচলের মারাতœক সমস্যা হবে। নিত্য নুতন দূর্ঘটনা ঘটবে।শুরুতেই বন্ধ করা জরুরী।
এ বিষয়ে জানতে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদে দায়িত্বে থাকা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাইনউদ্দিনের মুঠোফোনে বার বার ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
শরীয়তপুর সুশীল সমাজ প্রতিনিধিরা মনে করেন, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরকারি জায়গা দখল দারিত্বের বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করার কারনেই দিন দিন বেদখল হয়ে যাচ্ছে সরকারি সম্পত্তি।
জনতার আওয়াজ/আ আ